kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

পান্না সবুজ খেলার ভুবনে এক দুপুর

সামীউর রহমান, ইন্দোর থেকে   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পান্না সবুজ খেলার ভুবনে এক দুপুর

ইন্দোর টেস্টের হতে পারত পঞ্চম দিনে, ভারত-বাংলাদেশের দুটো দল ঠিকই মাঠে নামল। তবে সেটা হোলকার স্টেডিয়ামে নয়, এমারেল্ড হাইটস স্কুলের মাঠে। মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্দোর সেপার্টস রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে, টেস্ট ম্যাচের খবর সংগ্রহে আসা ভারতীয় ও বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ভেতর প্রীতি ম্যাচ। মূল স্টেডিয়ামে কিংবা আউটারে খেলা হবে ভেবে অনেকেই ছিলেন রোমাঞ্চিত। কিন্তু পরে যখন জানা গেল একটা স্কুলের মাঠে হবে খেলা যেটা আবার শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে; তখন অনেকেরই উত্তেজনা মিইয়ে গেছে।

যারা থেকে গেছেন, তারা বঞ্চিত হয়েছেন অসামান্য সৌন্দর্য্য আর খেলাধূলার অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সমৃদ্ধ একটা স্কুল ভ্রমণের দূর্লভ সুযোগ থেকে। ইংল্যান্ডে বা নিউজিল্যান্ডে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে টেস্ট খেলা হওয়ার নজির আছে। তবে কোনো স্কুলের মাঠে রনজি ট্রফির ম্যাচ হওয়ার নজির আছে বলে শুনিনি! এমারেল্ড হাইটস স্কুলে গিলে চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জন হল। নামের মতোই পান্না সবুজ ঘাসে ছাওয়া চমৎকার আউটফিল্ড, ৫০০ লোকের বসার মতো গ্যালারি, ড্রেসিং রুম সব সুযোগ সুবিধাই মজুত। শুধু ক্রিকেটই নয়, আরো অনেক খেলার ব্যবস্থা আছে ভারতের দ্বিতীয় সেরা এই স্কুলে।

বেশ বনভোজনে যাবার মতোই স্কুলবাসে করে জনা চল্লিশেক সাংবাদিক চললাম এমারেল্ড স্কুলের দিকে। ইন্দোর শহরের পুরনো অংশের ভেতর দিয়ে, বেশ কিছু রাজকীয় স্থাপত্য ও কারুকার্যময় মন্দিরকে পেছনে ফেলে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে এই স্কুল, যেখানে আবাসিক এবং অনাবাসিক দুই ধরণের ব্যবস্থা আছে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফুলেল অভ্যর্থনা পাবার পর ভেতরে ঢুকতেই চোখ চড়কগাছ! সামনেই চারটা বাস্কেটবল কোর্ট, যেখানে খেলছে শিক্ষার্থীরা। পাশেই ২৫ মিটারের সুইমিং পুল।

দৃষ্টিসীমা আরেকটু প্রসারিত করতেই চোখে পড়ল চমৎকার ঘাসে ছাওয়া ফুটবল মাঠ। এরপরই দুটো ক্রিকেট মাঠ, সুন্দর আউটফিল্ড আর যত্নে গড়া উইকেটে খেলে বেড়ে উঠছে আগামী প্রজন্ম। স্কুলের বাস্কেটবল দলের কোচ জানালেন, এখানে আছে ৬টা বাস্কেটবল কোর্ট, চারটা বাইরে আর দুটো ইনডোর। কথায় কথায় আরো জানা গেল, রীতিমতো অলিম্পিক আয়োজন করার মতো সুযোগ-সুবিধা আছে এই স্কুলে! দুটো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেট মাঠ, যেখানে ২০০১ সাল থেকে নিয়মিত রনজি ট্রফি ও সুব্রত কাপের ম্যাচ আয়োজন করা হচ্ছে।

শুধু তাই নয়, আছে তিনটা ফুটবল মাঠ। ৬টা ডেকো টার্ফ টেনিস কোর্ট, ২৫টা টেবিল বসানো টেবিল টেনিস হল, ৯টা ব্যাডমিন্টন কোর্ট, ৬টা স্কোয়াশ কোর্ট, ৪টা ভলিবল কোর্ট, শুটিং রেঞ্জ, বিলিয়ার্ড রুম, রানিং ট্র্যাক, সাইক্লিং এর ভেলোড্রম কি নেই! এমনকি পাহাড়ে চড়া শেখার জন্য মাউন্টেনিয়ারিংয়ের একটা বিশাল স্তম্ভও আছে! স্কুলের দালানগুলো দেখলে মনে হবে, হ্যারি পটারের জাদুর স্কুল হগওয়ার্টসে চলে এসেছি! দূর্গের মতো সূঁচাল চূড়া, ধূসর পাথরের সব দালান, কোথাও গাছবাড়ি আর কোথাও বা থিম পার্কের মতো আনন্দ-বিনোদনের ব্যবস্থা। প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এখানে পড়ার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। খেলা ও পড়ার ভুবন থেকে পাঠ পেয়ে হয়ে ওঠে বিশ্ব নাগরিক।

সেই স্কুলের একটি মাঠেই ভারতীয় সাংবাদিক আর বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রীতি ম্যাচ! ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের যা পারফরমেন্স, সাংবাদিকরাও তার চেয়ে খুব একটা ভালো করতে পারেননি! ইয়াসিন রাব্বির দারুণ শুরুর পরও ১১১ রান তাড়ায় বাংলাদেশের সাংবাদিকের দলটা হেরেছে ২৪ রানে। তবে এসব প্রীতি ম্যাচে ফল নিয়ে কেই বা মাথা ঘামায়! টেস্ট কভার করতে এসে পঞ্চম দিনের খেলা দেখার বদলে নিজেদেরই খেলতে নেমে পড়ার সুযোগ মিলেছে, তাও আবার এমন সুন্দর একটা সবুজ রাজ্যে! তাতেই তো খুশির শেষ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা