kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

ধারহীন বোলিংয়ের পর বাজে ব্যাটিং

মাসুদ পারভেজ   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৩:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধারহীন বোলিংয়ের পর বাজে ব্যাটিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক দিকে টেস্ট ম্যাচ টেস্টের মতো করেই খেলার প্রদর্শনী চলল। আরেক দিকে বেমালুম সব ভুলে চলল ওয়ানডে খেলাও। টেস্টে নেমে ওয়ানডে খেলতে শুরু করলে যা হওয়ার কথা, হলোও তা-ই। যেচে পড়ে বিপদ ডেকে আনা হলো। তাতে চট্টগ্রামের হার থেকে শিক্ষা না নেওয়া বাংলাদেশ ঢাকায় দ্বিতীয় দিনের শেষেই চাপে।

এনক্রুমা বোনার ও তামিম ইকবালকে দিয়েই চাপ তাড়ানো এবং নিয়ে আসার উদাহরণ দেওয়া যাক। চট্টগ্রামে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও তা না পাওয়া বোনার খেলেছিলেন ২৪৫ বল। ঢাকায়ও এই ক্যারিবীয় আরেকবার পুড়লেন সেঞ্চুরি বঞ্চনায়। তবে ২০৯ বলের ইনিংসে টেস্টের দাবি মিটিয়ে গেলেন যেখানে, সেখানে বাংলাদেশের ওপেনার তামিমের ‘ওয়ানডে ইনিংস’টি ৫২ বলে ৪৪ রানের!

রান করার তাড়ায় পেয়ে বসলে গোলমাল হওয়া স্বাভাবিক। সেটি শুধু তামিমের হলো না, হলো আরো কয়েকজনেরও। তাই এক পর্যায়ে ওভারপিছু প্রায় ৫ রান করে তোলা বাংলাদেশ ৭১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পড়ে গেল ফলোঅনের শঙ্কায়ও। এই ধাক্কায় কিছু কাজ অবশ্য হলো। মোহাম্মদ মিঠুন টেস্টের মতোই খেলতে শুরু করলেন। দিনের শেষে রান মাত্র ৬ হলেও তিনি বল খেলে ফেলেছেন ৬১টি। সমানসংখ্যক বল খেলে ২৭ রানে অপরাজিত মুশফিকুর রহিম তাঁকে নিয়ে দিনের শেষ ২০ ওভার নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়ার পরও ফলোঅনের শঙ্কামুক্ত নয় স্বাগতিকরা।

কারণ ক্যারিবীয়রা যে চড়ে বসেছে একরকম রানপাহাড়েই। আগের দিন বোনার বলেছিলেন, ৩৫০-এর বেশি যেকোনো স্কোর হলেই তাদের চলবে। তারা এর চেয়ে একটু বেড়ে করল ৪০৯ রান। তাতে স্বাগতিক দলের বোলারদের নির্বিষ বোলিংও রাখল ভূমিকা। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আজ ফলোঅন এড়াতেও আরো ১০৫ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম চার দিন প্রতিপক্ষের ওপর চড়ে বসে থেকেও হারা স্বাগতিকরা এবার তৃতীয় দিনই শুরু করছে পাল্টা চাপে থেকে।

দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকে ধারহীন বোলিংও প্রতিপক্ষকে স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গায় চলে যেতে দিয়েছে। প্রথম দিনে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করা আবু জায়েদ এলোমেলো হয়ে যান। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামও পারেননি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের ভোগাতে। আলগা বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন অফস্পিনার নাঈম হাসানও। প্রথম ঘণ্টায় তাই ১০০-র বেশি রান তুলে ফেলে সফরকারীরা। বোনার ও জশুয়া দা সিলভার ৮৮ রানের জুটি আরেক অফস্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ভাঙলেও স্বস্তি ফেরেনি স্বাগতিক শিবিরে।

কারণ বোলার আলজারি জোসেফও দেখাতে শুরু করেন নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য। তবে বোনারের (৯০) মতো জশুয়া (৯২) এবং জোসেফও (৮২) ফিরেছেন সেঞ্চুরির দুয়ার থেকে। পর পর দুই ওভারে তাঁদের বিদায়ে ক্যারিবীয় ইনিংসের লেজও ছাঁটা হয়ে যায় দ্রুতই। ৩৪ বলের মধ্যে ২৫ রানে শেষ ৪ উইকেট হারালেও বড় রানের স্বস্তি সফরকারীদের। যেটি আরো বেশি স্বস্তিদায়ক করে দেয় বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটিং।

টেস্টের প্রাথমিক স্কোয়াডে না থেকেও সাকিব আল হাসানের বদলি হিসেবে সৌম্য সরকারের একাদশে ঢুকে পড়া নিয়ে এমনিতেই বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছিল। সেটি আরো বড় করে এই বাঁহাতি প্রথম ওভারেই বিদায় নেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েলকে উইকেট দিয়ে। এই পেসারের পরের ওভারেই অফস্টাম্পের বাইরের বলে চালিয়ে বিদায় আরেক বাঁহাতি নাজমুল হোসেন শান্তরও। সেখান থেকে তামিম ও অধিনায়ক মমিনুল হকের ৫৮ রানের পার্টনারশিপ। কিন্তু পর পর দুই ওভারে তাঁদেরও বিদায়ে ব্যাটিং বিভীষিকাই যেন উঁকি দিচ্ছিল স্বাগতিক শিবিরে।

মুশফিক-মিঠুনরা আজও টেস্ট ম্যাচ টেস্টের মতো করে খেললেই কেবল যা মিলিয়ে যেতে পারে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা