kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়েরা এখন ‘মিলিয়নেয়ার’

চনবুরি থেকে, রাহেনুর ইসলাম   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৯:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়েরা এখন ‘মিলিয়নেয়ার’

আদিবাসী পরিবারে কারো জন্মের পর শঙ্খ বাজানোর রীতি। সোহাগী কিসকুর বেলায় সেটা হয়নি। ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈলের রাঙ্গাটুঙ্গি গ্রামে দিন আনে দিন খায় এক পরিবারে সোহাগীর জন্মের পর মুখ গোমড়াই হয়েছিল বাবার। সেই সোহাগী বয়স ১৬ হওয়ার আগেই ধরেছে পরিবারের হাল। ফুটবল খেলে সে এখন লাখপতি। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের বাকিদের গল্পটাও প্রায় একই। দুই যমজ বোন আনাই মোগিনি ও আনুচিং মোগিনির জন্মের পরও দুশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছিল বাবার। দুই বোনই এখন মিলিয়নেয়ার। নাজমা, আঁখি খাতুন, মনিকা চাকমা, মুন্নি আখতারসহ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে থাইল্যান্ডে আসা বাংলাদেশি দলের অন্যদেরও একই অবস্থা।

গত বছর কমলাপুরে হওয়া এএফসি বাছাই পর্বের প্রথম পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সবার হাতে ১০ লাখ টাকা করে তুলে দিয়েছিলেন গণভবনে ডেকে। মানে এই দলের সবাই মিলিয়নেয়ার। তাতে আছেন দুই বোন আনাই মোগিনি ও আনুচিং মোগিনি, সোহাগী কিসকুসহ আরো অনেকে, যাঁরা পৃথিবীতে এসেছিলেন ‘আপদ’ হয়ে। তাঁদের টাকাতেই সংসারে এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য। অথচ মেয়েরা ফুটবল খেলে কেন, এ নিয়ে শুনতে হয়েছে পড়শি আর আত্মীয়দের কটু কথা। সমালোচনা করা সেই মানুষগুলো এখন তাকায় সম্ভ্রমের চোখে। এটা উপভোগও করেন সোহাগী কিসকু। বলেন, ‘আমরা আদিবাসী পরিবারের মেয়েরা এখনো বনে শিকার করি। যেদিন কোনো পশু শিকার করতে পারি সেদিন ভালো খাবার হয়। নয়তো উপোস। ফুটবল বদলে দিয়েছে আমাদের জীবন। সবাই সম্মান করে এখন।’

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের বাকিদের গল্পটাও প্রায় একই। নাজমা, আঁখি খাতুন, মনিকা চাকমা, মুন্নি আখতারসহ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে থাইল্যান্ডে আসা বাংলাদেশি দলের অন্যদেরও একই অবস্থা।

শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন তা নয়। মেয়েরা গত কয়েক বছরে যত টুর্নামেন্ট জিতেছে, প্রতিবারই নানা অঙ্কের পুরস্কার দিয়েছেন বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংগঠন। বিভিন্ন জেলার স্থানীয় গণ্যমান্যরাও করেছেন পুরস্কৃত। সেই টাকা কী করেছেন থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে আসা মেয়েরা? কোচ গোলাম রব্বানী জানালেন, ‘এই মেয়েরা সবাই আমার সন্তানের মতো। ওদের পরামর্শ দিয়েছি টাকা যেন নষ্ট না করে। ভালো লাগছে কেউ সেটা করেওনি। বেশির ভাগই জমি কিনেছে। কেউ কেউ নিজেদের ভাই বা বাবার জন্য তৈরি করে দিয়েছে দোকান। ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিটও করেছে অনেকে। তাতে পরিবারে স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে সবার। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ফুটবল খেলে এই বদলটা অনেক কিছু।’

জানা গেছে, আনাই মোগিনি ও আনুচিং মোগিনি-দুই বোন মিলে পেয়েছেন ২০ লাখ টাকা। থাকার জন্য সেই টাকায় বাড়ি করেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে সোহাগী কিসকু ও মুন্নি আখতার কিনেছেন জমি। ময়মনসিংহের ডিফেন্ডার নাজমা বাড়ি নির্মাণের পাশাপাশি করেছেন দোকানও। অধিনায়ক মারিয়া মান্ডা করেছেন নতুন বাড়ি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেই বাড়িতে থাকেন গর্ব নিয়ে, ‘ফুটবলের জন্য অনেক কথা শুনতে হয়েছে একটা সময়। এখন সবাই সম্মান করে। থাইল্যান্ডে আছি ফাইভ স্টার হোটেলে। অন্য টুর্নামেন্টেও ফাইভ স্টার হোটেলে দল রাখা হয়। রাজকীয় এসব ব্যাপার স্বপ্নেও ভাবিনি একটা সময়।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা