kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যুদ্ধে হারিয়েছেন বাবাকে; আফগান গোলকিপারকে দমাতে পারেনি কোনোকিছুই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:২৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যুদ্ধে হারিয়েছেন বাবাকে; আফগান গোলকিপারকে দমাতে পারেনি কোনোকিছুই

গুগল সার্চ ইঞ্জিনে আফগানিস্তান নামটা ফেললেই বেরিয়ে আসে বোমা হামলা, গোলাগুলি, হতাহতের খবর। মোরগের ডাকে নয়, সকালে মানুষের ঘুম ভাঙে বোমা-গুলির শব্দে। এরকম এক দেশের বারের নীচে দাঁড়িয়ে ফুটবল মাঠে নির্ভরতা দিচ্ছেন আফগানিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের গোলকিপার উভাইস আজিজি। বাবার উদ্দেশে শূন্যে চুম্বন ছুড়ে দিয়ে তবেই নিজের গোললাইনে গিয়ে দাঁড়ান ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই ফুটবলার। বাংলাদেশকে হারানোর পর ১৪ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলবে তার দল।

ছোটবেলায় আফগান গৃহযুদ্ধে বাবাকে হারিয়েছেন আজিজি। তার পর কখনও ইরান, কখনও ডেনমার্কে শরণার্থী হিসেবে দিন কাটিয়েছেন। ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে পিছন ফিরে তাকিয়ে তিনি বলেন, 'আমি তখন খুব ছোট। সেই সময়ে আমার বাবা গৃহযুদ্ধে মারা যান। সেই ঘটনা আমি আর মনে করতে চাই না। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে আমাদের পরিবারকে যেতে হয়েছিল। পাঁচ ভাইবোনকে নিয়ে মা দেশ ছেড়ে আশ্রয়ের খোঁজে চলে যান ইরানে। সেখানে কয়েক দিন থাকার পরে ডেনমার্কে চলে আসি।'

শরণার্থী জীবন নিয়ে তিনি বলেন, 'ডেনমার্কেই আমার বেড়ে ওঠা। সেখানেই পড়াশোনা, ফুটবলের হাতেখড়ি। ডেনমার্কের মানুষ আমাকে আপন করে নিয়েছেন। কিন্তু দেশের কথা ভাবলে অন্যরকমের একটা অনুভূতি কাজ করে। আমার যুদ্ধবিধ্বস্ত, অশান্ত দেশের দিকে তাকালে অদ্ভুত একটা ভাল লাগা কাজ করে।'

তিনি বলেন, 'আমার দেশে নিরাপত্তা কোথায়? সবার মা-বাবাই চান তাদের সন্তানরা যেন ভালো থাকে। এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে সেই পরিস্থিতি নেই। দেশের বেশির ভাগ ফুটবলার ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলছে। দেশের ফুটবল লিগের কাঠামোও শক্তিশালী নয়। ৬-৭ মাস লিগ চললেও নিয়মিত ম্যাচ নেই, নিয়মিত ট্রেনিং নেই। সেই কারণেই দেশের বাইরের ক্লাবে খেলাটাই ভালো। বাইরের ক্লাবে খেলেই দেশের হয়ে নামার প্রস্তুতি নিয়ে থাকি আমরা।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা