kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

নিজেকে চাপে রেখেই সফল বোনার

অনলাইন ডেস্ক   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৮:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজেকে চাপে রেখেই সফল বোনার

ফিফটির পর এনক্রুমা বোনার। ছবি: এএফপি

হার না মানা ডাবল সেঞ্চুরিতে কাইল মেয়ার্স সব আলো এমনভাবে কেড়ে নিয়েছিলেন যে অনালোকিতই থেকে গিয়েছিল তাঁর মতো আরেক অভিষিক্তের প্রতিরোধের গল্প। যে গল্প লেখা না হলে চট্টগ্রাম টেস্টের শেষ দিনে মেয়ার্সের ইতিহাস গড়া কীর্তির সৌধেও পৌঁছানো হতো না। তিনি পৌঁছাতে পারলেন কারণ তাঁর সঙ্গে ছিলেন এনক্রুমা বোনার। আগের চার দিন চাপে চিড়ে-চ্যাপ্টা ক্যারিবীয় দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেয় তো এই দুজনের জুটিই। যারা পঞ্চম দিনের প্রথম দুই সেশন ছিল অবিচল। কোনো উইকেট হারাতে না দেওয়া এই জুটি চা বিরতির পর যখন আবার ব্যাটিংয়ে নামে, ততক্ষণে স্বাগতিক দলের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষায় অনিঃশেষ হতাশার ছাপ। সেই হতাশা তুঙ্গে পৌঁছে দিয়ে মায়েরস রূপকথায় ক্যারিবীয়দের অবিশ্বাস্য জয়।

যে জয়ে শেষ পর্যন্ত পার্শ্ব নায়কই বনে যেতে হয়েছে ৮৬ রানের ইনিংস খেলা বোনারকে। ২৪৫ বলের সংগ্রামী ইনিংস খেলা সেই বোনারের সঙ্গে মেয়ার্স যখন ঢাকায় আবার জুটি বাঁধেন, তখনও সবটুকু আকর্ষণ ছিল চট্টগ্রাম টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরিয়ানকে ঘিরেই। যদিও এবার মাত্র পাঁচ রান করেই আবু জায়েদের বলে ফিরেছেন মায়েরস। তবে প্রথম দিনের শেষে ক্যারিবীয় ইনিংসের হালধরা নাবিক সেই বোনারই। এই জ্যামাইকান প্রথম দিন শেষ করেছেন ১৭৩ বল খেলে ৭৪ রান নিয়ে। নিজের ওপর চাপ তৈরি করাই যাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র, ‘আমি যে ইনিংসই খেলি না কেন, নিজের ওপর চাপ নিয়ে নিই।’

সেই চাপের সঙ্গে যোগ করে নেন চরম পেশাদারি মনোভাবও। শীর্ষ খেলোয়াড়রা এই সফরে এলে হয়তো খেলারই সুযোগ পেতেন না বোনার। সুযোগ যখন পেয়েছেন, তখন পারিশ্রমিকের পুরোটা পুষিয়ে দেওয়ার উপলব্ধিও তাঁর কথায়, ‘আমাদের পারিশ্রমিকই দেওয়া হয় রান করার জন্য। সেই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার জন্যও। খেলতে নামলে সেটিই করার চেষ্টা থাকে আমার।’ চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার উইকেটের পার্থক্য খুব একটা দেখেননি বলে গেম প্ল্যানও বদলাননি বোনার, “এখানে বাউন্স সামান্য বেশি হলেও উইকেট চট্টগ্রামের মতোই। কাজেই একই গেম প্ল্যানে খেলছি। সামনের পায়ে যত বেশি সম্ভব বল খেলার চেষ্টা করে গেছি। যতটা সম্ভব ‘ভি’-এর মধ্যে খেলতে চেয়েছি।”

জশুয়া সিলভাকে নিয়ে আজ দলকে আরো অনেকটা পথ এগিয়ে দিতে চান বোনার, ‘আজকে যদিও কিছু সফট ডিসমিসাল ছিল। খেলায় এমনটি হতেই পারে। তবে আমি আর জশ এখনো আছি। আমাদের দুজনের আরো যতটা সম্ভব ব্যাট করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ৩৫০ ছাড়ানো স্কোরে নিয়ে যেতে চাই দলকে। আমি মনে করি, সেটিই দারুণ সংগ্রহ হবে।’ ঢাকার উইকেটে স্পিন সামলানোর জন্য বোনারের কাছে এটিই অব্যর্থ মন্ত্র, ‘যতটা সম্ভব উইথ দ্য স্পিন খেলতে হবে। আর উইকেটের চরিত্রের কারণে খেলতে হবে সামনের পায়েও।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা