kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

টেস্টের ভুবনে ফিরছে বাংলাদেশ

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে    

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টেস্টের ভুবনে ফিরছে বাংলাদেশ

এবার শুরু টেস্টের লড়াই। অধিনায়ক মমিনুল হক ও তামিম ইকবালের সঙ্গে তা নিয়েই হয়তো রণকৌশল সাজাচ্ছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। ছবি : মীর ফরিদ

সাকিব আল হাসান বললেন, তাই সতীর্থরাও সবাই হাততালি দিতে শুরু করলেন। ব্যাট উঁচিয়ে সেঞ্চুরি উদযাপন করলেন মুশফিকুর রহিমও। গতকালের অনুশীলনের এই দৃশ্যই টেস্ট ম্যাচে কত দিন দেখে না বাংলাদেশ!

নির্দিষ্ট করে বললে প্রায় এক বছর। গত বছর ফেব্রুয়ারির শেষে ঢাকায় সর্বশেষ টেস্ট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তাতে একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করে ব্যাট তুলেছিলেন মুশফিক। টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকের ৯টি সেঞ্চুরির সর্বশেষটিও একই ম্যাচে। এরপর করোনায় থমকে যাওয়া পৃথিবীতে একের পর এক সিরিজ স্থগিত হতে হতে নতুন বছর।

নতুন বছরে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতে পারাকেই ‘নতুন আরেকটি সুযোগ’ বলে ধরছেন মমিনুল। আজ থেকে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হতে যাওয়া টেস্টে নিজের সেঞ্চুরি উদযাপনের ছবি নিশ্চয়ই ভাসছে সাকিবের চোখেও। নাহ, মুশফিক কাল সত্যি সত্যিই সেঞ্চুরি করেননি। কিন্তু তিনি নেট ছেড়ে বের হচ্ছেন না দেখে অস্থির হয়ে উঠছিলেন ব্যাটিংয়ের অপেক্ষায় থাকা সাকিবও।

মুশফিক বের হতেই তাই টিপ্পনীও কাটলেন, ‘সেঞ্চুরি করে বেরিয়ে এসেছে। সবাই হাততালি দাও।’ এরপর নিজে ব্যাটিং করলেন ৩০ মিনিটের মতো। এর আগে সেন্টার উইকেটে বোলিংয়ের পর স্লিপ ক্যাচিংয়ের অনুশীলনও ততক্ষণে সারা হয়ে গেছে এই অলরাউন্ডারের। কুঁচকির চোট কাটিয়ে যেন আবার টেস্টের ভুবনে ফিরতে পুরোপুরি তৈরি সাকিব। তৈরি ওয়ানডে সিরিজের মতোই কার্যকারিতায় ক্যারিবীয়দের বিপদে ফেলতেও। সেটি দুই ভূমিকাতেই।

ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে ওয়ানডে সিরিজের সেরা হওয়া এই অলরাউন্ডার এর আগেও একাধিকবারই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একই চেহারায় দেখা দিয়েছেন। সেটি প্রতিপক্ষের টেস্ট অধিনায়ক ক্রেইগ ব্রাথওয়েটেরও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। যেমন এই টেস্টের জন্য চট্টগ্রামের উইকেট দেখে তাঁর গত সফরের (২০১৮ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে) কথাই মনে পড়ে গেছে সবার আগে, ‘একেবারে শুষ্ক উইকেট। গতবার আমরা যখন এসেছিলাম, তার চেয়ে ভিন্ন কিছু হবে বলে মনে হয় না। খুব বেশি বাউন্স থাকবে না। বাংলাদেশের গতানুগতিক উইকেটই।’

আগেরবার সে রকমই স্পিন সহায়ক উইকেটে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরে যাওয়া সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন সাকিবই। চট্টগ্রামে যে সিরিজের শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের ফাঁদে পা দিয়েছিল সফরকারীরাও। একজনও পেসার খেলায়নি বাংলাদেশ। তাতে সাফল্যও মিলেছিল। তবে পরের বছর একই মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই ফর্মুলা উল্টো ফল দিয়েছে। এবারও স্পিন উপযোগী উইকেটে সে রকম কিছু করলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু প্রস্তুতি ম্যাচের বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ভোগান্তিতে ফেলার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন অফস্পিনার রাকিম কর্নওয়াল। আগের সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আছেন বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকানও।

এবার নিজেদের স্পিন প্রস্তুতিতেও আত্মবিশ্বাস ঝরছে ব্রাথওয়েটের কণ্ঠে, ‘সত্যি কথা বললে স্পিনারদেরই প্রাধান্য থাকবে। তার পরও পেসারদের সুযোগ আছে। কারণ প্রস্তুতি ম্যাচ আমরা খেলেছি নিচু বাউন্সের উইকেটে। সেখানেও পেসাররা (ব্যাটসম্যানদের ওপর) চাপ তৈরি করতে পেরেছে।’ সেই চাপ তৈরি করার জন্য থাকছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল-কেমার রোচরাও। দুজন পেসার খেলানোর ইঙ্গিত ছিল আগের দিন বাংলাদেশ দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথায়ও। কিন্তু স্পিন আক্রমণকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তারা পেস সংস্কৃতি বদলানোর পথে পদক্ষেপ ফেলে কি না, এই টেস্ট জাগিয়ে রাখছে সেই কৌতূহলও।

স্বাগতিকরা সেই পদক্ষেপ ফেলুক বা না ফেলুক, মমিনুলের লক্ষ্য তাতে বদলাচ্ছে না, ‘আমরা দল হিসেবে পারফরম করে নতুনভাবে শুরুর সুযোগ পাচ্ছি।’ সুযোগ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্টের শূন্য ঘরে কিছু জমা করারও। ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকরা ২০২৩ বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাছাই পর্ব এড়াতে যথাসম্ভব পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্যে পুরোপুরি সফল। এবার টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ব্যর্থতার অতীতটাও অবশ্য ভুলতে চান মমিনুল।

যেমন চট্টগ্রামে নিজেদের খেলা শেষ টেস্টে আফগানিস্তানের কাছে ভরাডুবির স্মৃতি আর মাথায়ও আনতে চান না এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘কাল আপনি যা করেছেন, ভালো হোক বা খারাপ, মনে রাখার দরকার নেই। এটি মনে রেখে আপনি কিছু পাবেনও না। আমিও একইভাবে ভাবছি। আফগানিস্তানের সঙ্গে কী হয়েছিল, মনে রাখতে চাই না। মনোযোগ রাখতে চাই এই ম্যাচেই।’

সব ভুলে পূর্ণ মনোযোগে টেস্টের ভুবনে ফিরতে চান মমিনুলরা। নিজেদের মেলেও ধরতে চান সেভাবে, যেভাবে মেলে ধরলে সেঞ্চুরি করে ব্যাট উঁচিয়ে ধরা যায়।

কালকের অনুশীলনের মুশফিকের মতো! প্রতীকী সেই ছবিটাই বাস্তবে দেখার প্রত্যাশায় স্বাগতিকরা! এমন ছবি যে কত দিন দেখা হয় না!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা