kalerkantho

শুক্রবার । ৮ মাঘ ১৪২৭। ২২ জানুয়ারি ২০২১। ৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মুক্তির আনন্দ নিয়ে জেমি যাচ্ছেন দোহায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তির আনন্দ নিয়ে জেমি যাচ্ছেন দোহায়

মুক্তির স্বাদ যে কত মধুর সেটা জেমি ডে’কে না দেখলে বোঝা যাবে না। একই সঙ্গে করোনা এবং ‘কারামুক্তি’! ‘কারাবন্দির মতোই এ কয়টি দিন কেটেছে। কারো সঙ্গে দেখা করার উপায় নেই। সঙ্গে নিজের এবং পরিবারের দুশ্চিন্তা মিলিয়ে ভীতিকর অবস্থার মধ্যে ছিলাম। তাই নেগেটিভ হওয়ার খবরের আনন্দ যে কী’, করোনা নেগেটিভ হওয়ার রিপোর্ট যেন তাঁর কাছে মুক্তির সনদ। সেটা হাতে পেয়ে নিজ দেশে পরিবারকে সুখবরটি দিয়েই বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ আজ কাতার রওনা হচ্ছেন শিষ্যদের সঙ্গে যোগ দিতে।

করোনায় ভীষণ ভয় ছিল এই ইংলিশ ফুটবল কোচের। মহামারি শুরুর পর নিজের দেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি একরকম ঘরবন্দিই ছিলেন সাত মাস। সেই মানুষ ঢাকায় এসে পড়েছেন করোনার কবলে। গত ১৩ নভেম্বর ঢাকায় নেপালের সঙ্গে প্রথম ম্যাচের পর করোনায় আক্রান্ত হন জেমি। স্বাভাবিকভাবে ১৭ তারিখ দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি আর ডাগআউটে দাঁড়াতে পারেননি। এরপর কোচকে দেশে আইসোলেশনে রেখে বাংলাদেশ ফুটবল দল কাতার রওনা হয়। এদিকে কয়েকবার কোচের করোনা পরীক্ষা করিয়েও ফল ইতিবাচক হয়নি। ‘তিন সপ্তাহ খুব কঠিন সময় কেটেছে আমার। মোটেও সুখকর কিছু নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব বাজে অবস্থায় ছিলাম। করোনার লক্ষণগুলো সব ছিল আমার, খুব অসহায়ের মতো হোটেলের এক রুমে নিঃসঙ্গ দিন কাটিয়েছি। কী যন্ত্রণার দিন যে গেছে। এখন আমি আবার খেলায় মনোযোগী হব, সামনের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি এবং দলের সঙ্গে যোগ দেব’, দোহা রওনা হওয়ার আগে থেকেই ৪২ বছর বয়সী কোচের মাথায় শুরু হয়েছে কাতার-বাংলাদেশ ম্যাচের ভাবনা। আগামী ৪ ডিসেম্বর বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফিরতি ম্যাচটি হবে দোহায়।

জেমি ডের ইচ্ছা ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ানোরও। কিন্তু কাতারে কোয়ারেন্টিনের কড়া বিধি-নিষেধ পেরিয়ে কি সেটা সম্ভব হবে? তিন দিনের আগে বাংলাদেশ দলকেই মাঠে নামতে দেয়নি। বাফুফে অবশ্য কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কথা বলছে, যেন তার বেলায় কোয়ারেন্টিন শিথিল করা হয়। এত দিন দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে না থাকলেও সব খবরাখবর তাঁর আছে, ‘সবাই সুস্থ এবং ফিট আছে। আমি মনে করি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফুটবলারদের যতটা সম্ভব ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। আমরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছি নতুন অভিজ্ঞতার জন্য। ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য আনন্দের যে অনেক দিন পর দলের খেলোয়াড়সহ সবাইকে কাছে পাব। গত দুই-তিন সপ্তাহ তাদের মিস করেছি আমি।’ ফুটবলাররাও তাঁর শূন্যতা অনুভব করছিলেন। প্রধান কোচের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সবার যে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘাটতিটুকু খানিকটা হলেও প্রভাব ফেলে ম্যাচে।

জেমির অসুস্থতায় এত দিন প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছিলেন তাঁর সহকারী স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস। দেশে নেপালের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই জাতীয় দলের দায়িত্বে ওয়াটকিস, এ ছাড়া কাতারে প্রশিক্ষণ ও দুটি প্র্যাকটিস ম্যাচও খেলেছে তাঁর অধীনে। জেমি গেলেও খুব বেশি পরিবর্তন হবে না, ‘বেশি কিছু পরিবর্তন হবে না। অভিজ্ঞ স্টুয়ার্টের তত্ত্বাবধানে দল তৈরি হয়েছে। তিনি চমৎকার কাজ করেছেন। আমি কেবল তাদের সঙ্গে যোগ দেব। আমি আবার আগের মতো একদিকে দাঁড়িয়ে খেলা দেখব এবং ম্যাচে মনোযোগী হব।’ তবে কে না জানে, নিয়মিত কোচের ছায়া যেকোনো জাতীয় দলের জন্যই বড় অনুপ্রেরণা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা