kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

অভিষেক টেস্ট খেলা বিকাশ রঞ্জন এখন ব্যাংক ম্যানেজার মাহমুদুল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিষেক টেস্ট খেলা বিকাশ রঞ্জন এখন ব্যাংক ম্যানেজার মাহমুদুল

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির টেস্ট উপলক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলা সবাইকে ইডেন গার্ডেনে নিমন্ত্রণ করেছেন বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলী। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় টেস্ট অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের। এই ম্যাচটাই একজন ক্রিকেটারের জীবনের প্রথম এবং শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বিকাশরঞ্জন দাস। ধর্ম এবং নাম পরিবর্তন করে যিনি এখন পরিচিত হয়েছেন ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান নামে। আর রেকর্ড বই বলছে, 'সদাগোপান রমেশ বোল্ড রঞ্জন দাস ৫৮।'

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দারুণ সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন বিকাশ রঞ্জন। ১৮ বছর বয়সে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন ভারতের বিপক্ষে। সেটা ছিল বাংলাদেশেরও প্রথম টেস্ট। অনেকেই তখন বলেছিলেন, ঠিক পথে হাঁটলে এই ছেলেকে দিয়ে হবে। কিন্তু যা ভাবা হয়, তা সব সময় বাস্তবে দেখা যায় না। ফুল হয়ে ফোটার আগেই ঝরে যেতে হয় বিকাশকে। 'বিকাশ' নামের অস্তিত্ব এখন আর নেই। সে দিনের বিকাশরঞ্জন দাস ব্যক্তিগত বিশ্বাসে বদলে ফেলেছেন ধর্ম। হয়ে গিয়েছেন মাহমুদুল হাসান। ক্রিকেটারের পরিবর্তে এখন তিনি ব্যাংকের ম্যানেজার। যার প্রতিটি দিন কাটে ব্যস্ততায়। 

বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের দলে বিকাশ রঞ্জন। ফাইল ছবি

বিসিসিআইয়ের আমন্ত্রণে বিকাশ তথা মাহমুদুল ইডেন গার্ডেনে যাচ্ছেন দিবা-রাত্রির টেস্ট দেখতে। ভিসাও পেয়ে গেছেন তিনি। প্রিয় 'দাদা'র কাছ থেকে আমন্ত্রণ পেয়ে নস্ট্যালজিক বিকাশ। ফিরে যান ১৯ বছর আগের সেই ঐতিহাসিক দিনে, 'সেই মধুর স্মৃতি কী করে ভুলব বলুন তো! ২১ তারিখ ভারতের বিমানে উঠছি। ২২ তারিখ ইডেন গার্ডেন্সে দেখা হবে দাদার সঙ্গে। ১৯ বছর আগে সৌরভের বিপক্ষে শেষ বার খেলেছি। তারপর আর দেখা হয়নি উনার সঙ্গে। এবার আবার দেখা হবে। দাদা দারুণ একটা উদ্যোগ নিয়েছে। আমাদের কথা যে ভুলে যাননি, তাতেই প্রমাণিত সৌরভ অনেক বড় মাপের মানুষ।'

বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচেই সদাগোপান রমেশকে বোল্ড করে প্রথম টেস্ট উইকেট পেয়েছিলেন বিকাশ। সেই স্মৃতি রোমান্থন করে তিনি বলেন, 'একটু জোরের উপরেই বলটা রেখেছিলাম। বাড়তি বাউন্সে বল রমেশের ব্যাটে লেগে স্টাম্পে লাগে। একটু পরেই আম্পায়ার স্টিভ বাকনার এগিয়ে এসে আমার হাতে বেলটা তুলে দিয়ে বলেন, এটা যত্ন করে রেখে দিও। এটা তোমার প্রথম টেস্ট উইকেটের স্মৃতি। বেলটা হাতে নিয়ে দেখলাম ভেঙে গেছে।' ক্রিকেট ছাড়লেও সেই বেল এখনও বিকাশের শো কেসে সযত্নে সাজানো রয়েছে। বল করার সময় পিঠে ব্যথা অনুভব করতেন। পরামর্শ দেওয়ার কেউ ছিল না। এই চোটই শেষ করে দিয়েছিল তার ক্যারিয়ার।

ওই সময় বিসিবির কাছ থেকে কোনো চিকিৎসা তো দূরের কথা, কোনো দিকনির্দেশনাও পাননি জানিয়ে তিনি বলছিলেন, 'কেউ সেভাবে আমাকে গাইড করার ছিল না। ওই পিঠের চোটই আমার ক্যারিয়ার শেষ করে দিল। অস্ট্রেলিয়ায় কমনওয়েলথ ব্যাংক টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে শচীন টেন্ডুলকার এবং অজিত আগরকরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল। পরে জানতে পারি চোট সারানোর জন্য বোর্ড ওদের অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছে। আমিও আমাদের দেশের বোর্ডের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। দুঃখের কথা, কোনো সহযোগিতাই পাইনি। তখন ঠিকঠাক সাহায্য পেলে আমাকে হয়তো খেলা ছাড়তে হতো না। যে তোমাকে সার্ভিস দেবে, তাকে তো যত্ন করতে হয়।'

-সূত্র : আনন্দবাজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা