kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টেস্ট ক্রিকেটে প্রোটিয়াদের কেন এমন করুণ দশা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টেস্ট ক্রিকেটে প্রোটিয়াদের কেন এমন করুণ দশা?

ছবি : এএফপি

টেস্টে জয় পাওয়াটা এখন দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটারদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন বোধক চিহ্ন হয়ে উঠেছে। দলটি টেস্টে টানা চতুর্থ পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। গত রবিবার ভারতের পুনেতে সফরকারী প্রোটিয়ারা সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিনেই স্বাগতিক ভারতের কাছে হার মেনেছে ইনিংস ও ১৩৭ রানে। ফলে তিন টেস্টের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে গেছে তারা।

বিশাখাপত্তনমে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ভারতীয়দের কাছে ২০৩ রানে হারের পর দ্বিতীয় টেস্টে অপক্ষোকৃত বড় ব্যবধানে পরাজিত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। বিগত ১৮ মাসের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট দল থেকে অবসর নিয়েছেন হাশিম আমলা, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মরনে মর্কেল ও ডেলে স্টেইনের মত তরকারা। যারা সব সময় দলকে ভালো একটি অবস্থানে পৌঁছে দেয়ার জন্য লড়ে যেতেন। সেই সঙ্গে নতুনদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য তারা দল ত্যাগ করলেও অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অসময়েই যেন তারা দল ছেড়েছেন, বিশেষ করে যখন শুরু হয়েছে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ।

গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কাছে দুই টেস্টে ম্যাচের উভয়টিতেই পরাজিত হবার পর এমনিতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। পরে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফর্মেন্সের জন্য কোচ ওটিস গিবসনকে বরখাস্ত করে তারা। কিন্তু ভারত সফরে এসেও সেই ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ হয়ে চরম হতাশা ছাড়া কোন আশাই জাগাতে পারেনি প্রোটিয়া দল। বরং দিন যতই গড়াচ্ছে ততই ব্যর্থতার চাপায় তলিয়ে যেতে বসেছে 'চোকার' অপবাদ পাওয়া দলটি।

রবিবার ভারতের কাছে পরাজয়ের পর সফরকারী দলের অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা অধিকাংশ অভিজ্ঞদের হারিয়েছি। আপনি রাতারাতি তাদের বিকল্প খেলোয়াড় বের করতে পারবেন না। হাতে পাওয়া সবচেয়ে অভিজ্ঞ ওই খেলোয়াড়দের দিয়েই আপনার সেরা টেস্ট দলটি গঠিত হয়েছিল।'

তার মতে, ওই অভিজ্ঞদের মত ৬০ ভাগ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়ও যদি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান দলটি পেত তাহলে আরো অনেক ভালো লড়াই করতে পারত। প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন, 'আমরা নিজেরাই নিজেদের নীচে নামিয়ে এনেছি। সেখানে অনেক প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়া জরুরি। আর খেলোয়াড়দেরও আরো এগিয়ে আসা দরকার। আমরা গর্ব করার মত ক্রিকেট জাতি। কিন্তু এই টেস্টে এর প্রতিফলন ঘটেনি। যে কারণে আমি খুবই মর্মাহত। মনে হয় ছেলেরাও তাই।’

রাঁচিতে অনুষ্ঠিতব্য সিরিজে শেষ টেস্টেও এর তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না। আগামী শনিবার শুরু হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য থাকবে হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। এরপর তারা ইংল্যান্ড সফরের বিষয়ে মনোযোগ দেবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ইংল্যান্ড সফর করবে প্রোটিয়ারা।

ডু প্লেসিস বলেন, 'কিছু ভুল ভ্রান্তি থাকলেও এই দলটিকেই এখন যতটুকু সম্ভব ভালো খেলার চেষ্টা করতে হবে। যদিও এখন খুবই কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে, তারপরও আপনাকে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এখান থেকেই শিক্ষা নিতে হবে ভালো খেলার। অন্যথায় দলবদ্ধভাবে আপনি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা