kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

টেস্টের প্রস্তুতি

তামিমদের স্বস্তি দিতে পারে যে ‘স্বাধীনতা’

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:৫২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তামিমদের স্বস্তি দিতে পারে যে ‘স্বাধীনতা’

এমনিতে লম্বা সফরেও অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গী হয়ে যান তিনি। এখন অবশ্য আগের সেই দিন নেই। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের ‘নিউ নরমাল লাইফ’ দলের বাইরের লোকদের কাছেও বন্দি জীবনের প্রতিশব্দই হয়ে উঠেছে। যে জীবনে কোনো শৈথিল্যও নেই। দেশের ভেতরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সেটি দেখা হয়ে যাওয়ার পর এখন ছবির মতো সুন্দর দেশ নিউজিল্যান্ডও আর টানছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আকরাম খানকে। নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নে ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান যেন রীতিমতো আঁতকেই উঠলেন, ‘মাফ চাই!’

আকরাম না হয় মাফ চেয়ে সফরে যাওয়া এড়িয়ে যেতে পারেন। কিন্তু ক্রিকেটাররা? তাঁদের যেতেই হবে এবং আটকে থাকতে হবে বায়ো বাবল বা জৈব সুরক্ষা বলয়ের কঠিন শিকলেও। ফেব্রুয়ারি-মার্চের নিউজিল্যান্ড সফরের শুরুতে অপেক্ষায় ছাড়হীন কোয়ারেন্টিনও। যা নিয়ে ধারণা দিতে গিয়ে আকরাম বললেন, ‘প্রথম পাঁচ দিন সবাইকে হোটেলে যার যার রুমেই থাকতে হবে। আমাদের বহর হবে ৩০-৩৫ জনের। পাঁচ দিন পর পুরো বহরটিকে বেশ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হবে। একেকটি গ্রুপ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে মাঠে গিয়ে শুধু নিজেদের মধ্যেই অনুশীলন করতে পারবে। এভাবে চলবে আরো সাত-আট দিন।’

কোয়ারেন্টিনের এই পর্বটি একটি সফরের নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে যোগ হয়ে স্থায়িত্বও বাড়িয়ে দিচ্ছে অনেক বেশি। এতে হোটেল আর স্টেডিয়ামে আসা-যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ জীবনে ক্রিকেটারদের অবসাদগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। তা ছাড়া নিশ্চিত করে এখনই বলার উপায় নেই যে খুব সহসা এর শেষ হচ্ছে। বরং আরো অনেক দিন এভাবেই খেলে যেতে হলে মানসিক বিপর্যয়ের আগাম শঙ্কার কথা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জেতার পরই জানিয়ে রেখেছেন তামিম ইকবাল। একই শহরে থেকে পরিবারের কারো সঙ্গে দেখা করতে না পারার নিয়মই যেন আরো বেশি কাতর করে তুলেছে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ককে।

টেস্ট বিবেচনায় নেই বলে মাহমুদ উল্লাহর মতো আরো অনেকেই ওয়ানডে সিরিজ শেষে পরিবারের সান্নিধ্যে ফিরে যেতে পেরেছেন। কিন্তু তামিমের মতো যাঁরা ওয়ানডের পর টেস্টও খেলতে যাচ্ছেন? গত ১০ জানুয়ারি হোটেলে জৈব সুরক্ষা বলয়ে ঢোকার পর তাঁদের ছাড়া পেতে পেতে ১৫ ফেব্রুয়ারি। সেই বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ থেকে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ হয়ে এই জীবনই চলে আসছে। এই ধারা চলতে থাকলে কী হতে পারে, তা বুঝতে পারছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‘যত যা-ই বলুন, খেলার একটি চাপ থাকেই। সেই চাপমুক্ত হতে ক্রিকেটাররা রিল্যাক্স করার নানা উপায় বের করে নেয়। যেমন—দিনের শেষে সবাই মিলে খেতে বের হওয়া। বায়ো বাবলে হোটেলে থেকে থেকে তাই ক্রিকেটারদের মানসিক সমস্যা হতেই পারে।’

এই সমস্যা থেকে বের হওয়ার একটি উপায় তামিম নিজেও বাতলে দিয়েছেন। কিছু খেলোয়াড়কে কিছু ফরম্যাট থেকে বিশ্রাম দেওয়ার ফর্মুলায় না গেলে ভবিষ্যতে ফল ভালো হবে না বলেও মত দিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। বিসিবি থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় নীতিনির্ধারণী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না মিনহাজুল। তবে বোর্ড পরিচালক আকরামের সে সমস্যা নেই। তিনি বরং তামিমের পরামর্শ সাদরেই গ্রহণ করলেন, ‘ছেলেদের কষ্ট আমরা বুঝতে পারছি। ওদের ঝরঝরে রাখতে একটি ব্যবস্থায় যেতে তো হবেই, যদি এভাবেই চলতে থাকে।’

এভাবে চলতে থাকলে কিছু খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়ে দিয়ে খেলানোর অবস্থায় বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন আছে বলেও মনে করেন আকরাম, ‘এখন রোটেশন পলিসিতে যাওয়ার স্বাধীনতা আমাদের আছে। এটি জোর দিয়েই বলতে পারি। দেখুন না, ওয়ানডে স্কোয়াডে কতজন ফাস্ট বোলার! সবাইকে খেলানোও যায় না!’

এই স্বাধীনতা উপভোগের সিদ্ধান্তে গেলে স্বস্তি পেতে পারেন তামিমরা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা