kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

শুভ জন্মদিন

দেশের হয়ে প্রথম ফিফটিটা তাঁর

অনলাইন ডেস্ক   

১৫ মার্চ, ২০২১ ১১:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের হয়ে প্রথম ফিফটিটা তাঁর

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করতে চায় তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ফিফটির কীর্তিমান আজহার হোসেন শান্টুর গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

‘আমাদের সময়ে কোনো ওপেনার চোট পেলে নামিয়ে দেওয়া হতো নিচের দিকের বাজে ব্যাটসম্যানদের। টিকলে টিকবে, না টিকলে নাই!  সূর্যতরুণে খেলার সময় একজনের ইনজুরিতে জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয় আমাকে। ম্যাচে পেস বোলারদের খেলার ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে ওপেন করতে যাই’—নিজের ওপেনার হওয়ার গল্প এভাবেই বলছিলেন আজহার হোসেন শান্টু।

অফস্পিনার থেকে ওপেনার হয়ে যাওয়া আজহার হোসেনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে করেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম হাফসেঞ্চুরি। সেটা ১৯৯০ সালে শারজায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এখন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি আর টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিও আছে অনেকের। অস্ট্রেলেশিয়া কাপে ১২৬ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৫৪ রানের ইনিংসে সেই পথটা দেখিয়েছিলেন তিনিই। আজ ৫৭তম জন্মদিনে নিজের স্মৃতিচারণা করলেন সেই কীর্তির, ‘ফিফটির পর নিউজিল্যান্ড কিংবদন্তি মার্টিন ক্রো পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন আমার। তামিম, সাকিবদের হয়তো অনেক বড় রানের ইনিংস আছে, কিন্তু দেশের হয়ে প্রথম ফিফটির গর্ব কেউ কেড়ে নিতে পরবে না আমার কাছ থেকে।’

মারকুটে ওপেনার ছিলেন না আজহার হোসেন। সে উপায়ও যে ছিল না, ‘‘জাতীয় দলের অধিনায়ক গাজী আশরাফ বা মোহামেডানের (মিনহাজুল আবেদীন) নান্নু আর রকিবুল ভাইও বলতেন, ‘তুই কিন্তু আউট হবি না। উইকেটে ১০ ওভার টিকে থাকলেই হবে!’ একইভাবে উইকেট নেওয়ার বদলে রান কম দেওয়ার জন্য টাইট বোলিংয়ের নির্দেশও থাকত।”

আজহার হোসেনের মতো ইতিহাসের সাক্ষী তাঁর ভাতিজা মেহরাব হোসেন অপিও। বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে প্রথম সেঞ্চুরিটা মেহরাবের। চাচার সঙ্গেই ক্রিকেট মাঠে যাওয়া মেহরাবের। সূর্যতরুণের পর মোহামেডানের জার্সিতে এক যুগের বেশি সময়ের অধ্যায় শেষে ভিক্টোরিয়ায় যোগ দেন আজহার হোসেন। সেখানে ইনিংস ওপেনও করেছেন ভাতিজার সঙ্গে। ভাতিজার মতো জাতীয় দল কিংবা লিগে কোনো সেঞ্চুরি নেই চাচার। তবে তাঁর হতাশা বাড়ায় মোহামেডানের হয়ে দুই দিনের ম্যাচে সেঞ্চুরির পরও ডাক্তার মিলনের হত্যাকাণ্ডে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায়!

৭ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে রান ৯৬ আর উইকেট ৪টি। ১৯৮৮ সালের এশিয়া কাপে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তিন ম্যাচে পেয়েছিলেন একটি করে উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেলিম মালিকের উইকেটটি ছিল ‘দুসরা’য়। বলটির আবিষ্কারক হিসেবে সাকলাইন মুশতাকের নাম মানতে চান না আজহার হোসেন, “অফস্পিনারের বল টার্ন না করে সোজা যাচ্ছে, কোনোটা ভেতরে ঢুকছে—ওটা সৈয়দ আশরাফুল হক ভাই আর আমিও পারতাম। নান্নু জানত এটা। কখনো-সখনো এসে বলত, ‘ওই বলটা কর।’ করতাম।”

আজহারের বড় ছেলে আরহাম সাদিদ হোসেন নর্থ সাউথে, মেজো ছেলে আবরার রাহিদ হোসেন স্কলাস্টিকায়, আর ছোট ছেলে আররাফ লাবিদ হোসেন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে এক্সেল একাডেমিতে। সেখানে শিক্ষকতা করেন তাঁর স্ত্রী ফৌজিয়া জাহান। জন্মদিনটা প্রিয় এই মানুষগুলোর সঙ্গেই কাটাতে চান তিনি, ‘আমি কখনো খুব বড় আয়োজন করে জন্মদিন পালন করিনি। এবার সেটা বিশেষ দিন করে ফেলল কালের কণ্ঠ।’ ক্রিকেট ছাড়ার পর গার্মেন্ট ব্যবসা শুরু করেন আজহার হোসেন। করোনায় ক্ষতি হয়েছে অনেক। সেই ধাক্কা কাটানোই এখন তাঁর লক্ষ্য।



সাতদিনের সেরা