kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিকেএসপির শ্যামলিমায় বিশ্ব জয়ের গল্প

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৩:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিকেএসপির শ্যামলিমায় বিশ্ব জয়ের গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাড়ন্ত নগরায়ণেও সবুজ সজীবতা ধরে রেখেছে জায়গাটি। ঢাকার অদূরে সাভারের সেই শ্যামলিমা বিকেএসপি এখন অন্তত অজেয় কোনো এক আকাঙ্ক্ষার প্রতিশব্দও হয়ে নেই। লম্বা সময় ধরে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের আসন নিজের দখলে রাখা সাকিব আল হাসানের উত্থান এখান থেকেই। তবে দিগ্বিজয়ী এ ক্রিকেটারও কিন্তু শেষবিচারে বিশ্বজয়ী কেউ নন। সে মুকুট মাথায় আছে তাঁর উত্তরসূরি আকবর আলীর। যাঁর অধিনায়কোচিত ইনিংসই গত ৯ ফেব্রুয়ারি পচেফস্ট্রুমের সেনওয়েস পার্কে বিশ্ব জয়ের গল্পের সফল উপসংহার টেনেছে।

যে সাফল্য আবার পরবর্তী সব প্রজন্মের জন্য আরাধ্য স্বপ্নের নাগাল পাওয়ার উদাহরণও হয়ে উঠেছে। পরের যুব বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির শুরুতেও উদীয়মান তরুণদের বিশ্ব জয়ের সে গল্পেই উজ্জীবিত করছেন এমন দুজন, যাঁরা কিনা খেলেননি একটি ম্যাচও। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় যুব বিশ্বকাপ জয়ের পথে প্রতিটি মুহূর্তই দেখা আছে প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের। পরে যাওয়া মেহরাব হোসেনও বিশ্বজয়ী দলের অংশই। ছোট হয়ে আসতে যাওয়া দলে থাকার লড়াইয়ের মাঝেও তাঁদের মুখে শোনা গল্পে বুঁদ হয়ে আছেন প্রাথমিক শিবিরের বাকি ৪৩ জন।

বয়স এখনো আরেকটি যুব বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রেখে দিয়েছে বলে পরবর্তী অভিযানেও থাকার কথা নাবিল ও মেহরাবের। তাঁরাই আকবর আলীর দলের সাফল্যের রসায়নে অন্যদের মুখর করে রাখছেন বলে জানালেন বিকেএসপিতে আবাসিক শিবিরে তরুণদের সঙ্গেই ‘আইসোলেশনে’ থাকা জুনিয়র নির্বাচক কমিটির প্রধান সাজ্জাদ আহমেদ। যা দেখে নিজের ভালোলাগার কথাও জানালেন বাংলাদেশ দলের এই সাবেক ব্যাটসম্যান, ‘ম্যাচ না খেললেও নাবিল-মেহরাব পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই ছিল। তাই ওরা জানে কিভাবে বিশ্বকাপ জিততে হয়। সেটিই ওরা অন্যদের জানাচ্ছে। ছেলেদের কাছাকাছি থেকে বুঝতে পারছি, বাকিরা কতটা অনুপ্রাণিত হচ্ছে।’ যদিও নাবিল-মেহরাবরা না থাকলেও অনুপ্রেরণার অভাব হতো বলে মনে করেন না আরেক নির্বাচক হাসিবুল হোসেন। বিশ্বজয়ী দলের সঙ্গেই দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক এই ফাস্ট বোলার। আকবর আলীদের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরুর সময় থেকেও ছিলেন। এবার ২০২২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে পরের বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতির শুরুও নিবিড়ভাবে দেখছেন বিকেএসপিতে থেকে। দেখে একটি মৌলিক পার্থক্যও ধরা পড়েছে হাসিবুলের চোখে, ‘যদিও এ দলটি অনেক ছোট হয়ে আসবে। বাদ পড়বে অনেকে। তবু সবার মধ্যে একটি ব্যাপার লক্ষ করছি। আকবররা জানত ওদের বড় ভাইদের সেরা সাফল্য বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। এবারের ছেলেরা জানে ওদের বড় ভাইরা বিশ্বকাপই জিতেছে। ওদের দৃষ্টিটা তাই কোথায় থাকা উচিত, তা আর কাউকে বলে দিতে হচ্ছে না।’

দৃষ্টি শিরোপা ধরে রাখার দিকেই। ৪৫ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে সে লক্ষ্যে শুরু হওয়া প্রস্তুতিতে নিজেদের মধ্যে খেলা হয়ে গেছে ছয়টি ম্যাচ। বাকি আরো দুটি। এরপর এই দলটি ছোট হয়ে আসবে ২৫-২৬ জনে। সেই দলে থাকার জোর লড়াইও দেখতে পাচ্ছেন সাজ্জাদ, ‘আমি অবশ্য চাই না এখনই সবাই বিশ্ব জয়ের গল্পে মাতোয়ারা হয়ে উঠুক। কারণ শেষ পর্যন্ত অনেকেরই দলে জায়গা হবে না। যারা দলে থাকবে, আকবরদের মন্ত্রে ওদেরই বেশি উজ্জীবিত হওয়া জরুরি। এর আগে সবাই নিজের জায়গা ধরে রাখতে সেরাটা উজাড় করে দিক না! বলতে দ্বিধা নেই, ওদের মধ্যে জমজমাট সেই লড়াই দেখতেও পাচ্ছি।’

সেই লড়াইয়ে বাড়তি পাওনা সঙ্গী নাবিল-মেহরাবদের মুখে বিশ্ব জয়ের গল্পও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা