kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

বাংলাদেশের জন্য ভীতিকর হয়ে উঠবে চতুর্থ ইনিংস

অনলাইন ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৪৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের জন্য ভীতিকর হয়ে উঠবে চতুর্থ ইনিংস

ছবি : বিসিবি

যে মাঠ 'হোম অব ক্রিকেট', সকল ক্রিকেটারের কাছে নিজের বাড়ির উঠোনের মতোই চেনা; সেই মাঠে খর্বশক্তির উইন্ডিজের কাছে ভালোই নাকানি চুবানি খেল বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়দের করা ৪০৯ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ২৯৬ রানে অল-আউট হয়েছে মুমিনুল হকের দল। প্রথম ইনিংসেই অতিথিরা ১১৩ রানে এগিয়ে আছে। দ্বিতীয় ইনিংসে কত রান তুলবে তা ভবিষ্যতই বলবে। তবে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা বাংলাদেশের জন্য যে কতটা ভীতিকর হতে যাচ্ছে তা এখনই অনুমান করা যায়।

চট্টগ্রাম টেস্টে পঞ্চম দিনে যেভাবে ব্যাটিং করে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল ক্যারিবীয়রা; বাংলাদেশকে নিয়ে সেরকম আশা করতে ভয় হয়। প্রথম ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের উইকেট বিসর্জনের দৃশ্য দেখে এই ভয় হওয়া অস্বাভাবিক নয়। পঞ্চম দিনে উইকেট হয়ে পড়বে ক্ষতবিক্ষত। বল সমানে ঘুরবে। তার ওপর টাইগারদের শট খেলার মানসিকতা উইকেট পতনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অনেকের মতে, ঢাকা টেস্টের ভাগ্য ইতোমধ্যেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। তবুও ভক্তরা আশা করতেই পারেন ভালো কোনো ফলাফলের।

উইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে করা ৪০৯ রানের জবাবে ৪ উইকেটে ১০৫ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করা বাংলাদেশ দল আজ শনিবার তৃতীয় দিনের শুরুতে ভালোই শুরু করেছিল। দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম আর মোহাম্মদ মিঠুন নির্ভরতা যোগাচ্ছিলেন। ক্যারিয়ারের ২২ নম্বর ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, হয়তো এই জুটিতেই ফলোঅন এড়াবে বাংলাদেশ। কিন্তু বিধি বাম। প্রথম ঘণ্টার শেষ দিকে সেই রাকিম কর্নওয়ালের ঘূর্ণিতে ছন্দপতন। ব্রাফেটের চোখ ধাঁধানো ক্যাচে বিদায় নেন ধৈর্য্যের প্রতিমূর্তি হয়ে থাকা মোহাম্মদ মিঠুন। ৮৬ বলে তার সংগ্রহ ১৫ রান। এর সঙ্গে ভাঙে ১৮১ বলে ৭১ রানের জুটি।

বাংলাদেশ দল ভরসা রাখছিল 'মি. ডিপেন্ডেবল' খ্যাত মুশফিকুর রহিমের ওপর। নতুন সঙ্গী লিটন দাসকে নিয়ে হাফ সেঞ্চুরিয়ান মুশফিক ক্রিজে সেটও হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাকিম কর্নওয়ালের করা ৫০তম ওভারে তার কী যে হলো.. রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে কাইল মেয়ার্সের হাতে ক্যাচ দিলেন। ৫৪ রানে শেষ হলো তার ইনিংস। লিটনের সঙ্গী হলেন মেহেদী মিরাজ। এই জুটিতেই ফলো-অন এড়িয়ে যায় বাংলাদেশ দল। সপ্তম উইকেটে তাদের জুটি ছুঁয়ে ফেলে তিন অংক। বাংলাদেশ শিবিরে ফিরে স্বস্তি। দ্বিতীয় সেশনে ২৭ ওভার খেলা হয়। আসে ৯৭ রান।

মিরাজ-লিটন দুজনেই ফিফটি পূরণ করে এগিয়ে যেতে থাকেন। ক্যারিয়ারের ৭ম ফিফটি তুলে নিতে লিটন দাস সময় নেন ৯২ বল, মারেন ৬টি বাউন্ডারি। আর ১১২ বলে সমান ৬ বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি তুলে নেন মিরাজ। চা বিরতির পরও দুজন দারুন খেলছিলেন। হঠাৎ ছন্দপতন। শিকারী সেই রাকিম কর্নওয়াল। তার বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্ল্যাকউডের হাতে ক্যাচ দেন ১৩৩ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৭১ রান করা লিটন দাস। ভাঙে ২৫৫ বলে ১২৬ রানের দারুণ জুটি। একই ওভারের পঞ্চম বলে নাঈম হাসানকে (০) ব্ল্যাকউডের তালুবন্দি করে ৫ উইকেট পূরণ করেন কর্নওয়াল।

বাংলাদেশের ৯ম উইকেটের পতন ঘটান শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। তার বলে ১৪০ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৫৭ রান করা মেহেদী হাসান মিরাজের সহজ ক্যাচ নেন ক্রেইগ ব্রাফেট। এরপর আবু জায়েদকে নিয়ে কিছুক্ষণ লড়াইয়ের চেষ্টা করেন তাইজুল (১৩*)। আবু জায়েদকে (১) এনক্রুমা বোনারের তালুবন্দি করে বাংলাদেশের ইনিংসে ইতি টেনে দেন আলজারি জোসেপ। ২৯৬ রানে অল-আউট হওয়া বাংলাদেশ ক্যারিবীয়দের চেয়ে ১১৩ রানে পিছিয়ে। ৩২ ওভার বল করে ৮ মেডেনসহ ৭৪ রানে ৫ উইকেট নেন রাকিম কর্নওয়াল। ৭০ রানে ৩ উইকেট নেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ২ উইকেট নেন আলজারি জোসেপ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা