kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নেপালের টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অঙ্ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০২১ ০৩:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেপালের টুর্নামেন্টে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অঙ্ক

বাংলাদেশ নেপালে খেলবে তিন জাতির টুর্নামেন্ট, কিন্তু অলক্ষ্যে আছে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। কোচ থেকে শুরু করে সবার মুখে সেই লক্ষ্যের কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে।

তিন জাতির টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে গতকাল প্রথম অনুশীলনে নেমেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম সেশন শেষে দলের এক নম্বর গোলরক্ষক আনিসুর রহমানের চোখে নেপালের এই টুর্নামেন্ট খুব কঠিন, ‘নেপালকে তাদের মাঠে হারানো অনেক কঠিন। কিরগিজস্তানও ভালো দল। তাই এই সফরটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে আমরা সবাই যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে অবশ্যই ভালো কিছু হবে।’ সবার সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার পর টুর্নামেন্টে ইতিবাচক কিছু হতে পারে। জাতীয় দলের জার্সিতে আনিসুর রহমান মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছেন। নেপালেও পছন্দের তালিকায় প্রথম হওয়ার কথা। কারণ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ রাসেলের আশরাফুল রানা ও আবাহনীর শহীদুল আলমের চেয়ে ঘরোয়া ফুটবলে পারফরম্যান্স ভালো বসুন্ধরা কিংসের এই গোলরক্ষকের। তাঁর কথা হলো, ‘নেপালে দুটোই আমাদের জন্য বিগ ম্যাচ, সেটির চাপ নিয়ে সেরা খেলা খেলতে পারলে অবশ্যই আমরা ফাইনালে পৌঁছাব।’

২৪ জনের দলে অনেক সিনিয়র বাদ পড়েছেন, নতুন ঢুকেছেন পাঁচ ফুটবলার। তবে সিনিয়রদের মধ্যে ইনজুরি সারিয়ে পারফরম করে দলে ফিরেছেন মাশুক মিয়া জনি। ১৮ মাস পর জাতীয় দলের ক্যাম্পে হাজির হয়ে তাঁর দারুণ অনুভূতি, ‘প্রায় ১৯ মাস পর দলে ফিরলাম, অনুশীলন করেছি, আবার সেই পরিচিতজনদের সঙ্গেই খেলছি। সব মিলিয়ে আমার খুব ভালো লেগেছে।’ নতুনদের স্বাগত জানিয়ে কিংসের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘নতুন যারা ডাক পেয়েছে, তারা লিগে ভালো করেই দলে জায়গা পেয়েছে। ওদের সঙ্গে আমি লিগে খেলেছি, সেটা পক্ষে নয়তো বিপক্ষে। এখন জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলব। তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিকঠাক হবে, নেপালের টুর্নামেন্টে এটা কোনো সমস্যা হবে না আশা করি।’ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেকটা ওপরে নেপালের আবহাওয়ায় নতুনদের কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করেন মাশুক মিয়া। ফুটবলাররা আগে গিয়ে চার-পাঁচ দিনের অনুশীলনে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগও পাবেন। তবে এই মিডফিল্ডারের লক্ষ্য বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব, ‘আমাদের লক্ষ্য নেপালে ভালো পারফরম করা। এটা প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ হয়ে যাবে, কারণ সামনে আমাদের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ আছে।’

বাংলাদেশ দলের কোচ জেমি ডের কাছেও এই টুর্নামেন্ট বিশেষ কিছু নয়, নতুনদের পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে আছেন, ‘নেপালের ফল নিয়ে আমি একদম চিন্তা করছি না। নতুনদের সুযোগ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।’ ঘরোয়া ফুটবল দেখে যাঁদের বাছাই করেছেন, তাঁদের নিয়ে গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছেন, ‘নতুন ও তরুণ খেলোয়াড়দের দেখে এবং তাদের সঙ্গে কাজ করে ভালো লেগেছে। টেকনিক্যালিও ওরা আজ ভালো করেছে। খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। আশা করি, ওরা বাকিদের সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে নেবে। হাতে এখনো সাত দিন সময় আছে, এই সময়ের মধ্যে তাদের নিয়ে আমরা আরো কাজ করব।’ আসলে তিনি বাংলাদেশ দলের ধরনের সঙ্গে নতুনদের পরিচিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। কার দায়িত্ব কী হবে, কিভাবে আক্রমণ প্রতিরোধ করবেন এবং এরপর প্রতি-আক্রমণে উঠবেন, সেটার চর্চা হবে ট্রেনিংয়ে। এরপর এই টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স দেখে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের অঙ্ক কষবেন, ‘ট্রেনিং ও খেলায় ওদের আরো ভালোভাবে দেখার সুযোগ মিলবে। যদি তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আসতে পারে খুব ভালো, জুনে বাছাই পর্বের জন্য বিবেচনায় থাকবে। তা না হলেও সমস্যা নেই।’



সাতদিনের সেরা