kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

আবারও জয়ের নায়ক রবিনহো

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবারও জয়ের নায়ক রবিনহো

ছবি : মীর ফরিদ, কুমিল্লা থেকে

আবারও নায়ক রবসন রবিনহো। আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কাল ব্রাদার্স রক্ষণের সব প্রতিরোধ ভেঙে দারুণ এক জয় উপহার দিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসকে। সুবাদে টানা তিন ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়নরা পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে।

টানা দুই ম্যাচে হারা ব্রাদার্স ইউনিয়ন কাল কুমিল্লায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে নেমেছিল ১ পয়েন্টের জন্য। বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে শক্তিতে অনেক পিছিয়ে থাকা ব্রাদার্সের রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা স্বাভাবিক। গোলরক্ষক তিতুমীর চৌধুরী ফেরায় তিন কাঠির নিচে খানিকটা ভরসা ফিরেছে ব্রাদার্সের। এরপর তিন সেন্টার ব্যাকের সঙ্গে দুই ফুল ব্যাকের ডিফেন্স লাইনকে ছায়া দিতে বাকিরাও নিচে নেমে ঠেকিয়েছেন আক্রমণ। ১০ জনে মিলে প্রতিরোধ গড়েছেন। চেষ্টা করেছেন কিংসের লাতিন ফরোয়ার্ড লাইনে ছন্দঃপতন ঘটাতে। এই কৌশলে ৬৩ মিনিট পর্যন্ত সফল গোপীবাগের দলটি, চ্যাম্পিয়নদের গোলবঞ্চিত রেখে মানসিক চাপ বাড়িয়েছিল বৈকি। কিন্তু পরের মিনিটে সব প্রতিরোধ ভেঙে রবসন রবিনহোর লক্ষ্যভেদে সব চাপ পেছনে ফেলে বসুন্ধরা কিংস সামনে এগোয় এবং ৯০ মিনিট শেষে যথারীতি জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে। ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্স থেকে আসা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পুলিশের বিপক্ষে আগের ম্যাচ জিতিয়েছিলেন জোড়া গোল করে। কাল কুমিল্লায় আরেক গোলে দলকে বিজয়ের আনন্দে ভাসিয়ে নিজেকে তুলে নিয়েছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। ড্যানিয়েল কলিনদ্রেসকে ভুলিয়ে নিজের আসনখানি পোক্ত করারই মিশনে যেন রোবিনহো!

কিংসে দুই মৌসুম কাটিয়ে কলিনদ্রেস ফিরে গেলেও ঢাকার ফুটবলানুরাগীদের স্মৃতিতে এখনো তিনি তরতাজা। কোস্টারিকান বিশ্বকাপারের দুই পায়ের ম্যাজিক, নিখুঁত ক্রসগুলো অত সহজে ভোলার নয়। গোল করার চেয়ে করানোটাই তিনি বেশি উপভোগ করতেন। তাঁকে বিদায় দিয়ে চ্যাম্পিয়নরা আনে ব্রাজিলের রবসন রবিনহোকে, যিনি গোল করা এবং করানোর কাজও ভালো করেন। ফেডারেশন কাপে এক দফা দেখিয়েছেন, এরপর প্রিমিয়ার লিগ শুরু হতেই গোলের পসরা খুলে বসেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনে আর্জেন্টাইন রাউল বেতেরা খেললেও তিন ম্যাচের দুটিই জিতিয়েছেন রবিনহো।

কুমিল্লার নতুন ভেন্যুতে ব্রাদার্সের বিপক্ষে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ ১০ জন মিলে রক্ষণ সামলানোর কাজ করলে যেকোনো ফরোয়ার্ডের জন্য বল জালে পাঠানো কঠিন। এর পরও ২০ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের ভাগ্য গড়তে পারত বসুন্ধরা কিংস। ১৬ মিনিটে বক্সে ঢুকে রবিনহো দুজনকে ফাঁকি দিয়ে জায়গা করে নিয়ে বাঁ পায়ে শট নিলেও গোলরক্ষক তিতুমীর দুর্দান্ত সেভ করেন। মিনিট চারেক বাদে দুই ব্রাজিলিয়ান রবিনহো-ফার্নান্দেজের কম্বিনেশনে জাগে নতুন সম্ভাবনা। জোনাথন ফার্নান্দেজের স্কয়ার করে বাড়ানো বলে রাউলের টোকা লাগলেই বল পৌঁছে যায় জালে, কিন্তু আর্জেন্টাইনের ব্যাক হিলটি বলেই লাগেনি। এরপর সময় এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাদার্স রক্ষণের আত্মবিশ্বাসও যেন বাড়তে থাকে। লিগে প্রথমবারের মতো বিরতির আগে গোল বের করতে না পেরে কিংস শিবির খানিকটা চাপে। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি ইব্রাহিম নামতেই বাঁ দিকের উইংয়ে যোগ হয় বাড়তি গতি। ৬৪ মিনিটে তাঁর বাড়ানো এক কাট-ব্যাকে গোলের সূত্রপাত, এরপর রবিনহো ডান পায়ের শটে সব প্রতিরোধ উড়িয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। ওই একবার শুধু রক্ষণভাগ অমনোযোগী হয়ে আনমার্কড রেখেছিল এই ব্রাজিলিয়ানকে, তারই চড়া মাসুল দিতে হয়েছে। আসলে মানসম্পন্ন ফুটবলারের বিপক্ষে রক্ষণ সামলে ম্যাচ বাঁচানো কঠিন। মুহূর্তের ভুলেই সব এলেমেলো হয়ে যায়। লিডের পর আরো কয়েকবার হানা দিলেও তারা ব্যবধান বড় করতে পারেনি। জোনাথন ও ইব্রাহিমের শট ঠেকিয়ে তিতুমীর স্কোরলাইনটা ভদ্রস্থ চেহারায় রেখেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা