kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নাটকীয় ম্যাচে ১ রানে জিতল চট্টগ্রাম

অনলাইন ডেস্ক   

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:০৪ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নাটকীয় ম্যাচে ১ রানে জিতল চট্টগ্রাম

বঙ্গবন্ধু টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে নাটকীয় এক ম্যাচ দেখল দর্শকরা। শেষ মুহূর্তের নাটকে শেষ হাসি হাসে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দলের লড়াইয়ে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীকে ১ রানে হারিয়েছে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম।

আগে ব্যাট করে লিটনের হাফসেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম। জবাবে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান করে থামে রাজশাহী। এটি চার ম্যাচে চতুর্থ জয় চট্টগ্রামের। অন্যদিকে চার ম্যাচে এটি দ্বিতীয় হার রাজশাহীর। ম্যাচ শুরুর আগে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা রাজশাহী এ হারে নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে। রান রেটে এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে জেমকন খুলনা।

১৭৭ রান তাড়া করতে নেমে রাজশাহীকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু করেন ইমন। পরের ওভারে এক্সট্রা কভার দিয়ে শরীফুলকে চার মারেন শান্ত। নাহিদুলের করা তৃতীয় ওভারে চার মেরে শান্তকে স্ট্রাইক দেন ইমন। শেষ তিন বলে জোড়া ছক্কা হাঁকান রাজশাহী অধিনায়ক, ৩ ওভারে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০ রান।

শরীফুলের করা প্রথম ওভারে ঠিক ব্যাটে-বলে করতে পারেননি ইমন। সেই শোধটা পরের ওভারেই নিয়ে নেন ২৩ বছর বয়সী এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান। প্রথম বলে শান্তর কাছ থেকে সিঙ্গেল পাওয়ার পর শেষ পাঁচ বলে হাঁকান তিন বাউন্ডারি। শেষ বলে আপার কাটে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে দৃষ্টিনন্দন চারের মারে ওভারটি শেষ করেন ইমন।

দুই ওপেনারের সাবলীল ব্যাটিংয়ে চট্টগ্রামের মতোই পঞ্চম ওভারে দলীয় ফিফটি পূরণ হয় রাজশাহীর। তবে পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে আক্রমণে এসেই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। ষষ্ঠ ওভারের চতুর্থ বলটি লেগস্ট্যাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। দূর থেকে খেলার চেষ্টা করেন শান্ত, ব্যাটে আলতো ছুঁয়ে চলে যায় উইকেরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে, ভেঙে যায় ৩৪ বলে ৫৬ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে ২টি করে চার ও ছয়ের মারে ১৪ বলে ২৫ রান করেন শান্ত।

অধিনায়ক ফিরে গেলে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে জুটি গড়েন ইমন। দুজনের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১২ ওভারে পূরণ হয় দলীয় শতক। নবম ওভারে তাইজুলের ওভারে স্লগ সুইপে ছক্কা হাঁকানোর পর স্কয়ার কাটে বাউন্ডারি মারেন ইমন, তুলে নেন নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন ইমন। দলের আশা বাঁচিয়ে রেখে ৩৫ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ের মারে ফিফটি পূরণ করেন তিনি।

তবে এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি। জিয়াউর রহমানে নিচু হয়ে আসা ডেলিভারিতে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে, খেলেন ৪৪ বলে ৫৮ রানের ইনিংস। ইমনের আগেই অবশ্য সাজঘরে ফিরে যান আশরাফুল। মোসাদ্দেক সৈকতের ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে টপ এজে ধরা পড়েন ফাইন লেগে দাঁড়ানো মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে। আশরাফুলের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ২০ রান।

সেট ব্যাটসম্যানদের উইকেট হারিয়ে পুরো দায়িত্ব বর্তায় নিচের দিকে থাকা শেখ মেহেদি হাসান, ফজলে রাব্বি, নুরুল হাসান সোহানদের কাঁধে। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলে মেহেদি আউট হন ১৭ বলে ২৫ রান করে। ফজলে রাব্বির ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ১১ রান। ফলে শেষ ১৭ বলে জয়ের জন্য বাকি থাকে ৩৫ রান। তখন উইকেটে ছিলেন সোহান ও ফরহাদ রেজা।

মোস্তাফিজের করা ১৮তম ওভারে একটি ছক্কা হাঁকালেও আসে মাত্র ৮ রান। শরীফুলের করা ১৯তম ওভারের তৃতীয় ও চতুর্থ বলে পরপর চার ও ছয় মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন ফরহাদ রেজা। কিন্তু পঞ্চম বলে সাজঘরে ফিরে যান ৫ বলে ১২ রান করা ফরহাদ। শেষ ওভারে রাজশাহীর লক্ষ্য দাঁড়ায় ৬ বলে ১৪ রান।

শেষ ওভারে বল হাতে আসেন মোস্তাফিজ, প্রথম বলেই সাজঘরের পথ দেখান ১ ছয়ের মারে ৮ রান করা নুরুল সোহানকে। পরের দুই বল ডট খেলেন রনি তালুকদার। তবে চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ফের জমান ম্যাচ, পঞ্চম বলে ব্যাটের কানায় লেগে হয় ৪। শেষ বলে যখন জয়ের জন্য দরকার ৪ রান, তখন লংঅনে মেরে ২ রানই নিতে সক্ষম হন রনি। ফলে ১ রানের রোমাঞ্চকর জয় পায় টেবিল টপার চট্টগ্রাম।

এর আগে, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন রাজশাহী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। চট্টগ্রামের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নামেন লিটন দাস ও সৌম্য সরকার। দুজনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দ্রুত এগোতে থাকে মোহাম্মদ মিঠুনের দল।

দলীয় ৬২ রানে সৌম্য আউট হলে ক্রিজে আসেন মিঠুন। এর আগে ৩৪ রান করেন সৌম্য। মিঠুন ফেরেন ১১ রানে। শামসুর রহমানও ১ রানের বেশি করতে পারেননি। এর মাঝে এক প্রান্ত ধরে রাখার পাশাপাশি উইকেটের চারদিকে বাহারি সব শটে ফিফটি তুলে নেন লিটন দাস।

শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকেন লিটন। শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ৭৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে সৈকত করেন ৪২ রান।

রাজশাহীর হয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন ফরহাদ রেজা ও আনিসুল ইসলাম ইমন।

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহী। তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে তিন ম্যাচে দুই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজশাহী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা