kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অবলম্বনে

ক্রিকেটে 'পঞ্চপাণ্ডব' অধ্যায় কি শেষের দিকে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ক্রিকেটে 'পঞ্চপাণ্ডব' অধ্যায় কি শেষের দিকে?

১৩ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট, তামিম ইকবালের পারিবারিক কারণে ছুটি, সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞা সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় বেশ কোণঠাসা এক বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম তো বটেই সব মিলিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় দিয়ে পুরো পরিস্থিতিতে একটা পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। যদিও ভারতের দলেও বিরাট কোহলিকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। ইনজুরির কারণে নেই জসপ্রিত বুমরাহ, নেই মহেন্দ্র সিং ধোনিও। এরপর গতকাল রবিবার শেষ ম্যাচ হেরে সিরিজ খুঁইয়েছে বাংলাদেশ। তারপরেও ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি জয়কে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সবাই।

২০০৮ সাল থেকেই মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ- এই পাচঁজন ক্রিকেটারকে একসাথে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। তাদের বাড়তি বয়সের সাথে বাড়ে দায়িত্ব, একটা সময় তারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার মানদন্ডে সেরা পাঁচ ক্রিকেটার বিবেচিত হতে থাকেন। বিশেষ করে ২০১৫ বিশ্বকাপে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দুটো শতক হাঁকানোর পর থেকে এই পাঁচজনকে নিয়ে ভক্তরা ও বিশ্লেষকরা আলাদাভাবে ভাবতে থাকেন। পত্র-পত্রিকায় তাদের 'পঞ্চপান্ডব' নামে অভিহিত করা হয়।

ভারতের মাটিতে যেহেতু বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট সিরিজ এবং এই সিরিজের ক্রিকেটীয় তাৎপর্য আছে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দলের জন্যই, তাই এই সিরিজের আগে সাকিব ও তামিম ইকবালের না থাকা একটা গুমোট পরিবেশ তৈরি করে ক্রিকেট অঙ্গনে। ভারতে তরুণ ক্রিকেটাররা পারফর্মেন্স করায় সেই গুমোট ভাবটা কিছুটা হলেও কেটে গেছে। ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস যিনি মনে করেন, এটা প্রতিটা দলের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। একদল ক্রিকেটার যখন জায়গা ছাড়ে, তখন কাউকে না কাউকে সেটা পূর্ণ করতে হয়, এটাই নিয়ম।

কিন্তু বাংলাদেশের যেসব ক্রিকেটারদের কথা বলা হচ্ছে তারা কেউই এখনো অবসরে যাননি। সেক্ষত্রে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এটা সামাল দেয়া কতটা কঠিন ছিল। নাফিস বলেন, 'একটা সময় এমন আসবেই যখন এই পাঁচজন ক্রিকেটার থাকবে না, নতুনদের স্টেপ আপ করতেই হবে।'

নাফীসের কাছে প্রশ্ন রাখা হয় যে নতুন ক্রিকেটাররা যে মানের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে জাতীয় দলে আসেন সেক্ষেত্রে অনেক ক্রিকেটারই ঠিক নিজের স্বস্তির জায়গা বা মনোবলটা পাননা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেদিক থেকে এই তরুণ ক্রিকেটার যেমন আফিফ, আমিনুল, নাইম এরা কি একটু আলাদা। উত্তরে তিনি দ্বিমত পোষণ করে বলেন, এক্ষেত্রে আসলে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটকে ছোট করা হয় যেটা ঠিক না। যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বছরের পর বছর তারা ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো না কোনো পর্যায়ে ভালো খেলেই এই মানের ক্রিকেটার হয়েছেন।

শাহরিয়ার নাফিস বলেন, 'ঘরোয়া ক্রিকেটকে খানিকটা ছোট করে দেখার একটা মানসিকতা থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের মান ততটাও নিচু নয়, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকেই জাতীয় দলে আসছে এখনও। ক্রিকেটাররা অনেক বেশি নিয়োজিত এখানে, বাংলাদেশর ঘরোয়া ক্রিকেটের মান একদমই হালকা করে দেখার মতো না।'

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আসার পর থেকেই মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে 'ভবিষ্যৎ সাকিব আল হাসান' বলা হতো, এখন সেই খেতাবে ভাগ বসিয়েছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে মনে করা হচ্ছে সেই লেগস্পিনার, যাকে  বহুদিন ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খোঁজ করছে। নাইম শেখও তামিম ইকবালের জায়গা বেশ ধৈর্য্যের সাথে নিয়ে ব্যাট করেছেন প্রথম পরীক্ষায়। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সাথে ব্যাট হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফর্মে থাকা মুশফিকুর রহিম।

'পঞ্চপান্ডবের' অনুপস্থিতির বিষয়ে ভক্তরা কী বলছেন?

ক্রিকেট ভক্ত সোনিয়া আফরিন ঈশিতা বলেন, 'সাকিব তামিম বিষয় না। আমি খেলা দেখতে বসলেই বাংলাদেশ দল হেরে যায়। তাই গতদিনের মত আজকেও খেলা দেখবো না। তাই আশা করা যায়, মাঠে যে বা যারাই থাকুক জিত আমাদের নিশ্চিত।'

ক্রিকেট ভক্ত ফাহিমা আহমেদ বলেন, 'একসময় বাসায় বড়রা বলতেন, বাংলাদেশ ভারত বা পাকিস্তানের সাথে কীভাবে জিতবে, ওদের সব অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ওদের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেশি। কিন্তু এখন সেই ধারা বদলেছে অনেক। আমরা যেমন দল নিয়েই নামি আমরা পারি। কিছুদিন পরই নতুন ক্রিকেটাররা আসেন চমক নিয়ে এই ব্যাপারটা দারুণ। মুশফিক বরাবরই সাপোর্ট দিয়ে আসছেন। যার ফলে হেরে যাওয়ার নয় বরং কত ভালো খেলে জিতবে বাংলাদেশ সেই চিন্তাটা আসে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা