kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট খেলা ক্রিকেটাররা এখন কে কোথায়?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট খেলা ক্রিকেটাররা এখন কে কোথায়?

সৌরভ গাঙ্গুলীর আমন্ত্রণে কলকাতায় দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশর অভিষেক টেস্ট খেলা ক্রিকেটাররা। ছবি : টুইটার

কলকাতার বিখ্যাত ইডেন গার্ডেনে আজ শুক্রবার মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্ট ম্যাচ। এই ঐতিহাসিক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সৌরভ গাঙ্গুলীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। তারই অংশ হিসেবে ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলা বাংলাদেশের ১১জন ক্রিকেটারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সিএবি। তাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছেন কলকাতায়। ১৯ বছর আগে যারা বাংলাদেশের হয়ে খেলেছিলেন, সেই ক্রিকেটাররা বর্তমানে কে কী করছেন জানেন?

শাহরিয়ার হোসেন: ২০০০ সালের ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচে ওপেন করেছিলেন। মাত্র তিনটি টেস্ট খেলেছেন তিনি। ১৯৯৯ ছিল তার ক্রিকেট জীবনের সেরা বছর। ওই বছর কেনিয়ার বিপক্ষে একদিনের ম্যাচে ৯৫ রান করেছিলেন। নারায়ণগঞ্জে জন্মানো এই ক্রিকেটার চোটের কারণে ২০০৪ সালে টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেন।

মেহরাব হোসেন অপি: ১৯৭৮ সালে ঢাকায় জন্ম মেহরাব হোসেনের। তিনিই বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি করা ক্রিকেটার। ১৯৯৯ সালে জিম্বাবোয়ের বিপক্ষে ১০১ রান করেছিলেন তিনি। ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মোট ন’টা টেস্ট এবং ১৮ একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তার মারা বল মাথায় লেগে মারা যান ভারতের ক্রিকেটার রমন লাম্বা। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মেহরাব। ২০০৩ সালে তিনি টেস্ট এবং ওয়ানডে থেকে অবসর নেন।

হাবিবুল বাশার সুমন: বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক সফলতম অধিনায়ক। তার অধিনায়কত্বে অনেকগুলো মাইলফলক পার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় আসে বাশারের নেতৃত্বেই। ২০০৮ সালে টেস্ট থেকে এবং‌ ২০০৭ সালে ওয়ানডে থেকে অবসর নেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আমিনুল ইসলাম বুলবুল: অভিষেক টেস্টেই ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল বাংলাদেশে 'বুলবুল নামে পরিচিত আমিনুল ইসলাম। টেস্ট এবং ওয়ানডে থেকে ২০০২ সালে অবসর নেন তিনি। ৫১ বছর বয়সী আমিনুল বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্য।

আকরাম খান: চট্টগ্রামের বিখ্যাত খান পরিবারের সন্তান আকরাম খান ১৯৮৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মোট ৮টি টেস্ট এবং ৪৪টি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০০৩ সালে তিনি টেস্ট এবং ওয়ানডে থেকে অবসর নেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়কও ছিলেন। বর্তমানে তিনিও বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আল শাহরিয়ার রোকন: ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিলেন আল শাহরিয়ার রোকন।  ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর এখন স্থায়ীভাবে থাকেন নিউজিল্যান্ডের নেপিয়ারে। বাংলাদেশ কখনো নিউজিল্যান্ড সফরে গেলে রোকনকে দেখা যায় গ্যালারিতে।

নাইমুর রহমান: বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান। তিনি ৮টি টেস্ট এবং ২৯টি ওয়ানডে খেলেছেন। ২০০২ সালে তিনি ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ আওয়ামি লীগের হয়ে সক্রিয় রাজনীতি করে আসছেন। বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

খালেদ মাসুদ পাইলট: উইকেট কিপার এবং মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ছিলেন তিনি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সেরা উইকেটকিপার বলা হয় পাইলটকে। ২০০৬ সালে তিনি ওয়ানডে থেকে অবসর নেন এবং তার পরের বছর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। এখনও ক্রিকেটের সঙ্গেই আছেন।

মোহাম্মদ রফিক: বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানলগ্নে বড় তারকা ছিলেন মোহাম্মদ রফিক। বল হাতে ঘূর্ণি তারকা অল-রাউন্ডার রফিক বর্তমানে বাংলাদেশি ক্রিকেট কোচ। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা স্পিনার তিনি। ২০০৮ সালে টেস্ট এবং ২০০৭ সালে ওয়ানডে থেকে তিনি অবসর নেন।

হাসিবুল হোসেন শান্ত: তখন রেডিওতে প্রায়ই ধারাভাষ্যকাররা বলতেন, 'শান্ত হয়ে উঠেছেন অশান্ত'। হ্যাঁ, শেষের দিকে ছক্কা মারায় সিদ্ধহস্ত শান্ত ২০০১ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচটা টেস্ট এবং ২০০৪ সাল পর্যন্ত ৩২টা ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৯৫ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে খেলেন। বাংলাদেশের অন্যতম দ্রুতগতির বোলার ছিলেন তিনি।

বিকাশ রঞ্জন দাশ: ২০০০ সালে হওয়া ভারত-বাংলাদেশ টেস্টের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি এই একটিই মাত্র অন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। চোটের জন্য সে ভাবে আর খেলা হয়ে ওঠেনি তার। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের একটি ব্যাঙ্কের ম্যানেজার পদে কর্মরত। নাম এবং ধর্ম পাল্টে হয়ে গেছেন মাহমুদুল হাসান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা