kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বাফুফে নির্বাচন

‘পরিবর্তন’ চান তিনজনই

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০২:৪৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘পরিবর্তন’ চান তিনজনই

শফিকুল ইসলাম মানিক কার লোক? অন্য দুই সভাপতি প্রার্থী কাজী সালাউদ্দিন নাকি বাদল রায়ের? সভাপতি পদে দাঁড়ানোর পরও মানিককে ঠিক যেন আস্থায় নিতে পারছেন না ফুটবলাঙ্গনের অনেকে। ভোটের বাজারে এই সংশয়-সন্দেহ দূর করতে তিনি বলেছেন, ‘একটা গুঞ্জন আছে, কাউকে সুবিধা করে দিতে আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। সেটা ভুল। আমার মনে হয়েছে, সভাপতি পদে কারো নির্বাচন করা দরকার। কয়েকজনকে আমি উৎসাহিত করলেও তারা সাহস করেনি। তাই আমি নিজেই দাঁড়িয়েছি। আমি মনে করি, ফুটবলের স্বার্থেই এখন পরিবর্তন দরকার।’ 

আগের তিন মেয়াদের তুলনায় এবার পরিবর্তনের হাওয়াটা জোরালো। এই হাওয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বাদল রায় গত পরশু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে, ‘আমি ফুটবলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।’ দু-দুবার সংবাদমাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর তাঁর এমন কথা রহস্যময় ঠেকছে সবার কাছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের চিঠি দিলেও নির্ধারিত সময়ের পরে জমা হওয়ায় সভাপতি পদের নির্বাচনী ব্যালটে তাঁর নাম থাকছে। তাতে বাফুফে প্রেসিডেন্ট পদে এবার সালাউদ্দিন-বাদল-মানিকের ত্রিমুখী লড়াই। এই পদে প্রথমবারের মতো তিন প্রতিদ্বন্দ্বী। টানা এক যুগের বাফুফে প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিনের জন্য এবারের নির্বাচনী হাওয়াও ভিন্ন।

খেলোয়াড়ি জীবনে নাম কুড়িয়েছেন তিনজনই। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে গোলটা শেষ পর্যন্ত কে করবেন? সন্দেহাতীতভাবে খেলোয়াড়ি জীবনে গোল করার দক্ষতায় প্রতিদ্বন্দ্বী দুজনের চেয়ে এগিয়ে সালাউদ্দিন। বাফুফের নির্বাচনেও তিনি অজেয়। টানা তিনটি বাফুফে নির্বাচন জয়ী সালাউদ্দিন এবারও যাবতীয় সমালোচনা পাশে ঠেলে সামনে এগোনোর স্বপ্ন দেখছেন। তিনিও বলছেন পরিবর্তনের কথা, সেটা আগামী চার বছরে ফুটবলের চেহারা পরিবর্তনের। এই লক্ষ্যে আগেরবারের চেয়েও দীর্ঘ ইশতেহার ঘোষণা করেছেন বর্তমান সভাপতি। টানা ১২ বছরের ফুটবল সভাপতি আরেকবার সুযোগ চাইছেন কিছু অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য। তাঁর প্রথম চার বছরের মেয়াদ নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। সেরকম গোছানো আরো চারটি বছর পার করতে পারলে হয়তো ফুটবলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এদিকে শফিকুল ইসলাম মানিকের দেওয়া ইশতেহারের প্রায় সবই ফুটবলের নিয়মিত কর্মকাণ্ড, যেগুলো বাফুফে এত দিন চালাতে পারেনি। এ ছাড়া ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০৩৩ সালে শক্তিশালী অলিম্পিক দল গড়ে অলিম্পিক গেমসে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা। এই সাবেক ফুটবলারের দাবি, ‘সালাউদ্দিন ভাই ও বাদল ভাই অনেক বছর ফুটবল ফেডারেশনে কাটিয়েছেন। এবার নতুন হিসেবে আমাকে সুযোগ দেওয়া উচিত।’ সুযোগ পরে, তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিনিই নির্বাচনের ‘মানিক’! নির্বাচনে থেকে গেলে বাদলের কিছু ভোট পড়তে পারে মানিকের বাক্সে। তাতে লাভবান হবেন সালাউদ্দিন।

ওদিকে বাদল রায় সংবাদমাধ্যমে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবার জেগে উঠলেও তাঁর কোনো প্রচারণা নেই। দৃশ্যত কারো কাছে ভোটও চাইছেন না। এই নীরবতা তাঁকে ভোটের মাঠে অনেক পেছনে ফেললেও তিনি সালাউদ্দিনবিরোধী ভোটের প্রত্যাশা করছেন। ভোটে প্রত্যেকের নানা রকম অঙ্ক থাকে, আর সেই অনুযায়ীই তারা এগোয়। কাজী সালাউদ্দিনের নিশ্চয়ই কোনো অঙ্ক আছে, তবে কণ্ঠে ভীষণ আত্মবিশ্বাস, ‘আগের তিনবারও আমি ভোটে জিতে এই চেয়ারে (বাফুফে) বসেছি। এটা আমার জন্য নতুন কিছু নয়। সুতরাং ভোটারদের কাছে নিশ্চয়ই আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে। খেলোয়াড়ি জীবনেও মাঠে নামতাম ছোট-বড় সব ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে। ভোটের মাঠেও একই মনোভাব নিয়ে লড়াই করছি।’

আগের তিন নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ সালাউদ্দিন প্রস্তুত ভোটের লড়াইয়ের জন্য। প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মানিক বলছেন পরিবর্তনের কথা আর রহস্যময় নীরবতা ভেঙে বাদল রায় হাওয়া দিচ্ছেন পরিবর্তনের পালে।

পরিবর্তন না অতীতের পরম্পরা, তার নিষ্পত্তি হবে ৩ অক্টোবর। সেদিনই অনুষ্ঠিত হবে বাফুফের নির্বাচন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা