kalerkantho

সোমবার । ১১ মাঘ ১৪২৭। ২৫ জানুয়ারি ২০২১। ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘হার্ডল’ শীর্ষ ক্রিকেটারদের সামনেও

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০৩:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘হার্ডল’ শীর্ষ ক্রিকেটারদের সামনেও

ক্রিকেট আয়োজনেও যেন রীতিমতো অ্যাথলেটিকসের ‘হার্ডলস’ই চলছে। করোনায় থমকে যাওয়া ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর চিন্তায় নানা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকির ভাবনায় এক পা এগিয়ে দুই পা পিছিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছিল। তবে সে অচলাবস্থা ভাঙে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ নামের তিন দলের ওয়ানডে আসর দিয়ে। সেটি নির্বিঘ্নেই হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কলেবর আরো বাড়িয়ে পাঁচ দলের বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করতেই করোনার হাওয়া লেগে যায় শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের গায়ে।

টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকের আগে করোনা পজিটিভ হয়ে ঘরবন্দি হয়ে যান বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহও। তবে অবস্থা এমন যে থেমে থাকার উপায় ছিল না। জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফর সমাগত যখন, তখন মাঠে ক্রিকেট রাখার দায়ও তো কম নয়। দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর আগে তাই জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরি করে এই আসর সফলভাবে আয়োজনের ‘হার্ডল’ও পেরোতে হবে সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনকে। সেটি পেরোনোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েই আজ মাঠে গড়াচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি আদলের বঙ্গবন্ধু কাপ।

যে আসরে দেশের শীর্ষ এবং তারকা ক্রিকেটারের অনেকের সামনেও নির্দিষ্ট হার্ডল পার করার লক্ষ্য থাকছে। আজ দুপুর দেড়টায় শুরু হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর প্রতিপক্ষ বেক্সিমকো ঢাকার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের কথাই ধরুন। বিপিএলের (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) অন্যতম সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেটি পূরণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে বেক্সিমকোরই দলে সুযোগ পেয়ে। একটি স্বপ্ন পূরণের পর এবার আরেকটি অধরা স্বপ্নেরও নাগাল পেতে চান ঢাকা শিবিরের অধিনায়ক। আসর শুরুর আগের দিন দেশসেরা এই ব্যাটসম্যান বললেন সে কথাই।

বিপিএলের প্রথম ছয় আসর খেলেও কখনোই নিজের দলকে ফাইনালে নিয়ে যেতে পারেননি মুশফিক। সপ্তম অর্থাৎ সব শেষ আসরে পেরেছেন, তাঁর দারুণ পারফরম্যান্স খুলনা টাইগার্সকে ফাইনালে পৌঁছে দিতে রাখে বিশাল ভূমিকা। সম্প্রতি বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপেও ফাইনালের পথে নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং মুশফিকের। কিন্তু ফাইনাল খেললেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তাঁর। গত বিপিএলের ফাইনালে আন্দ্রে রাসেলের রাজশাহীর কাছে হেরে যায় খুলনা। আর মাহমুদ উল্লাহ একাদশের কাছে হার বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনালে। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার সেই অপূর্ণতাই এবার মুশফিক ঘোচাতে চান বঙ্গবন্ধু কাপে, ‘প্রতি টুর্নামেন্টেই সুযোগ থাকে। সব শেষ যে দুটি টুর্নামেন্টে (বিপিএল ও প্রেসিডেন্টস কাপ) খেলেছি, শেষ হার্ডলটি পার হতে পারিনি। তবে এটি একটি ধারাবাহিকতাও যে আমি টানা দুটি টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পেরেছি। আশা থাকবে, এবার যেন একেবারে শেষ পর্যন্ত যেতে পারি।’

মুশফিকের দলের প্রতিপক্ষ রাজশাহীর মোহাম্মদ আশরাফুলের সামনে আবার অন্য রকম এক হার্ডল। ঢাকা এবং এর আশপাশে নানা জায়গায় ম্যাচ প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন পর আনুষ্ঠানিক ক্রিকেটে আজই ফিরছেন। এ আসরটি তাঁর নিজের ভাষায় নতুন করে নিজেকে প্রমাণের চ্যালেঞ্জও। সেই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ জাতীয় দলে আরেকবার খেলার দূরতম স্বপ্নকে কাছাকাছি আনারও। এ রকম হার্ডল সামনে আজ সন্ধ্যার ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাওয়া দুই দল জেমকন খুলনা ও ফরচুন বরিশাল দলের শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদেরও। অন্যদের মতো ড্রাফট থেকেই খেলোয়াড় বেছে নেওয়া বরিশালের দলটি তেমন সুবিধার হয়নি বলে প্রকাশ্যেই মন্তব্য করেছেন এর অধিনায়ক তামিম ইকবাল। কাজেই এ দলটিকে সামনে এগিয়ে নিতে নিজের দারুণ নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের যুগলবন্দিই চাই তামিমের। সে জন্য ‘আউট অব দ্য বক্স’ কিছু করতেও মরিয়া এ ওপেনার। আজ তাঁর দলের প্রতিপক্ষ খুলনার সাকিব আল হাসানের হার্ডল হলো নিষেধাজ্ঞা শেষে এ আসর দিয়ে ক্রিকেটে ফিরেই যত দ্রুত সম্ভব নিজের চেনা ছন্দ ধরে ফেলা। যদিও সতীর্থ-প্রতিপক্ষ-নির্বিশেষে সবাই বলছেন যে সেটি ধরতে খুব বেশি সময় নেবেন না ওয়ানডের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু না ধরা পর্যন্ত তো হার্ডলটি থাকছেই। যেমন টুর্নামেন্ট সফলভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকছে বিসিবির সামনেও।

অবশ্য পরিস্থিতি এমন যে আসর চলাকালীন করোনাকে কাছে ঘেঁষতে না দেওয়াই এখন পাবে সেরা সাফল্যের মর্যাদা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা