kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

মনে করেন ক্রিকেট গুরু সালাউদ্দিন

ভিন্ন চোখই এগিয়ে রাখে সাকিবকে

মাসুদ পারভেজ   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০২:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিন্ন চোখই এগিয়ে রাখে সাকিবকে

নিষেধাজ্ঞা কবে শেষ হচ্ছে, তার দিনক্ষণ নিয়ে একটু দ্বিধায় ছিলেন তিনি। ২৮ না ২৯ অক্টোবর? দ্বিধা দূর করতে নিজেই সাকিব আল হাসানকে ফোন করে গত পরশু জানতে পারেন, আর মাত্র এক দিন বাকি আছে। ফোন রাখার আগে তাই প্রিয় শিষ্যকে তাঁর ক্রিকেট গুরু মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পরামর্শ, ‘আরেকটি দিন তাহলে কষ্ট কর।’

কষ্ট করার কথা বলেছেন বটে, তবে সেই কৈশোর থেকে সাকিবকে দেখার অভিজ্ঞতায় সালাউদ্দিন জানেন যে জগতের কোনো প্রতিকূলতাই এই অলরাউন্ডারকে খুব একটা ছুঁয়ে যায় না। না তিনি সাফল্যে ভেসে যান, না তিনি ব্যর্থতায় মুষড়ে পড়েন। ভালো সময়ের হাওয়া যেমন তাঁকে উড়িয়ে নেয় না, তেমনি দুঃসময়ের কাঁটাও তাঁকে বিদ্ধ করে সামান্যই। আক্রান্ত হতে না চাওয়ার এই মানসিকতাই আজ থেকে মুক্ত সাকিবকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেবে বলে বিশ্বাস করেন সালাউদ্দিন।

সে কথাই গতকাল বলছিলেন এভাবে, ‘ও জীবনে যত ধরনের বাধা পেয়েছে বা যত কিছুর বিরুদ্ধে ওকে লড়তে হয়েছে, তা কিন্তু একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সামলানো অনেক মুশকিল হয়ে যায়। কেউ কেউ হয়তো আবেগ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কী করব না করব, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে অনেকে অনেক সময় চাপ নিয়ে নেয়। সাকিব ব্যতিক্রম এখানেই। এই যে এক বছর খেলতে পারেনি, এ জন্য অনেকে হয়তো আফসোস করে মরে যেত। ওর মধ্যে এই ব্যাপারটিই নেই।’

থাকলেও মনের দুয়ার খুলে তা বের হতে দেন না সাকিব। জীবনকে অন্যভাবে দেখার এই ব্যাপারটিই সাফল্যের পথও দেখায়, ‘বা থাকলেও (আফসোস) সেটি কখনোই প্রকাশ পাবে না। এটি সে খুব ভালোভাবেই রপ্ত করতে পেরেছে। খারাপ সময়ে যেমন থাকে, ও মনে করে ভালো সময়েও সে রকমই থাকা উচিত। যেটা সামনে আসবে, সেটি নিয়েই চিন্তা করা উচিত। আগের দিন কী হয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা না করলেও চলে। জীবনকে দেখার চোখটাই ওর অন্য রকম।’

অন্য রকম বলেই ফেরার পরই সাকিবের পারফরম্যান্সে ঝলমল করে ওঠার সম্ভাবনা বেশি দেখেন সালাউদ্দিন। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে অন্যদের বিরতি সাত মাসের হলেও এই অলরাউন্ডার ক্রিকেটের বাইরে এক বছর। এই বিচ্ছিন্নতার কারণে ফিরেই তিনি ‘অলৌকিক’ কিছু ঘটিয়ে দেবেন না বলে ইতিমধ্যেই সবাইকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় দলের হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। দীর্ঘ বিরতির পর বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে অনেকের ছন্দহীনতাও তাঁর কথার পক্ষেই সাক্ষ্য দেয়। শ্রীলঙ্কায় তিন টেস্টের সফর স্থগিত হয়ে যাওয়াকে অনেকে ‘শাপে বর’ বলেও মানছেন তাই।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দিয়েই ফেরার কথা ছিল সাকিবের। তা না হলেও সালাউদ্দিনের বিশ্বাস, ‘আমার ব্যক্তিগত ধারণা হলো সাকিবকে যদি সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও খেলতে হতো, তাহলেও ওর পারফরম্যান্সে খুব একটা প্রভাব পড়ত না।’ এই বিশ্বাসের ভিতও অন্য রকম সাকিবই, ‘আসলে ওর প্রস্তুতিটাই অন্য রকম। এমন নয় যে মাঠে আসলাম এবং খেললাম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কেমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, সেটি সে অনেক আগেই ভেবে রাখে। এগুলো ওকে বুঝিয়ে দিতে হয় না। নিজেই বুঝে নেয়।’

দূরের ভাবনা আগাম ভেবে রাখার প্রতিফলন ছিল আগের দুইবারই নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর। টিভি ক্যামেরার সামনে অশালীন অঙ্গভঙ্গির জন্য তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিরেছিলেন। ফিরেই ব্যাট হাতে তুলেছিলেন মাত্র ১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ঝড়। অনাপত্তিপত্র না নিয়ে সিপিএল খেলতে যাওয়ায় সে বছরই জুটেছিল ছয় মাসের আরেকটি নিষেধাজ্ঞাও। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা কমে তিন মাসে নেমে আসার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন টেস্টের সিরিজে ফিরেই নিয়েছিলেন ১৮ উইকেট, ব্যাট হাতে ছিল একটি সেঞ্চুরিও। সেঞ্চুরি করেছিলেন পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও, সঙ্গে ১১ উইকেট।

অতীত আর জীবনকে দেখার ভিন্ন চোখ মিলিয়ে তাই প্রত্যাশা বেশি সালাউদ্দিনেরও, ‘আমার চাওয়া সাকিব যেন আগের চেয়েও ভালো খেলে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা