kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে বিমানবাহিনীর চাকরি ছাড়েন বাবা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৯:৪৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছেলেকে ক্রিকেটার বানাতে বিমানবাহিনীর চাকরি ছাড়েন বাবা

ছবি : এএফপি

স্বপ্ন ছিল ছেলেকে ক্রিকেটার বানাবেন। ছেলে একদিন জাতীয় দলে খেলবেন। গতকাল বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে দীপক চাহারের হ্যাটট্রিকের পর নিজেকে সফল ভাবছেন বাবা লোকেন্দ্র সিংহ চাহার। ভারতীয় বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী লোকেন্দ্র সিংহের হাত ধরেই পেসার হয়ে ওঠার হাতেখড়ি দীপকের। নিজেই কোচিং করিয়েছেন ছেলেকে। বল পুরনো হয়ে গেলে ফেরত নিয়ে নতুন বল কিনে দিতেন। যাতে সুইং করানোর ক্ষমতা আয়ত্তে আসে, সেটাই লক্ষ্য ছিল বাবার। 

গতকালের ম্যাচ জিইয়ে দীপকও ক্রিকেটাঙ্গনকে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি দুই দিকে সুইং করাতে পারেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ রানে ৬ উইকেট ডানহাতি পেসারকে প্রতিষ্ঠা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। উত্তর প্রদেশের আগরার বাড়িতে বসে বাবা লোকেন্দ্রর গলায় তাই আবেগ, 'এখন মনে হচ্ছে আমরা দুজনেই যে স্বপ্ন দেখেছিলাম তা পূর্ণ হয়েছে। আর এই পারফরম্যান্সের আগে নেটে ও অন্তত এক লক্ষ ডেলিভারি করেছে। ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ও চোট পেয়েছিল। যে সময়ে চোট পায়, সেটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

ছেলের ক্রিকেটে জোর দেওয়ার জন্য একসময় বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন লোকেন্দ্র। তার ভাষায়, 'যখন এয়ারফোর্সের চাকরি ছেড়ে দিই, তখন জানতাম ঠিক কী করতে চলেছি। কখনই এটাকে আত্মত্যাগ বলে মনে করিনি। ১২ বছর বয়সে ছেলেকে খেলতে দেখেই মনে হয়েছিল ওর মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। সহজাত দক্ষতা ছিল ওর। আমি নিজেও ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাবা অনুমতি দেননি। তাই ছেলের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নটাই পূর্ণ করতে চেয়েছিলাম। চাইছিলাম দীপক যেন নিজেও এই স্বপ্ন দেখে।'

প্রথাগত ডিগ্রি ছাড়াই লোকেন্দ্র কোচিং করাতেন ছেলেকে। কীভাবে এই অসাধ্য সাধন করেছেন তিনি, সে প্রসঙ্গে লোকেন্দ্র বলেন, 'আমার কোনো প্রথাগত কোচিং ডিগ্রি নেই। কিন্তু দীপককে গাইড করার জন্য যেটুকু দরকার, তা শিখে নিয়েছিলাম। ম্যালকম মার্শাল আমার সব সময়ের ফেভারিট। ডেল স্টেইনকেও ভালো লাগে। এই দুজনের ভিডিও দেখতাম। আউটসুইংয়ের সময় ওদের কব্জির অবস্থান লক্ষ করতাম। শুনতাম ধারাভাষ্যকারদের বিশ্লেষণ। নিজে শিখে তারপর দীপককে শেখাতাম।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা