kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ভারতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন

'বাংলাদেশ টেস্ট খেলে টি-টোয়েন্টির মতো, টি-টোয়েন্টি খেলে টেস্টের মতো'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'বাংলাদেশ টেস্ট খেলে টি-টোয়েন্টির মতো, টি-টোয়েন্টি খেলে টেস্টের মতো'

আজ শেষ হওয়া পাকিস্তানের মাটিতে টি-টোয়ন্টি সিরিজে লজ্জাজনক পারফর্মেন্স দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে গেছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। পাকিস্তান সফরে কী হওয়ার কথা ছিল আর কী হচ্ছে! ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত খেলা বাংলাদেশকে নিয়ে বড় আশা করেছিল দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। কিন্তু পাকিস্তানে গিয়ে সব যেন ধুয়ে মুছে গেল। মাঠে গড়ানো দুটি ম্যাচে প্রতিরোধ তো দূরের কথা, অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে ধীরগতির ব্যাটিং নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। 

ভারতীয় দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, 'বাংলাদেশ টেস্ট খেলে টি-টোয়েন্টির মতো, টি-টোয়েন্টি খেলে টেস্টের মতো'। কিন্তু ভারত সফরে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বে অন্য বাংলাদেশকে দেখা গিয়েছিল। দিল্লিতে প্রথম ম্যাচ জিতে সাড়া ফেলে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এটাই দেশের সমর্থকদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছিল যে, পাকিস্তানেও দারুণ কিছু ঘটিয়ে ফেলবে মাহমুদউল্লাহর দল। এই ভাবনা আসাটাই তো স্বাভাবিক! ভারতকে ভারতের মাটিতে হারানো গেলে পাকিস্তানকে নয় কেন? ঠিক এ কারণেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল সবার। কিন্তু ম্যাচ শুরু হতেই সব যেন উবে গেল। দুটি ম্যাচ পরপর হেরে গোটা বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙে গেছে।

কিন্তু কেন এমন অসহায় আত্মসমর্পণ? ভারতীয় পত্রিকাটির 'ময়নাতদন্তে' বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের পাওয়ার হিটিংয়ের অক্ষমতার বিষয়টি। আগেও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা পাওয়ার হিটিং করতে পারত না। দলে বলকে পিটিয়ে সীমানা পার ছাড়া করার মতো ব্যাটসম্যান নেই। মনে করা হচ্ছিল, বিপিএল থেকে পাওয়ার হিটার বেরিয়ে আসবে; কিন্তু তা আর হচ্ছে না। বিপিএলে পাওয়ার হিটিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচ জিতিয়ে দেন বিদেশিরা। ফলে সে অর্থে পাওয়ার হিটার তৈরি হচ্ছে না বাংলাদেশে। পাওয়ার হিটিং ছাড়া যে টি-টোয়েন্টি জেতা সম্ভব নয়, এটা সবাই জানে।

পাকিস্তানের মাটিতে যেভাবে ডট বল খেলেছে বাংলাদেশ, তাতে তাদের ব্যাটিংয়কে আর যা-ই হোক টি-টোয়েন্টি বলা যায় না। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের খেলা দেখে মনে হয়েছে তারা টেস্ট খেলছেন। আবার টেস্ট যখন খেলেন তখন টি-টোয়েন্টি ঘরানার ব্যাট করেন। ভারতের মাটিতে হয়ে যাওয়া সবশেষ দুই টেস্টে তো তাই দেখা গেছে। সেখানে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে টিকে থাকার কোনো মানসিকতাই পরিলক্ষিত হয়নি। বাংলাদেশ দলের জন্য ক্রিকেটের সংস্করণ বড় হলেও সমস্য আবার ছোট হলেও সমস্যা। মাঝামাঝি থাকা ওয়ানডে ফরম্যাটেই বাংলাদেশ যা একটু ভালো করে থাকে।

বাংলাদেশ দল পাওয়ার হিটার খুঁজছে হন্যে হয়ে। লাহোরে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো স্পষ্ট করেই বললেন, 'আমাদের এমন ব্যাটসম্যান দরকার যারা বলটাকে মেরে সীমানার বাইরে পাঠাতে পারেন। বাংলাদেশ দলের এই ধরণের ক্রিকেটারের অভাব রয়েছে।' আবার বিপিএলে ভালো খেলে আন্তর্জাতিক স্তরে এসে সেটি আর ধরে রাখতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। যেমন লিটন দাস চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী রয়্যালসের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন। সৌম্য সরকার কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের হয়ে অল-রাউন্ড নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। দুজনেই পাকিস্তানে গিয়ে ডাহা ফেল!

বাংলাদেশ টিম ম্যানেজম্যান্ট ব্যাটিং অর্ডারে রদবদল করে পাওয়ার হিটার খুঁজছে। সেই ভাবনা থেকেই দ্বিতীয় ম্যাচে মেহেদি হাসানকে তিন নম্বরে নামানো হয়েছিল। কিন্তু বিপিএলের ফর্মটা লাহোরে টেনে নিয়ে যেতে পারেননি মেহেদি। টিম ম্যানেজমেন্ট মেহেদিকে নিয়ে যে বাজি ধরেছিল, তা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে। ডমিঙ্গো বলেন, 'সৌম্য আগে ব্যাটিং অর্ডারে অনেকবার ওপরে খেলার সুযোগ পেয়েছে। ও দারুণ এক ব্যাটসম্যান। দলে আমরা এখন ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশন নিয়ে ভাবছি। কাউকে এগিয়ে আবার কাউকে পিছিয়ে দিয়ে দেখছি কে পাওয়ার হিটিং করতে পারে।' এসব দেখতে দেখতেই হয়তো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এসে যাবে। বাকি আছে মাত্র ৮ মাস!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা