kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

'বৃদ্ধাশ্রম' বলেই ধোনিদের এই পরিণতি? নাকি অন্য কিছু?

অনলাইন ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'বৃদ্ধাশ্রম' বলেই ধোনিদের এই পরিণতি? নাকি অন্য কিছু?

আইপিএলের তিনবারের শিরোপাজয়ী চেন্নাই সুপার কিংসের অবস্থা এবার করুণ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মুম্বাইকে হারিয়ে শুরুটা খারাপ হয়নি। কিন্তু এরপর থেকে গ্রাফটা শুধুই নিম্নমুখী। নামতে নামতে এখন ধোনির দলের ঠাঁই হয়েছে পয়েন্ট টেবিলের একেবারে নীচে। দলের সঙ্গে সঙ্গেই যেন অস্তাচলে দলের অধিনায়কের ব্যাট। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একটি হাফ সেঞ্চুরিও করতে পারেননি। ধোনির নিস্প্রভ থাকাই কি চেন্নাইয়ের পতনের একমাত্র কারণ? নাকি চেন্নাইয়ের পতনের আরও কারণ আছে?

ব্যাটসম্যান ধোনির অফ ফর্ম: সর্বোচ্চ ৪৭ অপরাজিত। তবে সেই ম্যাচ নট-আউট থেকেও দলকে জেতাতে পারেননি ফিনিশার ধোনি। গত ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে যে ভাবে রান-আউট হয়েছেন, তাতে তার ফিটনেস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চেন্নাই যে তিনটি ম্যাচ জিতেছে, তার কোনওটাতেই ধোনির তেমন ভূমিকা নেই। ১০ ম্যাচ সাকূল্যে রান ১৬৪। স্ট্রাইক রেট ১২৫। তার ব্যাট যেন বাউন্ডারি মারতেই ভুলে গিয়েছে।

নিষ্প্রভ অধিনায়ক ধোনি: বিশ্বকাপ হোক বা আইপিএল, অধিনায়কের নাম মহেন্দ্র সিংহ ধোনি মানেই দলের ভাল ফল নিশ্চিত। একটা সময় তার নেওয়া যে কোনও সিদ্ধান্তই কাজে লেগে যেত নির্ভুল ভাবে। এবার ছবিটা আলাদা। দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে তার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত। যেমন কেদার যাদবকে দলে রাখা বা ইমরান তাহিরের মতো ম্যাচ উইনারকে দলের বাইরে রাখা। এমনকি দলে সবচেয়ে ভালো ফর্মে থাকা স্যাম কারেনকে অনেক পরে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্তও প্রবল সমালোচিত হয়েছে।

দলে বয়স্ক ক্রিকেটারের সংখ্যাধিক্য: চেন্নাইয়ের প্রথম পছন্দের দুই ওপেনার শেন ওয়াটসন এবং ফ্যাফ দু’প্লেসির বয়স যথাক্রমে ৩৯ ও ৩৬। এ ছাড়া রয়েছেন ডোয়েন ব্রাভো (৩৮), অম্বাতী বায়ুডু (৩৫), কেদার যাদব (৩৬), মুরলী বিজয় (৩৬)-রাও খেলছেন। ধোনি নিজেও ৪০ ছুঁইছুঁই। এমনকি চোট পাওয়া ব্রাভোর জায়গায় যার খেলার কথা, সেই ইমরান তাহিরেরও বয়স ৪১ বছর। একসঙ্গে এত বয়স্ক ক্রিকেটারের উপস্থিতি স্বাভাবিক ভাবেই দলের গতি কমিয়েছে।৭১৩Kedar

কেদার যাদবের দলে থাকা: বলা হয়ে থাকে, ধোনির সবচেয়ে পছন্দের ক্রিকেটার হলেন কেদার যাদব। এজন্য তার দলে সুযোগ পাওয়াও নিশ্চিত। চেন্নাইয়ের খেলা ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৮টিতেই খেলেছেন তিনি। রান করেছেন সর্বসাকুল্যে ৬২। সর্বোচ্চ ২৬। স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯৩.৯৩। বার বার মিডল অর্ডারকে বিপদে ফেলছেন। তবুও দলে তার অবস্থান কেউ টলাতে পারেনি।

ওয়াটসন-ব্রাভোর খারাপ ফর্ম: ওপেনিংয়ে ওয়াটসনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ধোনির চিন্তা কমিয়ে দিতে পারতেন। সেটা তো হলোই না, উল্টো তাকে নামিয়ে আনতে হল তিনে। তাতেও যে ওয়াটসন খুব সুবিধা করতে পারছেন, তা বলা যায় না। অন্যদিকে অল-রাউন্ডার ব্র্যাভো চোট পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ব্যাট হতে করেছেন ২ ইনিংসে ৭ রান! আর বল হাতে ৬ ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

ইমরান তাহিরকে না খেলানো: এখনও পর্যন্ত আইপিএলে ইমরান তাহিরকে দেখা যায়নি। পিচ থেকে যখন স্পিনাররা সাহায্য পাচ্ছেন তেমন সময় বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার বসে রয়েছেন ডাগ আউটে। বার বার প্রশ্ন উঠছে যে, গত বছরের আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়া তাহির কেন দলের বাইরে? মিচেল স্যান্টনারও বসেই আছেন।

রায়না, হরভজনদের না থাকা: শুরুতেই রায়না, হরভজনকে হারানো বড় বিপদে ফেলে দিয়েছে চেন্নাইকে। দুর্দান্ত কিছু বিদেশি ক্রিকেটার দলে নিলেও স্বদেশি ক্রিকেটার বলতে তাদের বড় ভরসা ছিল এই দুই জন। রায়নার অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডার ভঙ্গুর হয়ে গেছে। ভারতীয় স্পিনার হিসেবে দলের বাকিরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ নয়। হরভজন না থাকার ফলে স্পিন বিভাগও চরম দুর্বল হয়ে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা