kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বুধবার ১১৬ দিন পর শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ জুলাই, ২০২০ ১৮:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুধবার ১১৬ দিন পর শুরু হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট

অনুশীলনে উইন্ডিজ ক্রিকেট দল। ছবি : উইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড

করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ থেকে বোতলবন্দি হয়ে পড়ে বিশ্ব ক্রিকেট। আশা করা হচ্ছিল, শিগগিরই কেটে যাবে এই ভয়াবহ সংকট। আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে সামাজিক জীবনে। কিন্তু আশায় গুড়ে বালি হয়ে গৃহবন্দি হয়ে পড়েন বিশ্ব ক্রিকেটের খেলোয়াড়রা। তাই এক দিন, দুদিন, তিন দিন করে…আজ পর্যন্ত ১১৬ দিন হয়ে গেল ২২ গজে ব্যাট-বলের লড়াই বন্ধ। করোনার প্রকট এখনো কমেনি। তবে এর মাঝেই আগামীকাল বুধবার শুরু হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সাউদাম্পটনে সিরিজের প্রথম টেস্টটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায়।

শেষ কবে ব্যাট-বলের লড়াই দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব? এমন প্রশ্ন করা হলে, অনেকেই উত্তর দিতে পারবে না। কারণ করোনার থাবায় কাঁপছিল বিশ্বের ২শর বেশি দেশ। করোনার চিন্তাতে ক্রিকেট নিয়ে ভাবার উপায় ছিল না কারো। তবে পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৩ মার্চ সিডনিতে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। রুদ্ধদ্বার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচটি ৭১ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেটিই ছিল, সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ওই ম্যাচের পরই করোনার কারণে সিরিজটি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি।

তবে কাল থেকে আবারো ক্রিকেট মাঠে ফিরছে, এতেই স্বস্তি ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের। তারপরও মনের মধ্যে নানা কৌতূহল তো থাকছেই। কারণ এই টেস্টকে ঘিরে ব্যাপক আয়োজন ইসিবি। আয়োজনের পুরোটা জুড়েই রয়েছে সুরক্ষা বলয়। ক্রিকেটার-স্টাফ থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার, কর্মকর্তা, সবাইকে রাখা হচ্ছে সুরক্ষিত ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে। সাউদাম্পটনের মাঠের পাশেই রয়েছে হোটেল। সেখানেই থাকছেন ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকারসহ সবাই। ধারাভাষ্য কক্ষে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হবে। ধারাভাষ্যের মাঝে নিজের রুমের ব্যালকনিতে বসে খেলা দেখতে পারবেন তারা।

খেলোয়াড়দের জন্য রাখা হয়েছে, সর্বোচ্চ চিকিৎসাব্যবস্থা। খেলা চলাকালীন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত সাউদাম্পটনের কর্মকর্তারা। মাঠের চারপাশে হ্যান্ড-স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই টেস্টকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন ইসিবির প্রধান নির্বাহী টম হ্যারিসন। তিনি বলেন, 'ক্রিকেট মাঠে ফিরছে, এতেই আমরা খুশি। তবে আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ম্যাচটি। সব কিছু ঠিকঠাক সম্পন্ন করতে হবে আমাদের। আমরা প্রস্তুত। সব ধরনের সুরক্ষা বলয় নিয়ে আমরা তৈরি।'

ইংল্যান্ডের জন্য যে এটি চ্যালেঞ্জের, সেটি বলতে দ্বিধাবোধ করেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এই টেস্টটি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের উদাহরণ হবে বলে জানান তিনি, 'ইংল্যান্ডে এই টেস্ট ম্যাচ উদাহরণ হতে চলেছে। এটা অন্যদের দেখিয়ে দিতে পারে, কঠিন সময়ে কিভাবে খেলা সম্ভব। ইংল্যান্ড বোর্ডের প্রশংসা প্রাপ্য যে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে মানুষও এখন মানসিকভাবে চিন্তিত। এই ক্রিকেট ম্যাচ দেখে মানুষও কিছুটা আনন্দিত হবে, উপভোগ করার সুযোগ পাবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা