kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

বাংলাদেশের রণকৌশল নিয়ে ধাঁধায় সিমন্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০২:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের রণকৌশল নিয়ে ধাঁধায় সিমন্স

১৮ জনের দলের এক-তৃতীয়াংশই পেসার। দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে এবার বোধ হয় দেশের মাটিতে রণকৌশল বদলাতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এমনিতে নিজেদের ডেরায় স্পিনসজ্জায় সজ্জিত হয়ে নামতে অভ্যস্ত দলটিতে এবার ছয়জন পেসারের উপস্থিতি। তবু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের সম্ভাব্য গতিবিধি নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না ফিল সিমন্স। বরং ২০ জানুয়ারির প্রথম ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের ওয়ানডে স্কোয়াড ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেড কোচকে ধাঁধায়ই ফেলে রাখছে। ধাঁধায় পড়ার কারণ, ‘এখনো তো ওদের চার মূল স্পিনার দলেই আছে।’

দলে পেসারের ছড়াছড়ি থাকলেও তাই বাংলাদেশের কৌশল আগাম অনুমান করতে পারছেন না সিমন্স। এই সিরিজ দিয়েই স্বাগতিকরা বাড়তি পেসার খেলায় কি না, সেটিও দেখতে মুখিয়ে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক এই অলরাউন্ডার। এমনিতে বাংলাদেশ সফর মানেই তিনি জানেন যে এখানে আতিথ্য দিতে তৈরি থাকে স্পিন উপযোগী উইকেট। বিশেষ করে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে তাদের অভিজ্ঞতা বরাবরই এ রকম। আর সে রকম কিছু মানেই নিচু ও অসমান বাউন্সের উইকেটে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস উঠে যাওয়ার দশা। একাদশে পেসার বাড়াতে গেলে নিশ্চয়ই সে রকম কোনো উইকেট রাখবে না স্বাগতিকরা। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিজেদের ব্যাটসম্যানদের পক্ষে কিছুটা হলেও অনুকূল হতে পারে বলে মনে করেন সিমন্স, ‘তারা দুই না তিনজন পেসার খেলায়, সেটি দেখার বিষয়। সে ক্ষেত্রে (বেশি পেসার খেলালে) আমরা হয়তো অনেক ভালো (আগের চেয়ে) উইকেটে খেলার সুযোগ পাব। উইকেট তখন ব্যাটিংয়ের জন্য ভালোই হবে। ছয় পেসার থাকাটা তাই ভালো ব্যাপারই হতে পারে আমাদের জন্য। এর পরও বলতে হয়, ওদের চার স্পিনার কিন্তু আছেই।’

স্পিনারদের নিয়ে সিমন্সের বাড়তি চিন্তাও অস্বাভাবিক নয়। ২০১৮ সালের সফরে দুই টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া ক্যারিবীয়রা স্পিনে রীতিমতো খাবি খেয়েছে। সফরকারীদের ৪০ উইকেটের সবকটিই নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গী নাঈম হাসান। তবে সেবার ২-১ ব্যবধানে হারা ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য ক্যারিবীয়রা ভিন্ন চিত্রই দেখেছিল। তিন ম্যাচেই বাংলাদেশ খেলিয়েছিল তিনজন করে পেসার। প্রথম দুই ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে খেলেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে রুবেলের জায়গা নিয়েছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। সেই ম্যাচে অফস্পিনার মিরাজের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে (৪/২৯) সিরিজ পকেটে পুরেছিল বাংলাদেশ। সাকিবও নিয়েছিলেন ৪০ রান খরচায় ২ উইকেট। প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার দিন অবশ্য উজ্জ্বল ছিলেন পেসাররাই। তিন পেসার মিলে তুলে নিয়েছিলেন ক্যারিবীয়দের ৭ উইকেট। হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের ৬ উইকেটের ৫টিই নিয়েছিলেন পেসাররা। তাই এবারও ওয়ানডে একাদশে তিন পেসারের উপস্থিতি নতুন কিছু হবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। সিমন্স সম্ভবত এর পরের টেস্ট সিরিজ নিয়েও ভাবনায় ডুবে আছেন। ওয়ানডে দলে সাকিব-তাইজুল-মিরাজের সঙ্গে আছেন নতুন মুখ মেহেদী হাসান। চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ফেললেও এখনো ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায়। আর মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিন, রুবেল ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে পেসার হিসেবে দলে আছেন আরো দুই নতুন মুখ—হাসান মাহমুদ ও শরীফুল ইসলাম। প্রথমজন দেশের হয়ে একটি টি-টোয়েন্টি খেললেও পরেরজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পাননি এখনো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা