kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

টি-টোয়েন্টিতেও সেই পুরনো ভুল

নিউজিল্যান্ড : ২০ ওভারে ২১০/৩, বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৪৪/৮, ফল : নিউজিল্যান্ড ৬৬ রানে জয়ী

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

২৯ মার্চ, ২০২১ ০২:৩৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টি-টোয়েন্টিতেও সেই পুরনো ভুল

বক্তার নামটিই শুধু বদলেছে, বক্তব্য বদলায়নি এক চুলও। ওয়ানডে সিরিজের একটি করে ম্যাচ গিয়েছে আর অধিনায়ক তামিম ইকবাল এসে যা শুনিয়ে গেছেন, টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতে এখন সেসবই শোনা যাচ্ছে মাহমুদ উল্লাহর মুখেও। এই ফরম্যাটের বাংলাদেশ অধিনায়ক হ্যামিল্টনে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৬৬ রানের বিশাল হারের পর নতুন করে কিছু বলার সুযোগও পেলেন না, ‘একই ভুল আমরা বারবার করে চলেছি।’

ওয়ানডে সিরিজ থেকে শুরু হয়ে ভুলের পুনরাবৃত্তি অব্যাহত কুড়ি-বিশের ক্রিকেটেও। অবশ্য আগের দিনও মাহমুদ জেতার জন্য তাঁর দলের ক্ষুধার তীব্রতার কথাই বলেছিলেন। কিন্তু সেডন পার্কে ভুলে ভুলে উল্টো যা হলো, তাতে ক্ষুধা নিবারণ হলো শুধু নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান-বোলারদেরই! সদ্যঃসমাপ্ত ওয়ানডে সিরিজেই অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ে একটি করে সেঞ্চুরি আর ফিফটিতে সিরিজসেরা হওয়ার পর এবার টি-টোয়েন্টিতেও তুললেন ঝড়। ৫২ বলে ৯২ রানের হার না মানা ইনিংসে ম্যাচসেরা হওয়া এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ব্যাট হাতে ঝোড়ো হাওয়া বইয়ে দিলেন অভিষিক্ত উইল ইয়াংও (৩০ বলে ৫৩)। ১০ বলে ২৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে কিউইদের ২১০ রানের বিশাল পুঁজিতে শেষ ছোঁয়াটা দিলেন গ্লেন ফিলিপস। এত রান তাড়ায় সফরকারীদের ইনিংসে জোড়ায় জোড়ায় আঘাত হানলেন লেগস্পিনার ইশ সোধি। তাতে কোনোমতে ১৪৪ রান পর্যন্ত যাওয়া বাংলাদেশ এই সফরে ঘুরে দাঁড়ানোর সামান্য সুযোগ তৈরি করতেও ব্যর্থ। ২১১ রানের লক্ষ্যে অষ্টম ওভারেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর অসহায় আত্মসমর্পণের নিয়তি লেখা হতে বাধ্য। হয়েছেও সেটিই। তবে সেখান থেকে ৩৩ বলে ৫ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় আফিফ হোসেনের ৪৫ রানের ইনিংসে অবশ্য বড় লজ্জা এড়ানো গেছে। তবে ৫ রানে মার্টিন গাপটিলের সৌজন্যে এই তরুণ ব্যাটসম্যান জীবন ফিরে না পেলে তাও যেত না। দিনের শেষে আফিফও সেডন পার্কের ছোট্ট মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে না পারার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন নিজেদেরই, ‘উইকেট ভালোই ছিল। সোজাসুজি বাউন্ডারি একটু ছোট ছিল। ওদের ব্যাটসম্যানরা মাঠের এই সুবিধাটা বেশ ভালোভাবে নিতে পেরেছে।’

লক্ষ্য অনেক বড় হলেও তা তাড়া করা সম্ভব ছিল বলে মনে হয়েছিল আফিফের। সেটি অসম্ভব হয়ে পড়ার পেছনে নিজেদের দায়ই বেশি দেখলেন তিনি, ‘মাঠ যেহেতু ছোট ছিল, এ ধরনের স্কোর অবশ্যই তাড়া করা সম্ভব ছিল বলে আমার মনে হয়। পর পর আমাদের উইকেটগুলো না পড়লে হয়তো এই রান আমরা তাড়া করতে পারতাম।’ শুরুতেই উইকেট দিয়ে ফিরে যান লিটন কুমার দাস (৪)। দারুণ ব্যাটিং করতে থাকা নাঈম শেখকে থামান লকি ফার্গুসন। তাঁর বলে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে ৫ বাউন্ডারিতে ১৮ বলে ২৭ রান করে যান তরুণ ওপেনার। এরপর পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে ইশ সোধি আক্রমণে এসেই সফরকারীদের জন্য ম্যাচ একরকম শেষ করে দেন। সৌম্য সরকার (৫) তাঁকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার এক বল পরই বাজে শটে বোল্ড হয়ে যান মোহাম্মদ মিঠুন (৪)। সেখানেই শেষ নয়, সোধি তাঁর পরের ওভারেই আবার জোড়া আঘাত হানেন। এবার টানা দুই বলে তাঁর শিকার মাহমুদ ও মেহেদী হাসান। প্রথমজন কাট করতে গিয়ে বোল্ড। পরেরজন ডিফেন্স করতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে নেন। ৫৯ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে (৩৪ বলে ৩৪*) নিয়ে আফিফের ৬৩ রানের পার্টনারশিপ হারের ব্যবধান আরো অনেক বড় না হওয়ার স্বস্তিই শুধু দিতে পেরেছে।

এর আগে দুই অভিষিক্ত নাসুম আহমেদ ও শরীফুল ইসলামকে দিয়ে বোলিং শুরু করায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ফিন অ্যালেনকে বোল্ড করে দারুণ শুরু এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। নিজের শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুরন্ত গতিতে ছুটতে থাকা গাপটিলকেও (২৭ বলে ৩৫) থামান নাসুম। ততক্ষণে অবশ্য পাওয়ার প্লেতে ৪৮ রান তোলা হয়ে গেছে কিউইদের। গাপটিলের বিদায়ের পর কনওয়ের সঙ্গে যোগ দিয়েই শট খেলতে থাকেন ইয়াংও। তাতে ক্রমেই ছন্দ হারাতে থাকেন বাংলাদেশের বোলাররাও। ওভারপ্রতি আটের কম রান দেওয়া নাসুমকে বাদ দিলে বাকি সবার অবস্থাই শোচনীয়। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল বাঁহাতি পেসার শরীফুলের। বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি অভিষেকেই ৫০ রান খরচ করা প্রথম বোলার তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল কনওয়ের ক্যাচ নেওয়ার সময় অসাবধানতায় বাউন্ডারি দড়িতে পা ছুঁইয়ে দেওয়ার ভুলও। তাই আউট না হয়ে ছক্কা পান কনওয়ে। ফিল্ডিংয়ে ছিল আরো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতিও। পরে যোগ হয় ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা। ওয়ানডে সিরিজ থেকে একই জিনিস হয়ে আসতে থাকায় মাহমুদের বক্তব্যও বদলাবে না স্বাভাবিক, ‘ফিল্ডিংয়ে কিছু বাড়তি বাউন্ডারি হয়েছে আমাদের। লক্ষ্য ১৯০ রানের আশপাশে হলে সেটি তাড়া করা যেত। কিন্তু একসঙ্গে বেশি উইকেট হারানোর পর আর ম্যাচ জেতা যায় না।’



সাতদিনের সেরা