kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৯ বৈশাখ ১৪২৮। ২২ এপ্রিল ২০২১। ৯ রমজান ১৪৪২

দর্শকদের এতদিন 'বঞ্চিত করেছেন' শচীন-শেবাগ

অনলাইন ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০২১ ১৯:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দর্শকদের এতদিন 'বঞ্চিত করেছেন' শচীন-শেবাগ

বহুদিন পর বাইশ গজে ফ্রেমবন্দি শচীন-শেবাগ। ছবি : টুইটার

আজ থেকে ১০ বছর আগে ফিরে যাওয়া যাক। কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের জার্সিতে ব্যাট ঘোরাতে ঘোরাতে নামছেন শচীন টেন্ডুলকার আর বীরেন্দ্র শেবাগ। স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে ভেসে আসছে দর্শকদের কানফাটা গর্জন; 'শচীন' 'শেবাগ' রব। এরপর ২২ গজে দেখা যেত মাস্টার ব্লাস্টারের নান্দনিকতা আর বীরেন্দ্র শেবাগের ভয়ডরহীন ধুমধারাক্কা ব্যাটিং। শচীনের বয়স এখন ৪৭, আর শেবাগের ৪২। 

এই বয়সে বিখ্যাত ওপেনিং জুটিকে আবারও দেখা গেল ভারতের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে। ভারতের রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট হাতে নামলেন শচীন-শেবাগ। তাদের ধুন্ধুমার ব্যাটিং আর অবিচ্ছিন্ন ১১০ রানের জুটিতে ১০ উইকেটে জিতে যায় ভারত! তাদের ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি দুজনেই ২০১৩ সালে শেষবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন। 

ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলারদের ওপর চড়াও হন শেবাগ। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যেখানে শেষ করেছিলেন, ঠিক সেখান থেকেই যেন এই ইনিংস শুরু করেন এই ভয়ংকর ওপেনার। ৩৫ বলে অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংসে ছিল ১০টি বাউন্ডারি আর ৫টি ওভার বাউন্ডারি। তার বিখ্যাত 'আপার কাট' মেরে ফিফটি পূরণ করেন। পুরোটা সময় শেবাগের ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি যে তিনি অনেক আগেই খেলা ছেড়েছেন! 

অন্যপ্রান্তে নান্দনিকতার প্রদর্শনী দেখিয়ে গেছেন মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। শুরুতে তিনি শেবাগের তাণ্ডবের দর্শক হয়েই ছিলেন। এরপর দেখা যায় শচীনের সেই বিখ্যাত কাভার ড্রাইভ। ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে থাকা নান্দনিক এই শটও ছিল আগের মতোই নিখুঁত। তাদের দুজনের কথাবার্তা, ব্যাট ঠোকাঠুকি সবকিছুই যেন দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অতীতে। ম্যাচের পর যুবরাজ সিং তাই শেবাগকে নিয়ে বলেছেন, 'বয়স যতই হোক, বাঘ কিন্তু বাঘই থাকে'। 

অনেক বছর পর চোখের সামনে শচীন-শেবাগের এই চোখধাঁধানো ব্যাটিং দেখে দর্শকরা ভাসেন নস্টালজিয়ায়। অনেকেই সোশ্যাল সাইটে লিখেছেন, শচীন-শেবাগ ক্রিকেট ছেড়ে আসলে দর্শকদের বঞ্চিত করেছেন। অবসরের এত বছর পরেও তাদের সাবলীল ব্যাটিং দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ স্টেডিয়ামে উপস্থিত কয়েক হাজার দর্শক তো চাক্ষুষ করেছেন এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। আর টিভির কল্যাণে দেখেছেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। দিনশেষে একটা কথাই ভেসে আসছে- 'ফর্ম ইজ টেম্পরারি, বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট'। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা