kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

ইংল্যান্ড-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের নজরকাড়া তিনটি ঘটনা

অনলাইন ডেস্ক   

১০ আগস্ট, ২০২০ ১৭:২৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ইংল্যান্ড-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের নজরকাড়া তিনটি ঘটনা

ছবি : এএফপি

উইকেটরক্ষক জশ বাটলার ও অলরাউন্ডার ক্রিস ওকসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ উইকেটের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরে ক্রিকেট বন্ধ ছিল। তার পরও প্রথম টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে পাকিস্তান। 

২৭৭ রানের টার্গেট দিয়ে ১১৭ রানের মধ্যে ইংল্যান্ডের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীরা একসময় জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে বাটলার ও ওকসের ১৩৯ রানের দুর্দান্ত জুটিতে পাকিস্তানের হাত থেকে জয় ফসকে যায়। বাটলার ৭৫ ও ওকস অপরাজিত ৮৪ রান করেন। প্রথম টেস্ট শেষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চোখে পড়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির। সেগুলোতে নজর দেওয়া যাক।

ওকসের বিস্ময়কর পারফরম্যান্স :
গত মাসে শেষ হওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ক্যারিয়ারে ১হাজার রান ও ১শ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করেন ওকস। কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়েস্ট ইন্ডিজের গ্যারি সোবার্স, ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস ও স্টুয়ার্ট ব্রডের চেয়েও কম টেস্ট খেলে তিনি ১হাজার রান ও ১শ উইকেট শিকার করেন। যদিও ওই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে একাদশে সুযোগই পাননি ওকস।

পরের দুই টেস্টে ১১টি উইকেট শিকার করে দলে নিজের জায়গা নিশ্চিত করতে পেরেছেন ওকস। তার পরও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অনিশ্চিত ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রানে ৫ উইকেট নেওয়ায় একাদশে সুযোগের ভালো সম্ভাবনা ছিল। বোলার হিসেবে সুযোগ পেয়ে ৪ উইকেট নেন ওকস। কিন্তু ব্যাট হাতে ওকসের হাতে যে জাদু আছে, তা কিন্তু অনেকেই ভুলতে বসেছিলেন। অথচ তার ৩৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১টি সেঞ্চুরি রয়েছে।

সর্বশেষ ছয় টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ছিল ৫.২২। তাই এই ব্যাটিং গড়ে, তাঁর কাছ থেকে রান আশা করাটাও বোকামি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন ওকস। দল যখন খাদের কিনারায়, তখনই ব্যাট হাতে চমক দেখান। পাকিস্তানের পেসারদের বাউন্সার, নতুন বলের সুইং ও স্পিনারদের বৈচিত্র্যকে দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়ে দুর্দান্ত সব শটে মাত্র ৫৯ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন। তাঁর এবং বাটলারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচ লাগাম ছুটে যায় পাকিস্তানের হাত থেকে। অধিনায়ক জো রুট তাকে 'মি. ডিপেন্ডেবল' ঘোষণা করেছেন।

বাটলারের ভয়-শঙ্কা :
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামার আগে বাটলার জানতেন, এই ম্যাচে ভালো করতে না পারলে এটিই হবে বড় ফরম্যাটে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ওয়ানডে ক্রিকেটের মারমুখী ব্যাটসম্যান, টেস্টে পুরোপুরিই ফ্লপ। ২০১৪ সালে টেস্ট অভিষেকের পর বাটলারের উইলো থেকে এসেছে মাত্র ১টি সেঞ্চুরি। গত অ্যাশেজে করেন ১টি হাফ-সেঞ্চুরি। এরপর ১৪ ইনিংসে একটিও ফিফটি করতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টেস্টে ৬৭ রান পাকিস্তান সিরিজে সুযোগ পান।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৮ রান মন ভরাতে পারেনি তাঁর। পাশাপাশি ওই ইনিংসে উইকেটের পেছনে দুটি ক্যাচও ছেড়েছেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের সেঞ্চুরিয়ান শান মাসুদের ক্যাচও ছিল। ৪৫ রানে জীবন পেয়ে ১৯৯৬ সালের পার কোনো পাকিস্তানি ওপেনার হিসেবে ইংল্যান্ডের মাটিতে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন মাসুদ। পরবর্তীতে ১৫৬ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহ এনে দেন।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট ও উইকেটের পেছনে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায়, দলে টিকে থাকা নিয়ে ভয়-শঙ্কার মধ্যেই ছিলেন বাটলার। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেকে শেষবারের মতো প্রমাণের বড় সুযোগ পেয়ে আর হাতছাড়া করেননি। তবে ম্যাচ শেষে নিজের কিপিং নিয়ে হতাশ ছিলেন বাটলার, 'আমি জানি, আন্তর্জাতিক উইকেটরক্ষক হিসেবে এটি মোটেও যথেষ্ট নয়। যদি এই দলে আমাকে টিকে থাকতে হয়, তবে উইকেটের পেছনের দায়িত্বটা ভালোভাবে পালন করতে হবে, এ জন্য আরো উন্নতি করতে হবে।'

শান মাসুদের ধৈর্যের পুরস্কার :
সর্বশেষ ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড সফর করেছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার শান মাসুদ। সে সফরে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ১৭.৭৫।
পরবর্তী সময়ে দল থেকে বাদ পড়লেও, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে নিজেকে নিয়ে কাজ করেছেন। ঘরোয়া আসরে পারফরম্যান্স করে দলে ফিরলেও, নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না। তার পরও তার ওপর আস্থা ছিল পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক, বর্তমান কোচ ও প্রধান নির্বাচক মিসবাহ উল হকের। এবার সেই আস্থার প্রতিদান দিলেন তিনি।

শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি করে ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখেন শান মাসুদ। তার সামনে ছিল হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরির সুযোগ। সুযোগটা হাতে-নাতে কাজে লাগান তিনি। ম্যানচেষ্টার টেস্টের প্রথম ইনিংসেই হাঁকান ১৫৬ রানের ইনিংস। এর দ্বারাই টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি করে কোচ মিসবাহসহ পাকিস্তানের ছয় ব্যাটসম্যানের পাশে নাম তুলে ফেলেন। তার এই ৮ ঘণ্টার ইনিংসে দেখা গেছে অসীম ধৈর্য্য, ঠাণ্ডা মাথায় খেলা ও শর্ট নির্বাচনে দক্ষতা। তার ইনিংসের প্রশংসা করে পাকিস্তানের কোচ মিসবাহ বলেন, 'এটি দারুণ ইনিংস ছিল এবং কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছে সে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা