kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শ্যুটারদের যেন মুক্তির আনন্দ

শ্যুটিং আবার পুরনো ছন্দে ফিরবে বলেই আশ্বস্ত করেছেন নতুন সভাপতি, ‘শ্যুটারদের পারফরম্যান্সের উন্নতির জন্য আমরা সম্ভ্যাব্য সব কিছুই করব। শর্ট টার্ম, মিড টার্ম, লং টার্ম—তিন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়ার বিষয় আছে। সামনে যে অলিম্পিক আছে, সেই অলিম্পিক প্রস্তুতিটাকে আমরা শর্ট টার্ম প্ল্যানের মধ্যে রেখেছি। অর্থাৎ এই মুহূর্ত থেকেই আমরা অলিম্পিক প্রস্তুতিতে পুরোদমে কাজে লেগে যাব।

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০২:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্যুটারদের যেন মুক্তির আনন্দ

না, করোনামুক্তি নয়। তবে বছর দুয়েক ধরে ফেডারেশন সভাপতি-মহাসচিবের দ্বন্দ্বে শ্যুটাররা যেমন বিপাকে পড়েছিলেন, তা করোনার চেয়ে কম নয়। জীবনশঙ্কা হয়নি ঠিকই, কিন্তু ক্যারিয়ার যে বিপন্ন হতে চলেছিল, এতে সন্দেহ নেই। অবশেষে ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা, নতুন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ আব্দুল্লাহেল বাকী, শাকিল আহমেদদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে দীর্ঘদিন পর।

সেই কমনওয়েলথ গেমস থেকে পদক জিতে ফেরার পর থেকে এলোমেলো শ্যুটিং। শ্যুটারদের বলে-কয়ে পদকের মঞ্চে তোলা বিদেশি কোচ ক্লাভস ক্রিস্টিয়েনসেন, মার্কো সকিচ বিদায় হন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ একে একে বন্ধ হতে থাকে, সর্বশেষ এসএ গেমসের প্রস্তুতিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। ফলে গেমসের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো সোনাহীন হয়ে ফেরা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এরপর, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে শ্যুটারদের রাইফেল, পিস্তল একরকম বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। শীর্ষ দুই কর্মকর্তার দ্বন্দ্বে তা সুরাহার কোনো উদ্যোগ না থাকায় চোখে অন্ধকার দেখছিলেন বাকীরা। কাল গুলশান শ্যুটিং রেঞ্জের বারান্দায় সেই বাকীকে দেখে মনে হলো, যেন কারামুক্তি হয়েছে তাঁর, ‘কতটা স্বস্তিতে আছি, এই মুহূর্তে বলে বোঝাতে পারব না। সকালে সভাপতি আমাদের অনুশীলনে এসেছিলেন। বলেছেন, কয়েক দিনের মধ্যে এনবিআরের ব্যাপারটা সুরাহা হয়ে যাবে, আমরা রাইফেল হাতে পেয়ে যাব। শ্যুটিংয়ে সব কিছু আবার আগের মতো হয়ে যাবে বলেই এখন মনে হচ্ছে।’

ফেডারেশনে কাল কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা শেষে নতুন সভাপতি মেজর জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও দিয়েছেন সেই প্রতিশ্রুতি, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাইফেলের সমস্যাটার সমাধান হবে বলে আশা করি। আমরা এরই মধ্যে এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। কয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো শ্যুটাররা রাইফেল হাতে পেয়ে যাবে।’ শ্যুটিং আবার পুরনো ছন্দে ফিরবে বলেই আশ্বস্ত করেছেন তিনি, ‘শ্যুটারদের পারফরম্যান্সের উন্নতির জন্য আমরা সম্ভ্যাব্য সব কিছুই করব। শর্ট টার্ম, মিড টার্ম, লং টার্ম—তিন ধরনের পরিকল্পনা নেওয়ার বিষয় আছে। সামনে যে অলিম্পিক আছে, সেই অলিম্পিক প্রস্তুতিটাকে আমরা শর্ট টার্ম প্ল্যানের মধ্যে রেখেছি। অর্থাৎ এই মুহূর্ত থেকেই আমরা অলিম্পিক প্রস্তুতিতে পুরোদমে কাজে লেগে যাব। শ্যুটারদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াসহ যা যা করণীয় আমরা করব।’ বিদেশি কোচের ব্যাপারেও আশ্বাস মিলেছে নতুন সভাপতির কাছ থেকে। মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ এবং সিনিয়র সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদকে পাশে রেখে তিনি জানিয়েছেন, ‘শ্যুটিংয়ের গৌরব ধরে রাখার জন্যই আমরা কাজ করব। ভালো মানের বিদেশি কোচ আনাটা গুরুত্বপূর্ণ, অবশ্যই আমরা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেব।’ পিস্তল শ্যুটার শাকিল আহমেদেরও মুগ্ধতা নতুন সভাপতির এমন সব প্রতিশ্রুতিতে, ‘সত্যি বলতে প্রশিক্ষণ, প্রস্তুতি নিয়ে আমরা বেশ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আমাদের আর ভাবনার কিছু নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা