kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অবলম্বনে

এসএসসি ফেল করে যেভাবে ক্রিকেটার হলেন নাঈম শেখ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এসএসসি ফেল করে যেভাবে ক্রিকেটার হলেন নাঈম শেখ

২০১৭-১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪৬.৩৩ গড় ও ৮২ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৫৫৬ রান। পরের আসরে সেই নাঈম শেখ ১৬ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি ও ৫ ফিফটিতে ৮০৭ রান করেন ৫৩.৮০ গড় ও ৯৪.৩৮ স্ট্রাইক রেটে। তিনি চাইতেন, রানের খাতায় এগিয়ে থাকার চেয়ে ইনিংসে প্রভাব বিস্তার করে এমন ইনিংস খেলতে। চাইতেন ইমপেক্টফুল ক্রিকেটার হতে। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হওয়ার কারণে নাঈমের বৈশিষ্ট্যই হলো একটু ধীরে শুরু করা। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তার ব্যাটিংয়ের ধরণ আগ্রাসী। যার প্রমাণ গতকালের ম্যাচ।

শুরুটা ২০১৮ অনুর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ দিয়ে। বিশ্বকাপে দলে ঢোকার আগেই তাকে নিয়ে তোলপাড় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওই টুর্নামেন্টের বড় রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি নজর কাড়লেন ভারত-বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এসে। সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে দেখা গেলো তার আগ্রাসী ব্যাটিং। ভারতের আইপিএল খেলা টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যানদের ভিড়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান নাঈম শেখ।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৩ ম্যাচে নাঈম রান তুলেছেন মোট ১৪৩। গড় ৪৭.৬৬, স্ট্রাইক রেট ১৩৩.৬৪। শেষ ম্যাচেও দুই দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তার স্কোরটাই ছিল সর্বোচ্চ, ৮১। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বিশ্বের যে কোনো কন্ডিশনে চ্যালেঞ্জিং। বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ভারতে ক্রিকেটারদের শাণিত করে তোলে।

আইপিএলে আটটি দল খেলে থাকে, যার মধ্যে প্রতি ম্যাচে একাদশে সাতজন ভারতীয় ক্রিকেটার আবশ্যকভাবেই প্রতিটি ম্যাচ খেলে থাকেন। এই হিসেবে ভারতে টি-টোয়েন্টির আন্তর্জাতিক মানের একটি টুর্নামেন্টে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ৫৬জন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার খেলেন। এদের মধ্যে খেলেই সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে নিজেকে মেলে ধরলেন নাঈম। নাগপুরে তিনি ৮১ রানের একটি ইনিংস খেলে সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন রানের তালিকায়।

যদিও প্রথম দুই ম্যাচে ভালো শুরু করলেও, ইনিংস লম্বা করতে পারেননি, কিন্তু সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের তালিকায় আর কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার নেই। শ্রেয়াস আইয়ার ৩ ম্যাচে করেছেন ১০৮ রান। রোহিত শর্মা ৩ ম্যাচে করেছেন ৯৬ রান। শেখর ধাওয়ান সমান ম্যাচ খেলে তুলেছেন ৯১ রান। লোকেশ রাহুল করেছেন ৭৫ রান।

পরীক্ষায় ফেল করে ক্রিকেটে মনযোগ:
২০১৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে নাঈম শেখ যোগ দেন ফরিদপুরের একটি ক্রিকেট কোচিং ক্লাবে। সেখান থেকেই তার ক্রিকেট যাত্রা শুরু। নাঈমের শৈশবের কোচ মোস্তফা বশির বলেন, '২০১২-১৩ সালের ঘটনা, তখন ফরিদপুরে যারা বল জোরে মারতে পারত, তাদের মধ্যে নাঈম ছিল একজন। তখনও কোনো দলে ছিল না সে। পারিবারিক কারণেই খেলতে পারেনি। টেপ টেনিস বল দিয়ে ক্রিকেট খেলত তখন।'

কোচ তার সাথে দেখা হওয়ার পর তাকে অনুশীলন করার পরামর্শ দেন। ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করার পর ম্যান অফ দা সিরিজ হয় নাঈম। এরপর সে ডিভিশনাল দলে সুযোগ পায়। ২০১৬-১৭ সালে জেলা দলে খেলার সুযোগ পান। শুরুতে নাঈমের পরিবার পড়ালেখা করানোর প্রতি বেশি আগ্রহী ছিল, কিন্তু মাধ্যমিকে যখন ব্যর্থ হন নাঈম, এরপর আরো একাগ্রতার সাথে ক্রিকেটে মনোযোগী হন। ফরিদপুর জেলার হয়ে সর্বোচ্চ রান করার পর এক বছর আগে ঢাকা বিভাগের হয়ে খেলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ২০১৬ সালে চ্যালেঞ্জ কাপে অংশ নিয়ে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার পর সরাসরি সুযোগ আসে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে।

২০১৮ সালে নিউজিল্যান্ডে যান বিশ্বকাপ খেলতে। ঘরোয়া লিগে টানা দুই মৌসুম ৫৫৬ ও ৮০৭ রান করার পর হাই-পারফরম্যান্স দলে ও বাংলাদেশ 'এ' দলে সুযোগ পান তিনি। ,আফগানদের বিপক্ষে 'এ' দলের সিরিজে শেষ ওয়ানডেতে খেলেন ১২৬ রানের ইনিংস। নাঈম শেখ ভারত সফরের আগেও ডাক পেয়েছেন জাতীয় দলে। আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম পর্বের পর তাকে দলে নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকরা। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি টি-টোয়েন্টিতে বিসিবি একাদশের হয়ে ১৪ বলে ২৩ রান করেছিলেন নাঈম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা