kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সৌরভের বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হওয়ার পেছনে কোন রাজনীতি?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সৌরভের বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট হওয়ার পেছনে কোন রাজনীতি?

ছবি : এএফপি

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নতুন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন সে দেশের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও ক্রিকেট কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলী। গত রবিবার মধ্যরাতের পর মুম্বাইতে বোর্ডের বৈঠকে টানটান উত্তেজনা ও নাটকীয়তার মধ্যে তার নাম এই পদের জন্য চূড়ান্ত হয়। এরপর গতকাল সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে সৌরভই একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ওই পদের জন্য ফর্ম জমা দিয়েছেন।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে, ক্ষমতাসীন বিজেপির হয়ে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচার করবেন এই প্রতিশ্রুতি দিয়েই কি সৌরভ বোর্ড প্রেসিডেন্টের পদ পেলেন? অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গেও সৌরভের ভালো সম্পর্ক আছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তাই সৌরভ এই ধরনের জল্পনা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তার পরেও এই ইস্যুতে আলোচনা থামছে না।

রবিবার রাতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করার জন্য মুম্বাইতে যে বৈঠক বসেছিল, ঠিক তার চব্বিশ ঘন্টা আগেই দিল্লিতে ভারতের অত্যন্ত প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী। বোর্ডে সৌরভ গাঙ্গুলীর টিমে অন্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে আছেন সচিব জেয় শাহ, যিনি বিজেপি নেতা অমিত শাহর ছেলে। এক পর্যায়ে রাগ করে বোর্ড সভা ত্যাগ করেছিলেন সৌরভ।

এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট অনুরাগ বসু বিজেপির হাইকমান্ডের নির্দেশক্রমে সৌরভকে সভাপতি হিসেবে মেনে নেন। তাকে সমর্থন দিয়েছে উত্তর ভারতের ক্রিকেট সংস্থাগুলো। বস্তুত নতুন বিসিসিআই নেতৃত্বে শাসক দল বিজেপির প্রাধান্য এতটাই স্পষ্ট, যে সৌরভ গাঙ্গুলীকেও কার্যত তার দায় নিতে হচ্ছে।

ভারতের ক্রিকেট সাংবাদিক বিক্রান্ত সিং বলেন, 'এই টিম তৈরিতে সরকারের, বিশেষ করে অমিত শাহ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যে একটা বড় ভূমিকা ছিল সেই সিগনেচার কিন্তু স্পষ্ট। আর এই কারণেই প্রশ্নটা উঠছে যে প্রেসিডেন্ট পদের বিনিময়ে বিজেপির সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলীর কোনো রফা হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, অমিত শাহর ছেলে জেয় শাহ কিন্তু নিজেই বোর্ডের নতুন সচিব হয়েছেন।'

সৌরভ নিজে অবশ্য দাবি করেছেন, রফা তো দূরের কথা; তিনি বোর্ড প্রেসিডেন্টের পদ নিজে থেকে চানওনি, কারও সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথাও বলেননি। এরপরও ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে, বিশেষ করে বাংলা খবরের কাগজগুলোতে লেখা হচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হবেন কিংবা তাদের হয়ে প্রচার করবেন - সৌরভের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতিই চেয়েছিল বিজেপি।

সেটা সত্যি হোক বা মিথ্যে, বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সৌরভকে টুইটারে প্রথম যারা অভিনন্দন জানিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেই টুইট দেখার পর সৌরভ অবশ্য তাকেও পাল্টা ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তিনি নিজে যে মুখ্যমন্ত্রী 'মমতাদিদি'র ঘনিষ্ঠ সেটাও জানাতে ভোলেননি। পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, পরবর্তী বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম চূড়ান্ত হয়ে গেলেও রাজনৈতিক অবস্থান গোপনই রেখেছেন সৌরভ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা