kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ চৈত্র ১৪২৭। ১৩ এপ্রিল ২০২১। ২৯ শাবান ১৪৪২

ভিএআর আগামী মৌসুমে

সনৎ বাবলা   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিএআর আগামী মৌসুমে

দেশের ফুটবলে অনেক বড় বড় সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে হঠাৎ সামনে চলে এসেছে রেফারিং! রেফারির কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নানামুখী শোরগোল তুলে শেষমেশ ফিফা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েও থামেনি। আলোচনায় নিয়ে এসেছে ভিএআর প্রযুক্তিকে। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিতেই মাঠের ফুটবলে শুদ্ধতা ও ‘শান্তি’ দেখছেন বাফুফে সভাপতি। কিন্তু রেফারিং বিতর্ক চাপা দেওয়ার শান্তি যে শিগগির আসছে না। অন্তত আগামী মৌসুমের আগে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো সুযোগই নেই।

অথচ কাজী সালাউদ্দিন এ দেশে ভিএআর প্রচলন করে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম হতে চান। এই শিরোপার জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এরই মধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছে ফিফা-এএফসিতে। যেখানে টিভিতে খেলা সম্প্রচার হয় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে, সেখানে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির বাস্তবতা একটু কঠিন। তিন মাঠে খেলা থাকলে সম্প্রচার করার সুযোগ থাকে মাত্র এক মাঠের খেলা। টি স্পোর্টস দেশে প্রথমবারের মতো মানসম্পন্ন প্রডাকশনের ব্যবস্থা করেছে। তারা খেলা দেখাতে পাঁচ-ছয়টি ক্যামেরা ব্যবহার করে। কিন্তু এক মাঠে ভিএআর প্রযুক্তি বসাতে গেলে ১৬টি ক্যামেরা ব্যবহার করতে হবে। এর মধ্যে আছে সুপার স্লো-মোশন ক্যামেরা এবং আল্ট্রা স্লো-মোশন ক্যামেরা। এগুলো পরিচালনা করতে অর্থাৎ ফুটবলের এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন দক্ষ লোকজন এবং প্রশিক্ষিত রেফারি। পুরো প্রযুক্তি বসানোর খরচ একেক জায়গায় একেক রকম, ভেন্যুর আকার ও সুযোগ-সুবিধার ওপর এর হেরফের হয়।

ব্রাজিলে এই প্রযুক্তি বসাতে এবং এক মৌসুম খেলা চালানোর জন্য খরচ হবে ৬.২ মিলিয়ন ডলার। এ জন্য ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন ক্লাবগুলোর কাছে লেভি দাবি করেছে। ইংল্যান্ডে এক মৌসুম শেষ করতে এই প্রযুক্তির পেছনে খরচ হয় ২.৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। কোরিয়ায় সেটা এক মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। ইন্ডিয়ান সুপার লিগও চাইছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেফারিংকে আরো নির্ভুল করে তুলতে। কিন্তু তাদের অনেক ভেন্যু, খরচও হবে বিপুল অঙ্কের, তাই সাহসে কুলোতে পারছে না। এমন খরুচে প্রযুক্তি কি বাংলাদেশের ফুটবলে চালু করা সম্ভব? বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ মনে করছেন টাকা বড় সমস্যা নয়, ‘দেশের ফুটবলে ভিএআর প্রযুক্তি প্রচলন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তার মূল্যটা ফিফা এখনো জানায়নি। আমরা কয়টি স্টেডিয়ামে প্রযুক্তি ব্যবহার করব, তার ওপর ব্যয় নির্ভর করছে। এখানে সরঞ্জামের দাম তো আছেই, তার সঙ্গে বেশ কিছু ওয়ার্কশপ, ফিফার বিশেষজ্ঞদের ঢাকায় আসা-যাওয়া—সব মিলিয়ে একটা মূল্য দাঁড়াবে। তারা মূল্যের কথা না বললেও আমার ধারণা প্রতিটি স্টেডিয়ামে এই প্রযুক্তি বসাতে গেলে চার কোটি টাকারও বেশি লাগবে। ফিফার সঙ্গে আরো কথা বলে সপ্তাহখানেক পর হয়তো টাকার অঙ্কটা নিশ্চিত করতে পারব।’

আর্থিক সংগতি একমাত্র বাধা নয়, ভিএআর প্রচলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরো অনেক কিছু। প্রযুক্তি যাঁদের হাতে থাকবে তাঁদের মান এবং সামগ্রিক ব্যবস্থা অনুকূলে আছে কি না, সেটাও দেখবে ফিফা। এসব সূচকে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশকে এখনই ভিএআর ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না ফিফা। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘এই মৌসুমে ভিএআর প্রচলন করা সম্ভব নয়। ফিফার সঙ্গে আমাদের দুটি সভা হয়েছে। ফিফার অনুমোদন পাওয়ার জন্য দেশের সক্ষমতা, আর্থিক ক্ষমতা, স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা, এলিট রেফারির সংখ্যা ও তাদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি জড়িত। সব কিছু যাচাই করতে ফিফার ৯ থেকে ১২ মাস লাগবে। সুতরাং এখন আমরা কাজ শুরু করলেও আগামী মৌসুমের আগে ফুটবলে আধুনিক রেফারিং প্রযুক্তি অনুমোদন পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’  

আসলে ফুটবলে ভিএআর প্রচলনেরও হ্যাপা অনেক। চাইলেই যে ফিফা এটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে তা নয়, আগে ব্যবহারের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। এখনো পর্যন্ত এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে এশিয়ার মাত্র সাত দেশে—চীন, জাপান, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাতে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোনো দেশই তাকে স্বাগত জানাতে পারেনি। সেখানে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলে প্রথম হতে চাইছে বাংলাদেশ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা