kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

বড় জয়ে ৩০ পয়েন্ট

কে বলবে সময় লেগেছিল সাকিবের!

মাসুদ পারভেজ, চট্টগ্রাম থেকে    

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কে বলবে সময় লেগেছিল সাকিবের!

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

সিরিজ শেষে তাঁকে এ কথাও বলতে শোনা গেল, ‘আমি সব সময়ই জানতাম, আমার (ছন্দে ফিরতে) কিছু ম্যাচ সময় লাগবে।’ কিন্তু আজ থেকে বহু বছর পর কেউ যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের এই ওয়ানডে সিরিজের তথ্য-পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখতে যাবেন, তাঁর কি সত্যিই মনে হবে যে নিষেধাজ্ঞার পর ছন্দে ফিরতে সাকিব আল হাসানের সময় লেগেছিল?

মনে হওয়ার সুযোগ সামান্যই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে অবশ্য পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য ছিল না, করেছিলেন মাত্র ১৯ রান। পরের ম্যাচে ব্যাটের ছন্দ ধরে ফেলারও ইঙ্গিত দেন অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংসে। সেই সঙ্গে ৩০ রানে ২ উইকেট। কাল শেষ ম্যাচে কুঁচকির চোট নিয়ে ওভার অসমাপ্ত রেখে মাঠ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে উইকেট না পেলেও রান খরচে ছিলেন মিতব্যয়ী।

৪.৫ ওভারে দিয়েছেন মোটে ১২ রান। তবে এর আগে সিরিজে প্রথমবারের মতো আগে ব্যাট করা বাংলাদেশের ২৯৭ রানের সংগ্রহেও অবদান রেখেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর নিজের প্রথম ফিফটি দিয়ে। তিন ম্যাচে ১১৩ রান আর ৬ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে না ফিরতেই এই অলরাউন্ডারের হাতে তুলে দিয়েছে সিরিজসেরার পুরস্কারও। কে বলবে যে ছন্দে ফিরতে সময় লেগেছিল সাকিবের!

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এই সিরিজে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্টিও আছে সাকিবের, ‘যেভাবে সিরিজটি গেল, খুবই খুশি। ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে সার্বিকভাবে ভালোই গিয়েছে। শেষ ম্যাচে পুরোটা সময় মাঠে থাকতে পারলে আরো ভালো লাগত। পুরো সিরিজে এটিই হতাশার অংশ।’ ক্যারিবীয় ইনিংসের ৩০তম ওভারে নিজের বলে ফিল্ডিং করতে গিয়ে প্রথম চোট অনুভব করেন। পরের বলটি করে হাত দিয়ে কুঁচকি চেপে ধরে বসেও পড়েন।

চোট কতটা গুরুতর, ২৪ ঘণ্টা না পেরোনো পর্যন্ত সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলার অবস্থায় নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিকিৎসকরাও। তবে নিজ অনুভব থেকে সাকিব যা জানালেন, তাতে চিন্তিত হওয়ার কারণ আছে যথেষ্টই, ‘কাল (আজ) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখতে হবে কেমন লাগে। ২৪ ঘণ্টার আগে কিছু বলা কঠিন। তবে এই মুহূর্তে কুঁচকির অবস্থা খুব ভালো মনে হচ্ছে না।’

তাতে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রামেই শুরু হতে যাওয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলা অনিশ্চিত হয়ে গেল কি না, তা জানতে অপেক্ষায় থাকতেই হচ্ছে। যদিও তৃতীয় সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে তাঁর ছুটি নেওয়ার যে খবর, তা নিয়ে প্রশ্নেও যেন ক্ষুব্ধই হলেন সাকিব, ‘দেখুন, এ বিষয়টি নিয়ে টেস্ট সিরিজের পরই ভালোভাবে আইডিয়া করা যাবে। এগুলো আসলে ভেতরের কথা। বাইরে কিভাবে এত আসে, সেটিও আমি জানি না। টিম ম্যানেজমেন্ট ও আমার মধ্যে যখন এটি নিয়ে একান্তে কথা হবে, তখনই বোঝা যাবে।’ 

আপাতত ব্যাটে-বলে নিজেকে মেলে ধরতে পারার আনন্দই ফুটে থাকল তাঁর কথায়। বোলিংয়ের তুলনায় ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরা একটু কঠিন ছিল কি না, এমন প্রশ্নে বললেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, আমি যেভাবে ব্যাটিং করি, সেভাবেই করতে পেরেছি। খুব একটা নিজের কাছে কষ্ট মনে হয়নি। হ্যাঁ, প্রতিটা জিনিসেই কষ্ট আছে। প্রতিদিন রান করা কঠিন। ধারাবাহিক খেলাও সহজ নয়। দুটো ম্যাচে খুব ভালো ব্যাটিং করেছি। সেদিক থেকে  খুব খুশি।’

বোলিংয়েও কিছুটা বৈচিত্র্য আনতে দেখা গেছে সাকিবকে। সাইড আর্ম অ্যাকশনে বোলিং করে অভ্যস্ত এই বাঁহাতি স্পিনার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর দেখা যাচ্ছে, ভার্টিক্যাল অ্যাকশনও (একটু ওপর থেকে ডেলিভারি ছাড়া) রপ্ত করেছেন। সেটির ব্যাখ্যায় নিজেকে ক্রমেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী করে তোলার তাগিদই শোনা গেল, ‘আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রতিনিয়তই নিজেকে বদলাতে হবে। তো ব্যাটিং-বোলিংয়ে যেটা করলে ভালো হবে বলে মনে হয়, সেটিই করার চেষ্টা করি।’ 

সে জন্যই হয়তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই ছন্দ ধরতে সমস্যা হয়নি সাকিবের!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা