kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সৌরভ গাঙ্গুলীর উল্টোপথে বিসিবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌরভ গাঙ্গুলীর উল্টোপথে বিসিবি

বিসিসিআইয়ের দায়িত্ব নিয়েই মিডিয়ার কাছে প্রথম যে বক্তব্য দিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী, তাতে তিনি বলেছিলেন, সবার আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে নজর দেবেন। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের সম্মানী বৃদ্ধি করবেন আর মান উন্নয়ন করবেন। কারণ বিশ্বের অন্যতম সেরা সাবেক এই অধিনায়ক খুব ভালো করেই জানেন, ক্রিকেটার তৈরির আসল জায়গা হলো ঘরোয়া ক্রিকেট। ঘরোয়া ক্রিকেট সমৃদ্ধ হলে জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে- এটা তো জানা কথা।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও সম্প্রতি বিসিবির বেশ কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ফিটনেস নিয়ে কড়াকড়ি বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে প্রতি দলে লেগ স্পিনার খেলানো বাধ্যতামূলক করা। কারণ জাতীয় দলে লেগ স্পিনারের সংকট। এত বছরেও সাকিব আল হাসানের একজন যোগ্য স্পিন সঙ্গী নেই। এই নিয়ম না মানায় ইতিমধ্যেই চাকরি হারিয়েছেন চলতি এনসিএলের দুটি দলের কোচ। সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে বিপিএলে প্রতি দলে লেগ স্পিনার বাধ্যতামূলক করা! বাস্তবতা হলো, দেশে তো এত পরিমাণ লেগস্পিনারই নেই!

বিসিবির শর্ত মানতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে আশ্রয় নিতে হবে বিদেশি ক্রিকেটারদের। তাতে আবার দেশিয় ক্রিকেটারদের স্বার্থ নষ্ট হবে। খোদ সাকিব আল হাসানই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, বিপিএল ক্রিকেটার তৈরির জায়গা নয়। এটি আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট। এখানে বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলে, ড্রেসিংরুম শেয়ার করে অনেক কিছুই শেখা সম্ভব। তাদের অভিজ্ঞতা জেনে সেটা কাজে লাগানো যায়। টি-টোয়েন্টি যেহেতু সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট; তাই বিশ্বের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ক্রিকেটার তৈরি করা হয় বলে শোনা যায়নি। এমন বাধ্যতমূলক সিদ্ধান্তও বিরল।

ক্রিকেটার তৈরির আসল জায়গা হলো ঘরোয়া লিগগুলো। এসব লিগে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাদ পড়া, নতুন মুখ এবং স্থানীয় ক্রিকেটাররা খেলার সুযোগ পান। কিন্তু এনসিএলের মতো দেশের সর্বোচ্চ লিগে বিশ্বের চতুর্থ ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি ২৫-৩০ হাজার টাকা বেতন দেয় ক্রিকেটারদের!  মানে চার দিন পরিশ্রম করে সামান্য কিছু টাকা পায় ক্রিকেটাররা। এই বেতন বাড়ানোর দিকে কিন্তু বিসিবির মনযোগ নেই। যে কারণে জাতীয় লিগ খেলার কোনো উৎসাহ পান না ক্রিকেটাররা। যদিও এবার জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের এনসিএল খেলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু জবরদস্তি করে আর কত?

অন্যদিকে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট গত কয়েক বছর ধরে উন্নতি করে যাচ্ছে। তাদের পাইপলাইনে প্রচুর ক্রিকেটার। জাতীয় লিগগুলোতে ভালো সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে টিভিতে। এত কিছুর পরেও ঘরোয়া ক্রিকেটের মান আরও বাড়াতে চান গাঙ্গুলী। বাংলাদেশে এতগুলো টিভি চ্যানেল থাকা সত্ত্বেও ঘরোয়া লিগ সম্প্রচার হয় না। সেইসঙ্গে একই ধরনের স্পিন উইকেট তো আছেই। মজার ব্যাপার হলো, হোম এবং অ্যাওয়ে সিরিজগুলোতে বিসিবির কর্মকর্তারা বোর্ডের খরচে ফাইভ স্টার হোটেলে থেকে, বিমানযাত্রা করে বিলাসী সময় কাটান।

রাজধানীর মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম নিয়ে ক্রিকেটারদের ক্ষোভ বহুদিনের। বদ্ধ পরিবেশ, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অনুশীলন করতে হয় এখানে। বিসিবির কর্তাদের মুখে অনেকবারই শোনা গেছে, এটা ভেঙে বিশ্বের সর্বাধুনিক কিছু একটা তৈরি করা হবে। বাস্তবতা হলো, ক্রিকেটারদের বহুদিনের দাবি ইনডোর স্টেডিয়ামে সামান্য এসি লাগানো সম্ভব হয়নি! গতকাল সাকিব আল হাসানও এক সাক্ষাতকারে এ নিয়ে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, গ্রীষ্মকালে ওখানে ১৫ মিনিটের বেশি ব্যাটিং করা যায় না। সুতরাং বোঝাই যায়, গাছের গোড়ায় পানি না ঢেলে আগায় দিচ্ছে বিসিবি!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা