kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

শরিফুলের ৩ উইকেট

বরিশালকে হারিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম

সাইদুজ্জামান    

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০২:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বরিশালকে হারিয়ে শীর্ষে চট্টগ্রাম

ছবি : মীর ফরিদ

পোলাও, চায়নিজ ভেজিটেবল, লেগ পিস রোস্ট আর পায়েসের পর চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে লিটন দাসের ব্যাটিং—গতকাল দুপুরের ট্রিটটা মনে হচ্ছিল জমে গেল বলে। কিন্তু গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম ও ফরচুন বরিশালের ম্যাচটি দেখে বিশ্বাসটা আরো গভীর হলো যে টি-টোয়েন্টির গুরুপাক এখনো সয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ!

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এক রকম গুরুপাকই। ক্রিকেট ব্যাকরণ ইম্প্রোভাইজ করে করে কত রকমের নতুন শট যে ব্যাটসম্যানকুল বাজারে এনেছেন। টেকনিক তো অনস্বীকার্য। তবে দিন শেষে পাওয়ারটাই এ ফরম্যাটে মুখ্য। তাই চার-ছক্কার ভাজা-পোড়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট শুধু তারুণ্য দিয়েই জয় করা যায় না। যায় না বলেই চট্টগ্রামের ১৫১ রানের ইনিংস টপকাতে গিয়ে হাঁসফাঁস করতে করতে ১৪১ রানে গিয়ে থামে বরিশালের ইনিংস। আর ১০ রানের এ জয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ‘লো প্রফাইলর’দের নিয়ে গড়া গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম, চলমান বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে বড় চমক।

টুর্নামেন্টের সপ্তম ম্যাচে এসে ক্রিকেটীয় চমক বলতে একটি ঘটনাই মনে পড়ছে—আরিফুল হকের চার-ছক্কায় ম্যাচ জেতানোর ঘটনাটি। সে ম্যাচেরও প্রতিপক্ষ ফরচুন বরিশাল। শেষ ওভারে এমন কাণ্ডে ব্যাটসম্যানের সামর্থ্যের সঙ্গে জুটি বাঁধা লাগে ভাগ্যেরও। ধরে নেওয়া যাক, খুলনার কাছে হারা ম্যাচটিতে হয়তো ফরচুন বরিশালের পক্ষে ভাগ্য ছিল না। কিন্তু গতকাল ভাগ্যকে ঢাল করার কোনো সুযোগ নেই। বরং মনে হলো, কিভাবে সম্ভাব্য জেতা ম্যাচ হারা যায়, তারই ‘ডেমো’ দিল বরিশাল! জয়ের জন্য ১৫২ রান তাড়া করতে গিয়ে নিয়মিত ওপেনার পারভেজ হাসান ইমনকে রেখে মেহেদী হাসান মিরাজকে কেন তামিম ইকবালের সঙ্গী করতে হবে, বোঝা মুশকিল। লক্ষ্য খুব বড় হলে না হয় বোঝা যেত মিরাজকে ‘স্যাক্রিফায়েস’ করে হলেও দ্রুত রান তুলতে চায় বরিশাল। সে রকম কোনো পরিস্থিতি ছিল না। ১৩ বলে ১৩ রান করে বিদায় নিয়ে গোলমেলে সে পরিকল্পনায়ও জল ঢেলে দিয়ে গেছেন মিরাজ। কচুরিপানায় ভরা সেই জলে বরিশালের রানের ইঞ্জিন পেয়ে এক রকম বিকলই করে দেন চট্টগ্রামের বোলাররা।

দলটির বোলিং ইউনিটের ডাকসাইটে নেতা মুস্তাফিজুর রহমান। ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনিই সফলতম। তবে বাঁহাতি এ পেসার আক্রমণে আসার আগেই অন্যরা বরিশালের অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৮০-র নিচে নামিয়ে দেন! দলটির ব্যাটিং নিউক্লিয়াস তামিম, আফিফ হোসেন, ইরফান শুক্কুরও বাঁহাতি। তাই নাহিদুল ইসলামের সঙ্গে এ ম্যাচে আরেক অফস্পিনার সঞ্জিত সাহাকে খেলিয়েছে চট্টগ্রাম। সঙ্গে খণ্ডকালীন অফস্পিনে বরিশালের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড তামিমকে তুলে নেন মোসাদ্দেক হোসেন। তিন অফস্পিনার মিলে এই একটিই উইকেট নিয়েছেন বটে। তবে তাঁদের করা ১০ ওভারে ৬৩ রান তোলা বরিশালকে বাধ্য হয়েই চার্জ করতে হয়েছে পেসারদের। কিন্তু তরুণ হলেও শরিফুল ইসলাম গলির বোলার নন। মুস্তাফিজকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দরকার নেই। বরিশালের রানের আহাজারির মধ্যে দুজন মিলে ৬ উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এমনি এমনি তো আর আগের দুই ম্যাচে জেমকন খুলনা কিংবা বেক্সিমকো ঢাকাকে ১০০-এর নিচে গুটিয়ে দেয়নি চট্টগ্রাম।

৩ নম্বর ম্যাচে এসে তাই নতুন পরীক্ষাও দিতে হয়েছে চট্টগ্রামকে। আগের ম্যাচ দুটি বোলারদের কল্যাণে ব্যাটিং সামর্থ্যের পরীক্ষাই দিতে হয়নি টেবিল টপারদের। সেটি মনে করেই গতকাল টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আবু জায়েদকে তুলে মারতে গিয়ে সৌম্য সরকার উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পর একজন টিপ্পনীও কাটলেন—৮৬ তাড়া করা আর টার্গেট সেট করা এক কথা নয়! কিন্তু লিটন দাসের ব্যাট যেন নির্বিকার। কোনো টি-টোয়েন্টিসুলভ হুড়াহুড়ি নেই। তাসকিন আহমেদ, সুমন খানদের এক জোড়া করে বাউন্ডারি হাঁকালেন ক্রিকেটীয় শটে পাওয়ার মিশিয়ে। কিন্তু একালের লিটন যেন সেকালের অলক কাপালি। যতটা সম্ভাবনা জাগিয়ে আকৃষ্ট করবেন দর্শককে, ঠিক ততটাই বিকর্ষিত করবেন অপ্রয়োজনীয় কোনো শটে। মিরাজকে শর্ট ফাইন লেগের ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে নিজেই ফিরেছেন সাজঘরে। তবু ২৫ বলে লিটনের ৩৫-ই ম্যাচ সর্বোচ্চ ইনিংস।

অতঃপর টি-টোয়েন্টিকে গুরুপাকের ক্রিকেট না বলে উপায় আছে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা