kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

অবশেষে মুক্ত হাওয়ায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:০৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবশেষে মুক্ত হাওয়ায়

আইসোলেশনের এমন কঠিন শিকল যে আগের দুই দিন এমনকি পাশের রুমে থাকা সতীর্থের সঙ্গেও মুখ দেখাদেখি বন্ধ ছিল। তবে কেউ কেউ ক্ষণিকের জন্য হলেও একে অন্যের মুখ দেখার বিকল্প উপায় বের করে নিয়েছিলেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ দলের সেই ক্রিকেটাররা, যাঁরা ক্রাইস্টচার্চের ‘শ্যাটো অন দ্য পার্ক’ হোটেলে মুখোমুখি রুমে আছেন। বেলায় বেলায় পছন্দ অনুযায়ী খাবার প্রত্যেকের রুমের দরজায় দিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিয়ম হলো খাবার দিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর মাস্ক পরে দরজা খুলে তা নিতে হবে। মুখোমুখি রুমে অবস্থান করা ক্রিকেটাররা আগে থেকেই ফোনে যোগাযোগ করে একই সময়ে খাবার নিতে দরজা খুলে একে অন্যকে দেখছিলেন। নিউজিল্যান্ড যাওয়ার পর এমনকি নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ ইমামের দেখা-সাক্ষাৎও হচ্ছিল এভাবেই। তবে সফরের তৃতীয় দিন কঠিন সেই শিকল কিছুটা আলগা করে দেওয়া হয়। তাতে খেলোয়াড়-কোচ-কর্মকর্তা মিলিয়ে বাংলাদেশ দলের বিশাল লটবহর অবশেষে একটু খোলা হাওয়ায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পেয়েছে।

হোটেল লাগোয়া খোলা জায়গায় গতকাল দলের সবাইকেই হাঁটার সুযোগ করে দেওয়া হয়, তবে একসঙ্গে নয়। পুরো দল তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বের হয়। একেকটি গ্রুপের জন্য বরাদ্দ ছিল ৪০ মিনিট। একে অন্যের সঙ্গে অন্তত দুই মিটারের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে হাঁটাচলার পাশাপাশি কাউকে কাউকে দেখা গেছে স্ট্রেচিং করে নিতেও। সাত দিনের কঠোর আইসোলেশনের মধ্যেও মুক্ত হাওয়া গায়ে মাখার এই ছাড় পূর্বনির্ধারিত ছিল বলেই জানিয়েছেন মিডিয়া ম্যানেজার রাবীদ, ‘সাত দিনের মধ্যে তিনবার করোনা পরীক্ষা হবে আমাদের— প্রথম, চতুর্থ ও ষষ্ঠ দিনে। কথা ছিল প্রথম পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে তৃতীয় দিন বের হতে দেওয়া হবে। সবাই নেগেটিভ হওয়াতেই আজ (গতকাল) আমরা সেই সুযোগটি পেলাম। এখন থেকে প্রতিদিনই এভাবে বের হতে দেওয়ার কথা আমাদের।’

শুরুতে সবার রক্তের নমুনাও নেওয়া হয়েছিল। রাবীদ জানিয়েছেন, তা অ্যান্টিবডি পরীক্ষার জন্য। সেই পরীক্ষার ফল অবশ্য এখনো আসেনি। ষষ্ঠ দিনে তৃতীয় কভিড পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে সপ্তম দিন থেকেই ক্রিকেটাররা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে হোটেলের জিম ব্যবহার করতে পারবেন বলেও জানালেন মিডিয়া ম্যানেজার। অষ্টম দিন থেকে পাঁচজনের একেকটি দলে ভাগ হয়ে যেতে পারবেন ব্যাট-বলের অনুশীলনে। আপাতত রুমেই চলছে যে যাঁর মতো করে ফিট থাকার চেষ্টা। ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়রা হোটেলে নিজের রুমে সাইক্লিং থেকে শুরু করে অন্যান্য ব্যায়ামের ছবি পোস্ট করেছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। তবে একেবারে রুমবন্দি হয়ে থাকার পর একটু বের হতে পারায় দারুণ স্বস্তির নিঃশ্বাসও ফেলতে শোনা গেছে ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদকে, ‘এ রকম আইসোলেশন একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এর আগে কখনোই এভাবে (কোনো সফরে গিয়ে) সময় কাটানো হয়নি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর আমরা ৩০-৪০ মিনিটের জন্য বাইরে বেরিয়ে হাঁটার সুযোগ পেয়েছি। টানা দুই দিন একদম রুমবন্দি হয়ে থাকার পর তাই ভালো লাগছে। চাইব, এই ভিন্ন অভিজ্ঞতাটা যেন দ্রুতই শেষ হয়।’ হোটেলে রুমে থেকে তাঁদের সময় কিভাবে কাটছে, সেটিও জানালেন তাসকিন, ‘পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি আর মুভি দেখে সময় পার করছি। আর বিসিবি থেকে রুমে এক্সারসাইজ করারও কিছু ব্যবস্থা করে দিয়েছে। কিছু সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে। আর এক্সারসাইজের প্রগ্রামও দেওয়া হয়েছে। সেসবও রুমে থেকে করছি। সেই সঙ্গে পরিবারকেও সময় দিচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা