kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

জিনিয়াস ‘জিকো’!

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ জানুয়ারি, ২০২১ ০৩:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিনিয়াস ‘জিকো’!

গত মৌসুম করোনায় কেটে যাওয়ার পর এই মৌসুমে দারুণ শুরু করেছেন ফেডারেশন কাপ দিয়ে। পাঁচ ম্যাচে হজম করেছেন মাত্র এক গোল।

বসুন্ধরা কিংসের শিরোপা জয়ের পর বিজয় মঞ্চে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণার সময় সতীর্থরা সোল্লাসে বলে ওঠে ‘জিকো, জিকো’। কিন্তু সবাইকে হতবাক করে ঘোষণা হয় আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড রাউলের নাম। ধন্দ লাগে গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোরও, ‘এত সেভের পরও আমি সেরা নই! আর কী করতে হবে, জানি না।’

এটা এক মহা বিস্ময়। পাঁচটি দুর্দান্ত সেভের পরও কিংস গোলরক্ষক ফেডারেশন কাপের ফাইনাল সেরা হননি। রহমতের তিনটি এবং কেনেথ এনোকির দুটি শটের একটি জালে গেলেও খুব দোষ দেওয়া যেত না গোলরক্ষককে। তাই প্রতিপক্ষ সাইফ স্পোর্টিংয়ের সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীর আক্ষেপ, ‘জিকোর অতিমানবীয় কিপিংয়ের কাছে হেরে গেলাম আমরা। আমাদের ম্যাচেই ফিরতে দিল না সে। জিনিয়াস জিকো!’ মনে মনে হয়তো তাঁকে হারানোর আফসোসও করছেন সাইফ সভাপতি। ২০১৭ সালে সাইফে এক মৌসুম খেলে আনিসুর যোগ দেন বসুন্ধরা কিংসে। সেখানেই শুরু বড় স্বপ্নের পানে যাত্রা। ২০১৮-১৯ মৌসুমে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে তাঁর মহা উত্তরণ হয়। আশরাফুল রানাকে টপকে তিনিই এখন জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষক। তার প্রতিদান দিয়েছেন এই গোলরক্ষক কাতারের সঙ্গে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে দুর্দান্ত সব সেভ করে।

এরপর পরশুর ফাইনালে ২৩ বছর বয়সীর অতিমানবীয় গোলরক্ষণের কীর্তিতে ফেডারেশন কাপের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতে বসুন্ধরা কিংস। এমন পারফরম্যান্সের পরও নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই রাখতে চান, ‘গোলরক্ষক হিসেবে নিজেকে কখনো পরিপূর্ণ ভাবি না। আরো পরিশ্রম করতে হবে নিজের পারফরম্যান্সের উন্নতির জন্য। তা ছাড়া আমি শুধু দেশে খেলব না, একসময় হয়তো বাইরে খেলার সুযোগ আসবে। সবই নির্ভর করবে আমার উন্নতি ও পারফরম্যান্সের ওপর।’ এরই মধ্যে বিদেশে খেলার অফারও পেয়েছেন তিনি, ‘তুরস্কের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে খেলার অফার এসেছিল। কিন্তু বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আমি চুক্তিবদ্ধ বলে ওই অফারে আর আলাপ চালিয়ে যাইনি। ভালো খেললে সামনে এ রকম প্রস্তাব আরো পাব।’

গত মৌসুম করোনায় কেটে যাওয়ার পর এই মৌসুমে দারুণ শুরু করেছেন ফেডারেশন কাপ দিয়ে। পাঁচ ম্যাচে হজম করেছেন মাত্র এক গোল। তবে খানিকটা সংশয় ছিল তাঁর মনে, ‘করোনার কারণে সবাই দীর্ঘদিন খেলার বাইরে ছিল। এরপর চারজন নতুন বিদেশি যোগ হয়েছে। তাই মাঠের খেলা কেমন হবে, এ নিয়ে আমাদের মধ্যে সংশয় ছিল। সব সন্দেহ-সংশয় কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রথম টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে মৌসুম শুরু করেছি, এটাই বড় ভালোলাগা।’ এই ভালোলাগার গল্পের মধ্য দিয়ে এই গোলরক্ষক টের পাচ্ছেন সামনে কঠিন প্রিমিয়ার লিগের বাস্তবতা, ‘বিভিন্ন দলে এবার অনেক ভালো বিদেশি এসেছে। লিগের লড়াই অত সহজ হবে না। শিরোপা লড়াই হয়তো চার দলের মধ্যে থাকবে। কিন্তু অনেক মাঝারি মানের দলের কাছেও হোঁচট খেতে পারে বড় দল।’ শুধু দলের নয়, গোলরক্ষক হিসেবে তাঁর নিজের লড়াইটাও কঠিন মানছেন, ‘ফেডারেশন কাপে যত বিদেশির মুখোমুখি হয়েছি, তাদের মধ্যে আবাহনী, শেখ জামাল ও সাইফের বিদেশি ফরোয়ার্ড খুব ভালো। বিশেষ করে সাইফের নাইজেরিয়ানের (কেনেথ এনোকির) শটে খুব জোর।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা