kalerkantho

রবিবার । ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে হচ্ছেটা কী?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ১৬:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে হচ্ছেটা কী?

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশের জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার ৪৩তম আসরে অ্যাথলেটদের কোনো অর্জন জাতীয় রেকর্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। সম্প্রতি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণ কি? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতীয় পর্যায়ে একটি অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম যে সুবিধা ও সরঞ্জামের প্রয়োজন তার বেশিরভাগ এবার নেই।

এবারের আসর ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পরিবর্তে আয়োজন করা হয়েছে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে খেলাধুলার সবচেয়ে বড় এ ইভেন্টটি আয়োজিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপের কারণে ঢাকার মাঠটি ব্যস্ত থাকায় সেইসঙ্গে এই মাঠটি জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা আয়োজনের উপযোগী না হওয়ায় এবারের আসর চট্টগ্রামে আয়োজন করা হয়। অথচ ওই মাঠেও অ্যাথলেটিক্সের মতো প্রতিযোগিতা আয়োজনের কোনো সুবিধাই নেই।

এমনকি ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ইভেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘাসের মাঠে, ৬টি লেনের মধ্যে। যেটা কিনা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ৮টি লেনের ৪০০ মিটারের সিনথেটিক ওভাল ট্র্যাকে হওয়ার কথা। এছাড়া ইলেকট্রিক টাইমিং বোর্ডের পরিবর্তে হ্যান্ড টাইমিংয়ে সময় রেকর্ড করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানসম্মত নয়। মূলত এসব কারণেই এবারে অ্যাথলেটদের রেকর্ড, রেকর্ড বইয়ে লিপিবদ্ধ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেশন।

১৪ বছর পর এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের মাঠে এই জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সাবেক অ্যাথলেট নাজমুন নাহার বিউটি বলেন, 'প্র্যাকটিসের জন্য ঘাসের মাঠ খুব ভালো জায়গা, পায়ে জোর আসে, কিন্তু ঘাসের মাঠে কম্পিটিশন হতে পারে না। এটা যারা খেলেন, তারাই বুঝবেন। আর হ্যান্ড টাইমিংয়ে আপনার কখনোই আসল টাইমটা কাউন্ট করা যায়না। সেটা যদি রেকর্ডও রাখা হয়, সেটা ভুল হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।'

পুরো এম এ আজিজ স্টেডিয়াম জনশূন্য বলেও আক্ষেপ করেছেন মিসেস বিউটি। কেননা বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যে সুবিধাগুলো ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগ এখানে নেই। টু স্প্রিন্ট ট্র্যাক, হাই জাম্পের স্পেশাল ল্যান্ডিং ম্যাট, লং ও ট্রিপল জাম্পের বার/ টেইক অফ বোর্ড, স্পেশাল থ্রোয়িং ফিল্ড, পোল ভোল্টের যথাযথ ল্যান্ডিং ফোম। ওয়ার্ম আপ গ্রাউন্ড, সিনথেটিক সারফেসের মতো বেশিরভাগ সরঞ্জাম ও সেবা চট্টগ্রামের মাঠে নেই বলে জানা গেছে।

অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার জন্য এমন জায়গা বেছে নিতে হবে, যেখানে অবকাঠামোগত সব ধরণের সুবিধা থাকবে। এমন দায়সারাভাবে অনুপযুক্ত মাঠে জাতীয় পর্যায়ের খেলা আয়োজনে ক্ষোভ দেখিয়েছেন অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক অ্যাথলেট বলেন, 'আমি যখন মাঠে গেলাম, দেখি যে প্রতিযোগিতা শুরু করতে যে গান ফায়ার লাগে সেটা নেই, রেইসের জন্য যে স্টার্টার ব্লক থাকতে হয়, সেটা পর্যন্ত নেই। ট্র্যাকটা ঘাসের। তাও আবার ৬টা লেন মাত্র। টাইমিং কাউন্ট করা হচ্ছে ম্যানুয়ালি। এভাবে পুতুল খেলার মতো একটা ন্যাশনাল ইভেন্ট হতে পারে না।'

চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ক্রিকেটের জন্য উপযোগী হলেও অ্যাথলেটিক্সের জন্য নয়। তবে জাতীয় অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি আবদুর রাকিব মন্টু জানিয়েছেন, ঢাকার ভেতরে সব মাঠ বিভিন্ন ইভেন্টে আগে থেকেই ব্যস্ত, এছাড়া বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামেও অনেক সুবিধা আর আগের মতো না থাকায় তারা চট্টগ্রামকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নিয়েছেন।দেশের জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন শুধুমাত্র ঢাকা কেন্দ্রীক না রেখে, একে বিকেন্দ্রীকরণ লক্ষ্যেই তারা এবারের আসর চট্টগ্রামে আয়োজনের কথা জানান তিনি।

এবারের আসরে রেকর্ডের হিসাব রাখার পরিবর্তে সঠিক সময়ে খেলার আয়োজনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'এখানে অ্যাথলেটদের রেকর্ড কি হবে, আমরা অভিভাবক, আমরা খুব ভাল মতো জানি। পরীক্ষা ছাড়াও ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করে। এটা তেমনই। এই রেকর্ড করা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নাই। অ্যাথলেটরা খেলা চায়। সঠিক সময়ে খেলাটা মাঠে গড়ানোই বড় ব্যাপার। কারও সাথেই কোন অন্যায় করা হবে না।'

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এবারের আসরের নাম রাখা হয়েছে 'মুজিববর্ষ ২০২০ জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা'। আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের নিয়মানুযায়ী, খেলোয়াড় থেকে শুরু থেকে মাঠে আগত দর্শক সবার সব ধরণের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও, চট্টগ্রামের ওই স্টেডিয়ামে মাঠের নেই পয়ঃনিস্কাশনের কোনো ব্যবস্থা। টয়লেটগুলোতে পানি নেই। সবগুলো নোংরা এবং ব্যবহারের অযোগ্য। একটি জাতীয় আয়োজনে আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক ও বর্তমান অ্যাথলেটরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা