kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭। ৪ মার্চ ২০২১। ১৯ রজব ১৪৪২

বাজে ফিল্ডিং ব্যাটিংয়ের পরও আলোর রেখা

বাংলাদেশ ৪৩০ ও ২০ ওভারে ৪৭/৩
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯৬.১ ওভারে ২৫৯ (তৃতীয় দিনের শেষে)

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে    

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:৫৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাজে ফিল্ডিং ব্যাটিংয়ের পরও আলোর রেখা

কোচ হিসেবে এই ম্যাচে যতটা সফল তামিম ইকবাল, ব্যাটসম্যান হিসেবে এর ছিটেফোঁটাও নন। এই ওপেনারের অমূল্য পরামর্শে আটে নেমে মেহেদী হাসান মিরাজ সেঞ্চুরির ফুল ফোটালেও তিনি নিজে ডুবে থাকলেন ব্যর্থতায়। প্রথম ইনিংসে ৯ রানের পর এবার রানের খাতাই খুলতে পারলেন না তামিম। অফস্পিনার রাকিম কর্নওয়ালের করা এর পরের বলেই সম্ভাবনাময় নাজমুল হোসেন শান্ত এমন স্লিপ ক্যাচিং অনুশীলন করিয়ে গেলেন যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের শেষের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় কি না, জাগল সেই শঙ্কাও। সেই শঙ্কা সত্যি না হলেও চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের বিকেল বাজে ব্যাটিংয়ের বিষাদ ঠিকই ছড়াল।

এর আগে রোদ ঝলমলে সকালে অন্ধকার হয়ে থাকল বাজে ফিল্ডিংও। সকালটি শুরুই হয়েছিল আগের দিন বিকেলে পাওয়া ঊরুর চোটে সাকিব আল হাসানের মাঠে নামতে না পারার দুঃসংবাদ নিয়ে। তাতে চারজনের স্পিন আক্রমণ তিনজনে নেমে এলেও সুযোগ তৈরি হতে থাকল। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তাঁদের বলে একের পর এক ক্যাচও পড়তে থাকল। যা কাইল মেয়ার্স, জারমেইন ব্ল্যাকউড ও জশুয়া সিলভাদের উইকেটে থিতুও হতে দিল। তাই পার্টনারশিপও গড়ে উঠল। সুবাদে ফলোঅনও অনায়াসেই এড়িয়ে ফেলল সফরকারীরা।

সকাল থেকে ক্যাচ ফেলার প্রদর্শনীর সঙ্গে বিকেলের বাজে ব্যাটিং যোগ হওয়ার হতাশার মধ্যেও অবশ্য আলোর রেখা থাকল। কারণ সাকিবকে ছাড়াই মিরাজ, নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামরা উইকেট তুলে নেওয়ার মিছিলে একযোগে শামিল হতে পারলেন। উইকেট থেকে কাঙ্ক্ষিত টার্নও তাঁরা পেতে থাকলেন তৃতীয় দিন থেকে। তাই অনেক ক্যাচ ফেলার পরও একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ইনিংসে ধস নামানো গেল। এমনই সেই ধস যে মাত্র ৬ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ২৫৯ রানে অল আউট ক্যারিবীয়রা। বাংলাদেশ নিজেরাও ১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে প্রতিপক্ষকে অনুসরণ করতে শুরু করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ৪৭ রান নিয়ে দিন শেষ করল। প্রথম ইনিংসের ১৭১ যোগ হয়ে স্বাগতিকদের লিড এখন ২১৮ রানের। স্পিনাররা টার্ন পেতে শুরু করায় ২৫০-এর বেশি যেকোনো লক্ষ্যই সফরকারীদের জন্য কঠিন হওয়ার কথা। বাজে ফিল্ডিং আর ব্যাটিংয়ের পরও তাই জয়ের উঁকিঝুঁকি দেখতে পাচ্ছে বাংলাদেশ।

জিতলেও জিতবে ক্যারিবীয়দের আগের বাংলাদেশ সফরের তুলনায় বিলম্বেই। কারণ ২০১৮ সালের সফরে দুটো টেস্টই তিন দিনে জিতেছিল স্বাগতিকরা। সেবার এই চট্টগ্রামেই সিরিজের প্রথম টেস্টে ৫ উইকেট নিয়ে অভিষেক নাঈমের। যদিও এই অফস্পিনারের আলগা বলের মাসুল কাল সকাল থেকেই তুলছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাথওয়েট ও কাইল মেয়ার্স। আবার দিনের শুরু থেকে উইকেটে টার্নও ছিল না তেমন। এ কারণেই হয়তো ব্রাথওয়েট ব্যাট উঁচিয়ে বল ছেড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবিত হলেন। কিন্তু নাঈমের বল শার্প টার্নে আঘাত হানল স্টাম্পে। তাতে ভাঙে মেয়ার্সের সঙ্গে ব্রাথওয়েটের (৫৫) রানের জুটি। এর আগে দিনের প্রথম বলেই সাফল্য পান তাইজুলও (২/৮৪)। এনক্রুমা বোনারকে (১৭) স্লিপে নাজমুলের ক্যাচ বানান এই বাঁহাতি স্পিনার।

দিনের প্রথম বলের সাফল্য আর ব্রাথওয়েটের বিদায়ের মাঝখানে পড়ে একের পর এক ক্যাচ। অধিনায়ক ফিরে যাওয়ার পর ক্রিজে এসে একাধিকবার জীবন পান ব্ল্যাকউডও। তবে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে তাঁর সঙ্গে মেয়ার্সের (৪০) জুটিও জমতে দেননি মিরাজ। ব্যাট হাতে সেঞ্চুরি করা এই অফস্পিনার তৃতীয় দিন নিজের প্রথম ওভারেই পান সাফল্য। পরে প্রতিপক্ষের ইনিংসের ধসের সময় নেন আরো ৩টি উইকেট। সব মিলিয়ে ৫৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলারও মিরাজই। দিনের প্রথম সেশনে মিরাজ দলকে তৃতীয় উইকেট এনে দিলেও ততক্ষণে স্বাগতিকরা ক্যাচ ছেড়েছে আরো বেশি।

উইকেটে যাওয়া মাত্রই ক্যাচ পড়েছে জশুয়া সিলভারও। প্রথম সেশনের চার ক্যাচের দুটো ছেড়েছেন উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাস, অন্য দুটো সাকিবের বদলে ফিল্ডিংয়ে নামা ইয়াসির আলী। জীবন পাওয়া ব্ল্যাকউড ও সিলভা গড়ে ফেলতে পারেন ৯৯ রানের পার্টনারশিপও। ধসটা এর পরই। সৌভাগ্য যে সকালের ভুল পরে শুধরে নেন লিটনও। নাঈমের (২/৫৪) বলে প্রথমে সিলভার (৪২) ক্যাচ নেন তিনি। ৪ বল পর মিরাজের বলে ব্ল্যাকউডেরও (৬৮)। এই দুজনের বিদায়ের পর ক্যারিবীয় ইনিংসের লেজও ছাঁটা হয়ে যায় দ্রুতই।

এরপর দ্রুতই সাজঘরের পথ ধরেন তামিম-নাজমুলও। অধিনায়ক মমিনুল হকের (৩১*) সঙ্গে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টায় ওপেনার সাদমান ইসলামের (৪২ বলে ৫) প্রতিরোধও ভাঙে ফাস্ট বোলার শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের শরীর তাক করা বলে। ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর মমিনুল-মুশফিকুর রহিম বাকি সময়টা পার করে দিলেও দলের বাজে ব্যাটিংটা আড়াল হয়নি। যেমন আড়াল করার উপায় নেই সকালের ক্যাচ ফেলাও।

তবু তিন স্পিনারের বোলিং জয়ের ঝিলিক দেখাচ্ছে ঠিকই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা