• ই-পেপার

দর্শকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন সালমান খান

ফাইনালে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন কার পক্ষে বাজি ইব্রাহিমোভিচের

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন কার পক্ষে বাজি ইব্রাহিমোভিচের
ফাইনালে স্পেনের পক্ষে বাজি ইব্রাহিমোভিচের। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ফাইনাল আর তা নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী হবে না এমনটা কি হতে পারে? এক শব্দের উত্তর—না। মানুষ দুই দলে বিভক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালেও তাই ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে না।

ভক্ত-সমর্থকরা তো আগে বিভক্ত হয়েছেনই, এবার ফুটবল পণ্ডিত হচ্ছেন। তালিকার ব্যক্তিরা হচ্ছেন ফুটবল জগতের বিখ্যাত নাম। যারা নিজেদের সময়ে মাঠে দাপট দেখিয়েছেন। তাদেরই একজন হচ্ছেন জ্লাতন ইব্রাহিমোভিচ। 

পুরো বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির খেলায় মুগ্ধ হয়ে তার প্রশংসা করলেও শিরোপা জয়ে আর্জেন্টিনাকে পিছিয়ে রাখছেন ইব্রাহিমোভিচ। সুইডিশ কিংবদন্তির মতে, ফাইনালে স্পেন দাপট দেখাবে।

ফক্স স্পোর্টসের অনুষ্ঠানে ইব্রাহিমোভিচ বলেছেন, ‘ফ্রান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেছে স্পেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও তাই করবে। পজেশনাল খেলাটাই খেলবে। কাউন্টার অ্যাটাকিং দল নয় আর্জেন্টিনা। তারা দলীয় খেলাটাই খেলবে। আর আমার বিশ্বাস ফাইনালে স্পেনই আধিপত্য দেখাবে।’

ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন মাইকেল ওয়েন। আর্জেন্টিনার থেকে স্পেনকেই এগিয়ে রাখছেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার। তিনি বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে আসতে কিছুটা ভাগ্যকেও পাশে পেয়েছে। বিপরীতে স্পেন দুর্দান্ত। ফ্রান্সের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটা সত্যিই দেখার মতো পারফরম্যান্স। তাই আমার মনে হয় আর্জেন্টিনার চেয়ে অনেক এগিয়ে স্পেন। আশা করছি এবার বিশ্বকাপ তারাই জিতবে, আর সেটাই হবে ন্যায্য।’

বিপরীতে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখছেন কাইলর নাভাস। রিয়াল মাদ্রিদ ও কোস্টারিকার সাবেক গোলরক্ষকের মতে, মেসির কারণেই চ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা। তিনি বলেছেন, ‘কোনো একটা দলকে এগিয়ে রাখা বেশ কঠিন। ফাইনালটা সেয়ানে-সেয়ানে লড়াই হবে। দুদলই দুর্দান্ত। তবে আমাকে একটি দল বেছে নিতে হলে আর্জেন্টিনাকে নেব। কারণ তাদের দলে মেসি আছে।’
 

কানাডার দাবানল : ফাইনালের ম্যাচে ধোঁয়ার প্রভাব সামান্য থাকবে

ক্রীড়া ডেস্ক
কানাডার দাবানল : ফাইনালের ম্যাচে ধোঁয়ার প্রভাব সামান্য থাকবে

কানাডার অন্টারিওতে লাগা ভয়াবহ দাবানল থেকে নির্গত ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে (বিশেষ করে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে) ছড়িয়ে পড়েছে। নিউজার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে সামান্য প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ।

শনিবার (১৮ জুলাই) বৃষ্টির ফলে বাতাসের মান উন্নত হওয়ায় ম্যাচের দিন পরিস্থিতি আরো ভালো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর রয়টার্স

এই বৃষ্টির ফলে বাতাসের সব ধোঁয়া ও কুয়াশাচ্ছন্ন ভাব কেটে যাবে। ম্যাচের দিন আগামী রবিবার পরিস্থিতি ‘অস্বাস্থ্যকর’ থেকে উন্নত হয়ে ‘সহনীয়’  পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ম্যাচটি দেখতে ৮০ হাজারের বেশি দর্শক সমাগম হবে শহরটিতে। চলতি সপ্তাহে কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল এলাকা ঢেকে ফেলে। যার ফলে বায়ুর মান নিয়ে সতর্কতা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সতর্ক করলেন বিশ্বকাপজয়ী কোচ
স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দলকে সতর্ক করে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক বলেছেন, তারা যেন আর্জেন্টিনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে না নেয়। তাদের (আর্জেন্টিনা) খেলোয়াড়দের আগ্রাসী মনোভাবও মাথা ব্যথার কারণ হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি।

শনিবার (১৮ জুলাই) স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘এল পাইস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর রয়টার্স

 আর্জেন্টিনার লড়াকু মনোভাব এবং অভিজ্ঞতার ভূয়সী প্রশংসা করে ৭৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি কোচ বলেন, ‘আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলা যেকোনো দলের জন্যই অত্যন্ত কঠিন। তারা মাঠের পরিস্থিতি অনুযায়ী খুব ভালো করে জানে ঠিক কখন কী করতে হবে।’

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‌‘এটি স্পেনের জন্য বড় শিক্ষণীয় উদাহরণ।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি ফাইনালটি স্পেনের অনুকূলেই থাকবে, কিন্তু আর্জেন্টাইনদের ব্যাপারে তাদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ তাদের মোকাবেলা করা বেশ কঠিন এবং তাদের অভিজ্ঞতাও অনেক বেশি।’

শক্তির বিচারে ফাইনালে স্পেন কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞতার কারণে ম্যাচটি অত্যন্ত কঠিন হবে বলে যোগ করেন তিনি।

বর্তমান স্প্যানিশ দল যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আধিপত্য বিস্তার করে খেলছে, তাতে তিনি দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন এবং ট্রফি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

আগামী রবিবার নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।

ফাইনালে ১২ রেকর্ড গড়ার সুযোগ মেসির, ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালে ১২ রেকর্ড গড়ার সুযোগ মেসির, ম্যাজিক দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বজয়ের স্বপ্ন গতবার কাতারেই পূরণ করে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। চার বছর পর আরো একবার বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ১৯ জুলাই, রবিবার নিউ জার্সির মেগাফাইনালে যখন আর্জেন্টিনা ইউরোপসেরা স্পেনের মুখোমুখি হবে।

নিউজ আঠেরোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর সেই ফাইনালে লড়াই হবে মহাতারকা মেসি ও ইয়ামালের। মেসিদের লক্ষ্য পরপর দুবার বিশ্বজয়। তবে শুধু বিশ্বজয় নয়, মেসির সামনে সুযোগ ১২ রেকর্ড গড়ার।

আগামী রবিবার রাতে নিউইয়র্ক নিউ-জার্সি স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ৩৯ বছর বয়সী মেসি এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবেন। ৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে ফাইনালে নামার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠবেন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সের ‘আউটফিল্ড’ খেলোয়াড়। যদিও সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফাইনাল খেলার বিশ্বরেকর্ডটি এখনো ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফের (৪০ বছর ১৩৩ দিন) দখলে, তবে গোলকিপিং গ্লাভস ছাড়া মাঠের মূল পজিশনে খেলা ফুটবলারদের মধ্যে মেসিই হতে যাচ্ছেন প্রবীণতম খেলোয়াড়।

এই মেগা ফাইনালের একাদশে মেসির অন্তর্ভুক্তি তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম এক অভিজাত ও এক্সক্লুসিভ ক্লাবের সদস্য করে তুলবে। ফুটবল ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে (২০১৪, ২০২২ এবং ২০২৬) মাঠে নামার বিরল নজির গড়বেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। এর আগে একমাত্র ব্রাজিলের কিংবদন্তি ডিফেন্ডার কাফু ১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২ সালে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে মাঠে নেমে খেলার এই অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন। রবিবার কাফুর সেই ২৪ বছরের পুরোনো রেকর্ডে ভাগ বসাবেন মেসি।

তবে কাফুকে ছুঁয়ে ফেলার দিনেও মেসি এমন একটি চূড়ায় আরোহণ করবেন, যেখানে ইতিহাসের আর কোনো ফুটবলার পা রাখতে পারেননি। স্পেনের বিরুদ্ধে টসের জন্য মাঠে নামার মুহূর্তে মেসি হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম এবং একমাত্র অধিনায়ক, যিনি তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার গৌরব অর্জন করবেন। এর আগে দিয়েগো মারাডোনা, কার্ল-হেইঞ্জ, দুঙ্গা এবং হুগো লরিসের মতো কিংবদন্তিরা দুটি করে ফাইনালে অধিনায়কত্ব করলেও, অধিনায়ক হিসেবে ৩টি ফাইনাল খেলার রেকর্ড থাকবে শুধু মেসির নামে।

ইতিহাসে ইতালি ও ব্রাজিলের বহু ফুটবলার একাধিকবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে দুবার ট্রফি জেতার ভাগ্য হয়নি কারো। ড্যানিয়েল পাসারেলা, জুসেপ্পে মেয়াজ্জা কিংবা খোদ কাফু—তাঁরা প্রত্যেকেই অধিনায়ক হিসেবে মাত্র একবারই বিশ্বজয়ের ট্রফি স্পর্শ করেছিলেন। রবিবার যদি আর্জেন্টিনা স্পেনের বাধা টপকাতে পারে। তবে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অধিনায়ক হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপ ট্রফি জেতার রাজকীয় কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি। ফুটবল বিধাতা যেন তাঁর বিদায়ি মঞ্চের জন্য এই অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের আসনটি ফাঁকা রেখেছিলেন।

বিশ্বকাপে মেসি ইতিমধ্যেই আটটি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন। রবিবারের ফাইনালে স্পেনের জাল যদি একবারের জন্যও তিনি কাঁপাতে পারেন, তবে সুইডেনের নিলস লিডহোমের (৩৫ বছর ২৬৪ দিন) ৬৮ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে তিনি হবেন ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা। একই সঙ্গে এই একটি গোল মেসিকে নিয়ে যাবে আর্জেন্টিনার নিজস্ব ইতিহাসের চূড়ায়। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে গুইলারমো স্তাবিলের করা ৮ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলা মেসি এই গোলের মাধ্যমে এক আসরে কোনো আর্জেন্টাইনের সর্বাধিক গোলের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।

যদি ফাইনালের বড় মঞ্চে মেসির চেনা জাদু আরো একটু খোলস ছেড়ে বের হয়। তিনি জোড়া গোল করতে পারেন, তবে ভেঙে যাবে আরো বেশ কিছু মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক রেকর্ড। প্রথম অ-ইউরোপীয় এবং ফুটবল ইতিহাসের সামগ্রিকভাবে মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের একটি একক সংস্করণে ১০ বা তার বেশি গোল করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। এর আগে কেবল ফ্রান্সের ফন্টেইন (১৩ গোল), হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোকসিস (১১ গোল) এবং পশ্চিম জার্মানির গার্ড মুলার (১০ গোল) এই ডাবল ডিজিটের গোলের চূড়ায় পৌঁছাতে পেরেছিলেন।

ফাইনালে মেসির পা থেকে আসা যেকোনো গোল তাঁকে আরেকটি এলিট তালিকায় যুক্ত করবে। তিনি হবেন ইতিহাসের মাত্র ষষ্ঠ খেলোয়াড়, যিনি দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার বিরল নজির স্থাপন করবেন। ২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। স্পেনের বিরুদ্ধে আরেকটি গোল পেলে তিনি ব্রাজিলের ভাভা ও পেলে, জার্মানির পল ব্রেইটনার এবং ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান ও কিলিয়ান এমবাপের পাশে নিজের নাম খোদাই করবেন, যাঁরা দুটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করেছিলেন।

আর্জেন্টিনা যদি রবিবারের এই মহারণে জয়ী হয় এবং মেসি যদি অন্তত একটি গোল পান, তবে তিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম বড় এক রেকর্ড নিজের করে নেবেন। টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা ৯-এ নিয়ে গিয়ে তিনি হবেন বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের খেলোয়াড় হিসেবে এক আসরে সর্বাধিক গোল করার একক রেকর্ডের মালিক। ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনাল্ডো আটটি গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন। ২৪ বছর পর রোনাল্ডোর সেই রাজকীয় রেকর্ড ভাঙার সুযোগ মেসির।

ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচগুলোতে দুটি গোল করা মেসির সামনে সুযোগ থাকছে কিলিয়ান এমবাপ্পের সর্বকালীন রেকর্ড ভাঙার। ফাইনালে যদি মেসি দুটি গোল করতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের ফাইনালে মোট ৪টি গোল করা এমবাপ্পের রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আর ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা পূরণ করে মেসি যদি রবিবারের ফাইনালে একটি হ্যাটট্রিক উপহার দিতে পারেন, তবে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫টি গোল করার অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়বেন তিনি। একইসঙ্গে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের হার্স্ট ও ২০২২ সালে এমবাপ্পের পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে হ্যাটট্রিক করবেন মেসি।

মেসির ব্যক্তিগত এই ডজন রেকর্ডের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনা দলগতভাবেও এক বিশাল ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। ১৯৩৪-১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৫৮-১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর ফুটবল ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দেশ হিসেবে ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা সফলভাবে ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। আর দল যদি এই ঐতিহাসিক মিশন সফল করতে পারে, তবে লিওনেল মেসি হবেন বিশ্বমঞ্চে ট্রফি ধরে রাখা ইতিহাসের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের নিলতন স্যান্তোস ৩৭ বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন, যাকে ৩৯ বছর বয়সে ছাড়িয়ে যাবেন মেসি।

সব মিলিয়ে, ১৯ জুলাইয়ের ফাইনাল ম্যাচটি কেবল একটি ট্রফি নির্ধারণের ৯০ মিনিটের খেলা নয়। এটি মূলত লিওনেল মেসির ফুটবল জীবনের এমন এক মহাকাব্যিক শেষ অধ্যায়, যা ফুটবল খেলাটির ইতিহাসকে চিরকালের জন্য বদলে দিতে পারে। ডজন খানেক রেকর্ডের এই হাতছানিকে সামনে রেখে মেসি যখন মাঠে নামবেন, তখন বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের চোখ থাকবে তাঁর পায়ের জাদুতে। এক নক্ষত্রের বিদায়ের লগ্নে ফুটবল বিশ্ব হয়তো প্রত্যক্ষ করতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ও অলৌকিক এক রেকর্ডের মেলা।

দর্শকদের উদ্দেশ্যে যা বললেন সালমান খান | কালের কণ্ঠ