kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

বার্কোসের জায়গায় আরেক আর্জেন্টাইন

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০২:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বার্কোসের জায়গায় আরেক আর্জেন্টাইন

‘বার্কোসের প্রফাইলের সঙ্গে হয়তো ওর তুলনা হবে না। তবে অস্কারকে আমরা নিচ্ছি প্রফাইল দেখে নয়, ওর খেলা দেখে। ওর বিভিন্ন ম্যাচ ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মনে হয়েছে ও আমাদের প্রত্যাশা মেটাতে পারবে।’ নতুন স্ট্রাইকার রাউল অস্কার বেসেরাকে নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে বলছিলেন বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান। অস্কারও আর্জেন্টাইন, চিলির নাগরিকত্বও আছে। চিলি, ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনার লিগেই লম্বা সময়ের ক্যারিয়ার, সর্বশেষ খেলেছেন কাতার প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব উম সালালে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলা হার্নান বার্কোসের জায়গা নিতে যাচ্ছেন এই স্ট্রাইকার।

লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলা একজন ফুটবলারের প্রফাইলের সঙ্গে যে কাউকে মেলানোটা কঠিনই। তা ছাড়া কোপা সুদামেরিকানার অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার ছিলেন বার্কোস। বাংলাদেশে এসেও এক ম্যাচে ৪ গোল করে তিনি যে চমক দেখিয়েছেন, সেই স্মৃতি এ দেশের ফুটবলপ্রেমীরা ধরে রাখবে অনেক দিন। বার্কোসের বিকল্প তাই হয়তো নন অস্কার, তবে বসুন্ধরার জার্সি গায়ে তিনিও এ দেশের লিগ মাতাতেই আসছেন। কাতার স্টারস লিগে এ বছরই ১১ ম্যাচে ৪ গোল তাঁর, তার আগে ইকুয়েডর প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব দেপোর্তিভো কোয়েন্সার হয়ে ১৯ ম্যাচে করেছেন ১৪ গোল। ছয় ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার ৩৩ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার ঢাকার মাঠে ব্যবধান গড়ে দেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা। অস্কারকে দিয়ে বসুন্ধরা বিদেশি চার ফুটবলারের কোটা পূরণ করল। এর আগে দুই ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার রবিনহো ও জোনাথন ফার্নান্দেজ এবং মাঝে ইরানি ডিফেন্ডার খালেদ শাফিইর সঙ্গে চুক্তি করেছে তারা। অস্কারের সঙ্গেও এক বছরের চুক্তি। আজ থেকে ২০২০-২১ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক দলবদল শুরু হচ্ছে। বিদেশি খেলোয়াড়দেরই মূলত দলবদল হবে। লিগ চ্যাম্পিয়নরা সবার আগে ঘর গুছিয়ে নিয়েছে। অন্যদের তেমন তৎপরতাই নেই।

আবাহনীর কোচ মারিও লেমোস এখনো যেমন বাংলাদেশে আসেননি। চার বিদেশির ক্ষেত্রে নতুন একজন এশিয়ান ফুটবলার নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ক্লাব ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু। সানডে চিজোবা, কেরভেন্স বেলফোর্টের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মেইলসন আলভেসকে ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে সেটিই চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন রুপু। গত লিগটা দারুণভাবে শুরু করা চট্টগ্রাম আবাহনী দল নিয়ে এখনো অন্ধকারে। ম্যানেজার আরমান আজিজ যেমন বলছিলেন, ‘আমাদের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিদেশি খেলোয়াড়ের বিষয়টি এখনো আমরা চূড়ান্ত করতে পারিনি। গতবারের বিদেশিরা দারুণভাবে মৌসুমটা শুরু করেছিল, ওদের সঙ্গে আমরা কথাবার্তা বলে রেখেছি। তবে এখনো চূড়ান্ত করতে পারিনি।’ একই কারণে মারুফুল হকের দায়িত্বে থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি। শেখ রাসেলেরও বিদেশি চূড়ান্ত করা এখনো বাকি। কোচ সাইফুল বারী খুব সম্ভবত দায়িত্বে থাকছেন। ক্লাবের পরিচালক (ক্রীড়া) সালেহ জামান এটা নিশ্চিত করেছেন, গত মৌসুমের চার বিদেশির কেউ থাকছে না আবার, ‘নতুন বিদেশি নিয়ে আমরা আবার দলটা ঢেলে সাজাব। একজন স্টপার, একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ও একজন স্ট্রাইকার নেব। কিছু খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে, এখন যাচাই-বাছাই চলছে।’ সাইফ স্পোর্টিং গত মৌসুমের মতো এবারও হাই প্রফাইল বিদেশির দিকে ঝুঁকছে না। বেলজিয়ান কোচ পল পুটকে নিশ্চিত করেছে তারা, আর বিদেশি ফুটবলার তারা নেবে ট্রায়ালের মাধ্যমে। জামাল ভূঁইয়ার কলকাতা মোহামেডানে যাওয়ার গুঞ্জন অবশ্য এখন থামেনি, তিনি যদিও বলছেন আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব তিনি এখনো পাননি।

এদিকে গত ৩০ অক্টোবর শেষ হয়েছে স্থানীয় ফুটবলারদের ছাড়ার সময়সীমা। শীর্ষ দলগুলোর কোনোটিই উল্লেখযোগ্য কোনো ফুটবলার ছাড়েনি। আরামবাগ অবশ্য গত মৌসুমের ১৭ জন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়েছে। তরুণদের নিয়ে তারা দল গড়ছে, ভারতীয় কোচ সুব্রত ভট্টাচার্যের পাশাপাশি ঘানা ও আফগানিস্তানের তিন ফুটবলারকে তারা নিশ্চিত করেছে। মোহামেডান ছেড়েছে গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম, স্ট্রাইকার আমিনুর রহমানসহ ৯ ফুটবলার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা