kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৩ আগস্ট ২০২০ । ২২ জিলহজ ১৪৪১

খেতে-ঘুমাতে পারতেন না; সোফায় বসে কাঁদতেন পেইন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুলাই, ২০২০ ১৬:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেতে-ঘুমাতে পারতেন না; সোফায় বসে কাঁদতেন পেইন

দুই বছর আগে স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা নেমে আসায় চরম দুঃসময়ে পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট। ওই ভয়ানক পরিস্থিতিতে শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছিলেন টিম পেইন। বিধ্বস্ত একটা দলকে তিনি খাদের ভেতর থেকে টেনে তুলেছেন। অথচ একসময় তার নিজের অবস্থাই ছিল শোচনীয়। ব্যাটিংয়ে নামতে ভয় পেতেন, খেতে পারতেন না, ঘুমাতে পারতেন না; ঘরে বসে শুধু কাঁদতেন।

২০০৯ সালে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল পেইনের। ভালো পারফর্মেন্সের কারণে পরের বছর টেস্ট অভিষেকও হয়ে যায়। এরপরই চোটের থাবা। ব্রিজবেনে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে বাঁহাতি ফাস্ট বোলার ডার্ক ন্যানেসের ১৪৮ কিলোমিটার গতির বলে ভেঙে যায় তার আঙুল। দীর্ঘ সময়ের জন্য তিনি মাঠের বাইরে ছিটকে যান। একের পর এক চোটে সাতবার অস্ত্রোপচার করাতে হয় তার। ওই দীর্ঘ সময় তার মানসিক অবস্থা ছিল সঙ্গীন। এতদিন পর সেই সময়ের কথা শোনালেন পেইন।

তিনি বলেছেন, 'ট্রেনিং ও খেলা শুরু করার পর অবস্থা খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু গতিময় বোলারদের খেলতে গিয়েই ঝামেলার শুরু। যখনই বোলার দৌড় শুরু করত, আমার কেবলই মনে হতো, আবার না আঙুলে লাগে! আত্মবিশ্বাস পুরো হারিয়ে ফেলতাম। ব্যাটিংয়ে সময় বল দেখার বদলে কেবল ভাবনায় থাকত যে গায়ে লাগবে বা কিনা! লম্বা সময় ধরে রান করতে পারছিলাম না। খেতে পারছিলাম না, ঘুমাতে পারছিলাম না। প্রতিটি ম্যাচের আগেই নার্ভাস লাগত।'

পেইন আরও বলেন, 'ভয়ঙ্কর সময় ছিল তখন। খেলায় আমার পালা যখন আসত, অসহ্য লাগত। কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম যে ব্যর্থ হব। কেউই জানত না আমার মানসিক অবস্থা, সবচেয়ে কাছের বন্ধুও নয়, এমনকি আমার সঙ্গিনীও নয়। আমার মনে আছে, এমনও দিন গেছে, সে কাজে গেছে, আমি সোফায় বসে আক্ষরিক অর্থে কেঁদেছি। চিৎকার করে নয়, তবে কেঁদেছি। খুবই বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা ছিল। কেবলই মনে হচ্ছিল, অনেক মানুষকে হতাশ করে চলেছি আমি।'

তাসমানিয়ার ক্রীড়া মনোবিদের কাছে যাওয়ার পর নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেন পেইন। তার ভাষায়, 'সেটিই প্রথমবার, কাউকে নিজের অবস্থার কথা বলেছি। মিনিট বিশেক কথা হয়েছিল তার সঙ্গে। মনে পড়ে, তার কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্র ভালো বোধ করতে শুরু করলাম। মনে হলো, আরও আগে তার কাছে যাওয়া উচিত ছিল আমার। এটির সঙ্গে লড়াইয়ের প্রথম পদক্ষেপই হলো সমস্যা মেনে নেওয়া ও এটা জানানো যে সাহায্য লাগবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা