kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

কে এই সুন্দরী? কী তার পেশা?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কে এই সুন্দরী? কী তার পেশা?

ছবি : ইনস্টাগ্রাম

চোখ ধাঁধানো দেহাবয়ব, কোমর পর্যন্ত বিস্তৃত লম্বা চুল, চোখে এভিয়েটর সানগ্লাস পরা এই সুন্দরীকে দেখলে যেকোনো পুরুষের মনে ঝড় উঠতে বাধ্য। এর চেয়ে বেশি ভাবার আগে জেনে নিন, তিনি কিন্তু কোনো মডেল নন। বরং প্রচণ্ড মারকুটে এক নারী। মেয়েরা তো বটেই, ছেলেরাও তার সঙ্গে পেরে উঠতে পারেন না। ইনি আসলে ভারতের একজন কুস্তিগীর। ডব্লিউডব্লিউইর রিংয়ে দাপানো প্রথম ভারতীয় নারী কবিতা দেবী। সালোয়ার কামিজ পরে রিংয়ে লড়াই করে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। 

১৯৮৬ সালে হরিয়ানার মালভিতে জন্ম কবিতার। তার আসল নাম কবিতা দালাল। কিন্তু কুস্তির রিং তাকে কবিতা দেবী বা হার্ড কেডি (কবিতা দেবীর সংক্ষিপ্ত রূপ কেডি) নামে চেনে। দীর্ঘ প্রেমের পর২০০৯ সালে ভলিবল খেলোয়াড় গৌরব তোমরের সঙ্গে বিয়ে হয় কবিতার। ২০১০ সালে তাদের প্রথম সন্তান অভিজিতের জন্ম। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা গৌরব সশস্ত্র সেনা বলে কর্মরত। ছেলের জন্মের পর পাওয়ার লিফটার কবিতা ভেবেছিলেন তিনি ভারোত্তলন ছেড়ে দেবেন। কিন্তু স্বামীর অনুপ্রেরণাই আবার ফিরে আসেন। 

কবিতারা পাঁচ ভাইবোন। বাবা ছিলেন পুলিশ অফিসার। ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়া গেমস‌ে পাওয়ার লিফ্টিংয়ের ৭৫ কেজি বিভাগে সোনা জিতে বিশ্বের কাছে প্রথম পরিচিতি পান কবিতা। পাওয়ার লিফ্টিংয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন তিনি। ওই বছরই সশস্ত্র সীমা বলের কনস্টেবল পদে চাকরিও পেয়ে যান কবিতা। সেখান থেকে দ্রুত পদোন্নতি হয়ে সাব-ইনস্পেক্টর হন। কিন্তু এই কাজে মন টিকছিল না তার। যোগ দেন গ্রেট খালির কুস্তির আখড়ায়। দিলীপ সিংহ রানা ওরফে দ্য গ্রেট খালির কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে সুযোগ পান ডব্লিউডব্লিউইর লড়াইয়ে। 

২০১৭ সালে ভারতীয় ডব্লিউডব্লিউই কুস্তীগির হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন কবিতা দেবী। সালোয়ার কামিজ পরে তিনি রিংয়ে উঠেছিলেন। তিনিই ছিলেন প্রথম কোনো নারী, যিনি এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরে কুস্তি লড়েন। রিংয়ে সব সময়ই সালোয়ার কামিজ আর কোমরে শক্ত করে ওড়না বেঁধে লড়েন কবিতা। এটাই তার ট্রেডমার্ক। মে ইয়ং ক্লাসিক ইভেন্টে কুস্তিগীর ডাকোতা কাইয়ের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে কমলা রঙের সালোয়ার আর কোমরে জড়ানো ওড়না দেওয়া কবিতা দু’হাতে ডাকোতাকে মাথার উপরে তুলে নিয়েছিলেন। সেই ছবি রাতারাতি ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

পরিবার এবং পেশা দুটোকেই সমান ভালবাসেন কবিতা। পেশার জন্য যাতে কোনোভাবেই পরিবার যাতে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখেন। সুযোগ পেলেই তাই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। তার ইনস্টাগ্রাম জুড়ে রয়েছে স্বামী ও ছেলের সঙ্গে একাধিক স্মৃতি জড়ানো ছবি। কবিতার সাফল্যের পর ডব্লিউডব্লিউই কর্তৃপক্ষ ভারতে বাজার ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কবিতার মতো আরও কুস্তিগীরের খোঁজে সম্প্রতি মুম্বাইতে একটা ট্যালেন্ট হান্ট প্রতিযোগিতাও হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা