kalerkantho

সোমবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭। ১ মার্চ ২০২১। ১৬ রজব ১৪৪২

একাধিক বিয়ে, গৃহকর্মী নির্যাতন : যেভাবে ধ্বংস হলো এক অসাধারণ প্রতিভা

অনলাইন ডেস্ক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৯:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একাধিক বিয়ে, গৃহকর্মী নির্যাতন : যেভাবে ধ্বংস হলো এক অসাধারণ প্রতিভা

ভারতীয় ক্রিকেটে অমিত সম্ভাবনাময় দুই ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার এবং বিনোদ কাম্বলি। একজন ক্যারিয়ার শেষে হয়ে গেছেন 'ক্রিকেট ঈশ্বর'। আরেকজন আজীবন বন্ধুর ছায়ায় থেকেই কাটাচ্ছেন। তিনি বিনোদ কাম্বলি। যাকে শচীনের চেয়েও প্রতিভাবান হিসবে অনেকে উল্লেখ করেন। কিন্তু বেপরোয়া জীবনযাপন করে নিজের ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করেছেন কাম্বলি। টেন্ডুলকারের সঙ্গে তার বন্ধুত্বেও চিড় ধরেছিল। আজ জেনে নেওয়া যাক এক অসাধারণ প্রতিভার ধ্বংসের কাহিনী। 

কাম্বলির জন্ম ৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি মুম্বাইয়ের শহরতলি কঞ্জুরমার্গে। চাওলের ঘিঞ্জি ঘরে ৩ ভাই এবং ১ বোন-সহ যৌথ পরিবারের মোট ১৮ জন সদস্যের সঙ্গে তিনি বড় হয়েছেন। দারিদ্রবিদ্ধ শৈশবে দাঁতে দাঁত চেপে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখে গেছেন। ভিড় লোকাল ট্রেনে করে কঞ্জুরমার্গ থেকে আসতেন মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে। রমাকান্ত আচরেকরের কাছে ক্রিকেট শিখবেন বলে।রমাকান্ত আচরেকরের শিষ্যত্বের সূত্রে শচীনের সঙ্গে তার বিরাট বন্ধুত্ব হয়। তাদের অভিন্নহৃদয় বন্ধুত্ব এবং স্কুল ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্স বহুল আলোচিত। 

১৯৮৮ সালে মুম্বাইয়ের স্কুল ক্রিকেটে হ্যারিস শিল্ডে সেন্ট জেভিয়ার্সের বিপক্ষে ৬৬৪ রানের জুটি গড়ে নিজেদের নাম রেকর্ড বইয়ে লেখান শচীন-কাম্বলি। সেই ম্যাচে কাম্বলি করেছিলেন ৩৪৯ রান। পরে তিনি বল হাতে ৩৭ রানে প্রতিপক্ষের ৬ উইকেট তুলে নেন। এরপর ১৯৯১-৯২ মৌসুমে স্কুল স্তর এবং ঘরোয়া ক্রিকেট পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাম্বলির অভিষেক হয়। ১৯৯১ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। তার ২ বছর পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকও হয়ে যায়। ১৭ টেস্টে ৫৪.২০ গড়ে করেছেন ১০৮৪ রান। সর্বোচ্চ ২২৭। ১০৪টি ওয়ানডেতে কাম্বলির সংগ্রহ ২,৪৭৭ রান। সর্বোচ্চ ১০৬। 

১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কাঁদতে কাঁদতে ইডেন গার্ডেন ছেড়ে কাম্বলির বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এখনও ভুলতে পারেননি ক্রিকেটপ্রেমীরা। ধারাবাহিকতার অভাবে তার টেস্ট ক্যারিয়ার স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ২ বছর। শেষ দিকে ওয়ানডে দলেও নিয়মিত ছিলেন না। ২০০০ সালে খেলেন শেষ ওয়ানডে। ২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার ২ পর ঘরোয়া ক্রিকেটকে বিদায় জানান কাম্বলি। যার ব্যক্তিগত জীবন বিতর্কে ভরা। 

নব্বই দশকে কাম্বলি বিয়ে করেন নোয়েলা লুইসকে। নোয়েলা ছিলেন হোটেলের রিসেপশনিস্ট। দাম্পত্যের কয়েক বছরের মধ্যেই তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরা পড়ে। শেষে তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পরে কাম্বলি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মডেল অ্যান্দ্রিয়া হেউইটের সঙ্গে। তবে সম্পর্কের প্রথম কয়েক বছর তারা অনুষ্ঠানিক বিয়ে করেননি। শুধু রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ের পরে ধর্মান্তরিত হন কাম্বলি।

২০১৪ সালে বান্দ্রার সেন্ট পিটার্স গির্জায় ক্যাথলিক মতে কাম্বলি-অ্যান্দ্রিয়ার বিয়ে হয়। শুধু নিকট পরিজনদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া পরিবেশে এই বিয়ে হয়। ২০১৩ সালের নভেম্বরে চেম্বুর থেকে গাড়ি চালিয়ে বান্দ্রা যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হন কাম্বলি। এক পুলিশকর্মীর তৎপরতায় তাকে লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পরে আধ্যাত্মিক জীবনের প্রতি তার আগ্রহ বাড়ে। সিদ্ধান্ত নেন ধর্মীয় মতে বিয়ে করার। কিন্তু এই দাম্পত্যেও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সস্ত্রীক কাম্বলি। 

কয়েক বছর আগে অভিযোগ ওঠে, বাড়ির গৃহকর্মী সোনি সরসলের উপর লাগাতার মানসিক নির্যাতন চালিয়ে গেছেন বিনোদ কাম্বলি এবং তার স্ত্রী অ্যান্দ্রিয়া। এমনই পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছিল, নির্যাতিত গৃহকর্মী ফিনাইল পান করে আত্মহত্যা করারও চেষ্টা করেছিলেন।গৃহকর্মী সোনির অভিযোগ ছিল, তাকে বাড়ি ফিরতে দিতেন না কাম্বলি এবং তার স্ত্রী। বেতন দাবি করলে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখতেন। তালাবন্ধ ঘরে। কাম্বলি দম্পতির বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করেন সোনি। এই ঘটনার বছর তিনেক পরে মুম্বাইয়ের এক শপিং মলে গায়ক অঙ্কিত তিওয়ারির বাবা রাজ তিওয়ারিকে নির্যাতন করার দায়ে অভিযুক্ত হন এই দম্পতি। 

কৈশোরে যে টেন্ডুলকার-কাম্বলি বন্ধুত্ব ছিল সকলের আলোচনার বিষয়। কিন্তু শচীনের ক্যারিয়ারের শেষদিকে দুজনের সম্পর্কে ফাটল ধরে। কাম্বলির বিতর্কিত জীবন মেনে নিতে পারেননি টেন্ডুলকার। তিনি ধীরে ধীরে সম্পর্কে দূরত্ব বাড়িয়ে দেন। কয়েক বছর আগে কাম্বলি একটি টিভি শোয়ে এসে বলেছিলেন,  নিজের শেষ টেস্টে বিদায়ী বক্তব্যে একবারও তার কথা উল্লেখ করেননি বাল্যবন্ধু টেন্ডুলকার। অবসর গ্রহণের পর শচীনের পার্টিতেও তিনি আমন্ত্রণ পাননি। জীবনের কঠিন সময়ে বন্ধু টেন্ডুলকার তার পাশে ছিলেন না বলেও আক্ষেপ করেন কাম্বলি। ক্রিকেট ছেড়ে অভিনয়, রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা করেছেন কাম্বলি। তবে সেখানেও ব্যর্থ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা