kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

অদলবদলেও আক্ষেপ নেই জেমির

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

১০ মার্চ, ২০২১ ০৩:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অদলবদলেও আক্ষেপ নেই জেমির

আগের দলের ৯ জনকে বাদ দিয়ে ২৪ জনের নতুন বাংলাদেশ দল যাবে নেপালে। লক্ষ্য অনেক বড়। দলে অদলবদল কিংবা ফলাফল জেমি ডে’র কাছে মুখ্য নয়। ম্যাচের ফল নেতিবাচক হলেও বিচলিত হবেন না জাতীয় দলের কোচ; যদি বড় লক্ষ্যের পথে অন্তত এক ধাপ এগোতে পারেন তাঁর শিষ্যরা। 

বাংলাদেশ, কিরগিজস্তান অলিম্পিক দল ও স্বাগতিক নেপালকে নিয়ে ২৩ মার্চ শুরু হবে তিন জাতির ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে গতকাল বাফুফে যে দল ঘোষণা করেছে তাতে নেই সর্বশেষ কাতারগামী ২৩ সদস্যের ৯ জন। লিগে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে জেমি ডে অনেক অদলবদল করে একটি দল দাঁড় করিয়েছেন। ইনজুরি ও পারফরম্যান্সের কারণে বাদ পড়া ৯ জন হলেন পাপ্পু হোসেন, তপু বর্মন, ইয়াসিন খান, রবিউল হাসান, আতিকুর রহমান, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, তৌহিদুল আলম, নাবিব নেওয়াজ ও ম্যাথুস বাবলু। তাঁদের জায়গায় ফিরেছেন পুরনো পাঁচ ফুটবলার—আবাহনীর গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেল ও ডিফেন্ডার টুটুল হোসেন বাদশা, বসুন্ধরা কিংসের ইনজুরি ফেরতা মিডফিল্ডার মাশুক মিয়া ও ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া এবং শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্রের উইঙ্গার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এ ছাড়া একেবারে নতুন যোগ হয়েছেন পাঁচজন—বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার রিমন হোসেন, মুক্তিযোদ্ধার দুই মেহেদী হাসান ও ইমন এবং মোহামেডানের হাবিবুর রহমান সোহাগ।

গাণিতিক সংখ্যায় অদলবদল বড় দেখালেও শক্তির তারতম্য তেমন হয়নি। চোটগ্রস্ত স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজের অনুপস্থিতিতেও কোচের তেমন আক্ষেপ নেই। বরং জেমি ডে উত্তর বারিধারার ৬ গোল করা স্ট্রাইকার সুমন রেজাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী, ‘ও খুব ভালো খেলেছে। কখনো চাপ অনুভব করেনি এবং প্রথম লেগ শেষে সুমন বাংলাদেশের এক নম্বর ফরোয়ার্ড। ওর ধারাবাহিকতা, গোল ও পরিশ্রমই ওকে আলাদা করেছে। শুধু সুমন নয়, এই দলে কয়েকজন ফুটবলার আছে, যারা জীবনের (নাবিব নেওয়াজ) অভাব পূরণ করতে পারে।’ 

জামাল ভুঁইয়াও এ মুহূর্তে দেশে নেই, ভারতে আই লিগ খেলছে কলকাতা মোহামেডানের হয়ে। এই মিডফিল্ডারের জন্য অপেক্ষা করবেন কোচ, তবে তাঁকে না পেলেও খুব দুশ্চিন্তার কিছু দেখেন না, ‘যত দূর জানি আগামী ২১ মার্চ তার ক্লাবের একটি ম্যাচ আছে, সে দিক থেকে তাকে পাওয়া কঠিন হতে পারে। সে নেপালে পৌঁছালে ভালো, না এলেও কোনো সমস্যা নেই। আমার হাতে সাতজন তরুণ ফুটবলার আছে, তাদের কাউকে সুযোগ দেব।’ এই দলের সঙ্গে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে আছেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সাত ফুটবলার। ২৪ জনের বেশি নেওয়ার সুযোগ থাকলে কোচ এই সাতজনকেও সঙ্গী করতে চান নেপালে।

এত দিন এখানে কাটিয়ে কোচও ভালোভাবে বুঝে গেছেন বাংলাদেশের ফুটবল ও ফুটবলারদের। ২০১৯ এসএ গেমস ফুটবলে শক্তিশালী দল নিয়ে গিয়েও বাংলাদেশ হয়েছে তৃতীয়। আসলে শক্তিশালী দল বলে কিছু নেই এ দেশে। ফুটবলারদের সামগ্রিক মানের ব্যবধান উনিশ-বিশ। যেমন—দীর্ঘদিন ধরে রবিউল হাসানকে দলের সঙ্গে বয়ে বেড়ানোয় কোনো লাভ হয়নি। লাওসের বিপক্ষে ২০১৯ জুনের ওই একটি গোলের পর তাঁর পায়ে ফুটবল আর জাগেনি। লাল-সবুজ জার্সিতে নাবিব নেওয়াজই বা কী এমন আলো ছড়িয়েছেন! আসলে অমুককে বাদ দিয়ে তমুককে নিলেই যে বিপ্লব ঘটতে পারে, সে রকম মনে করেন না জেমি ডে। দেশের ফুটবলে ম্যাচের মোড় ঘোরানোর মতো কোনো তারকা নেই, সবাই গড়পড়তা মানের। তাই যোগ-বিয়োগে কী এমন ক্ষতি বৃদ্ধি হবে।

এ কারণেই কিনা কারো জন্য কোচের কণ্ঠে হতাশা ঝরেনি। ঘরোয়া ফুটবলে পারফরম্যান্স দেখে ২৪ ফুটবলার বাছাই করে জাতীয় দলের এই ইংলিশ কোচ বলছেন, ‘যাদেরকে বাছাই করা হয়েছে তারা ভালো। সব ম্যাচ জিততে চাই তবে হার নিয়ে দুশ্চিন্তা করি না। ১০ জন নতুন ফুটবলার যোগ করা হয়েছে, তারা ভালো করলে আগামী জুনের জন্য দল তৈরি হয়ে যাবে। তারা খারাপ করলে আগে যারা জাতীয় দলে খেলেছে তারা তো আছেই। এই টুর্নামেন্ট আমাদের ভালো সুযোগ করে দিয়েছে জুনে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের দল তৈরির জন্য।’ আগামী জুনে কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে হবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের বাকি তিন ম্যাচ। সেটিরই একটি ড্রেস রিহার্সাল হবে নেপালে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা