kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

লকডাউনে পান বিক্রি করে চলছে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের জীবন!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ মে, ২০২০ ১৬:০১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লকডাউনে পান বিক্রি করে চলছে ভারতীয় নারী ক্রিকেটারের জীবন!

করোনাভাইরাসের কারণে চলতি লকডাউন সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিসহ করে তুলেছে। গরীবকে আরও গরীব করে দিয়েছে। বিপদে পড়েছেন খেলাধুলার জগতের মানুষেরাও। প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ক্রিকেট দলের তারকা পেসার পম্পা সরকারকে পান বিক্রি করতে হচ্ছে! সম্প্রতি এই খবর প্রকাশিত হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। একটি রাজ্য দলের ক্রিকেটার কেন পান বিক্রি করে সংসার চালাবেন?

ওপার বাংলার কৃষ্ণনগর থেকে প্রায় ৭ কিমি দূরে কালীরহাটে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে গ্রামের সবজি বাজারে প্রতিদিন প্রচণ্ড রোদের মাঝে বসে পান বিক্রি করেন পম্পা সরকার। বাংলা নারী দলের অন্যতম সেরা পেসার তিনি। লকডাউনের প্রথম দফায় গাড়ি বন্ধ থাকায় ওই সময় গ্রামের সবজি বাজারে বসে একদিনও পান বেচতে পারেননি। এরপর আবার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে পানের গাড়ি না ঢোকায় আরও দুই দিন তার রোজগার হয়নি।

পম্পার বাবা পরেশ সরকার প্রায় এক যুগ আগে মারা গেছেন। মা এবং দুই বোন এক ভাইয়ের সংসারের ভার এখন পম্পার কাঁধে। লকডাউনে অভাবে পড়েও কাউকে কিছু জানাননি। হাত পাততে তার খুব লজ্জা হয়। সোশ্যাল সাইটের মাধ্যমে তার পান বিক্রির খবর জেনে লকডাউনের প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নদিয়া জেলা পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সাহায্যের ব্যবস্থা করেন। পম্পাকে তখন চাল, আলু ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়।

প্রতিদিন সকালে সাইকেলে চেপে পাইকার বাজারে গিয়ে পম্পা নিজেই পান কিনে আনেন। তারপর শুরু হয় বিক্রি। গণমাধ্যমকে পম্পা বলেন, 'যখন কলকাতায় একটানা ক্যাম্প থাকে, তখন আমার কলেজ পড়ুয়া ভাই প্রণব পান বিক্রি করে। মা একটি প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রান্নার সহায়কের কাজ করে সামান্য কিছু আয় করেন। তবে বাজারে পান বিক্রির টাকা থেকেই সংসার চলে। লকডাউনের এই দুই মাস অনুশীলন করতে পারিনি। গত বুধবার থেকে ছাদে দাঁড়িয়ে অনলাইনে স্যারের নির্দেশ মতো ব্যয়াম করছি।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা