kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রতিপক্ষের ত্রাস হতে চেয়েছি : কোহলি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিপক্ষের ত্রাস হতে চেয়েছি : কোহলি

সাধারণ একজন ক্রিকেটার থেকে বর্তমানে ক্রিকেটবিশ্বের ত্রাস হয়ে উঠেছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।  যে কোনো দলই মাঠে নামা আগে তাকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আঁটে। একটা সময় তিনি যখন ব্যাট করতে নামতেন, প্রতিপক্ষ তাঁকে দেখে ভয়ও পেত না, সম্মানও করত না। যা দেখে বিরাট কোহলি ঠিক করে নেন, নিজের খেলাকে বদলাতে হবে। প্রতিপক্ষ শিবিরের ত্রাস হয়ে উঠতে হবে তাকে। এই কঠিন প্রতিজ্ঞার ফলেই আজ তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের ভয়ংকরতম ব্যাটসম্যান।

এক সাক্ষাৎকারে কোহলি ফিরে যান সেই ২০১২ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, 'ওই সময় আমি যখন ব্যাট করতে নামতাম, তখন বিপক্ষকে দেখে মনে হত, ওরা আমাকে ভয় পাচ্ছে না বা সম্মান করছে না। আমি চাইনি, আমাকে দেখে প্রতিপক্ষ শিবির ভাবুক, এই ছেলেটা আমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আমি চাইনি, আর পাঁচটা ক্রিকেটারের এক জন হয়ে থাকতে। আমি চেয়েছিলাম এমন ক্রিকেটার হতে যে ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারবে।'

এই ভয়ংকর হয়ে ওঠার পেছনে মূল প্রভাবকের কাজ করেছে তার ফিটনেস। কোহলি পরিষ্কার করে বলেছেন, 'আমি চেয়েছিলাম, যখন মাঠে নামব, প্রতিপক্ষ ভাববে একে আউট করতে না পারলে ম্যাচটা হাত থেকে বেরিয়ে যাবে। এবারের বিশ্বকাপে প্রতিটা ম্যাচে আমার এনার্জি ছিল ১২০ শতাংশ। আমি ম্যাচে গড়ে ১৫ কিলোমিটার হেঁটেছি বা ছুটেছি। কিন্তু ফিটনেস ভাল থাকায় দ্রুত তরতাজাও হয়ে উঠেছি। মাঠ থেকে ফিরতাম, রিকভারি সেশন চলত। পরের শহরে পৌঁছেই ট্রেনিংয়ের জন্য তৈরি হয়ে যেতাম।'

নিজের ফিটনেস নিয়ে কোহলি আরও বলেন, 'আমার এনার্জি এতটাই ভালো ছিল যে, আমি মাত্র ৩৫ দিনে ১০টা ম্যাচ খেলেছি আর নিয়মিত জিম সেশন করেছি। প্রতিটা ম্যাচেই নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। কখনও মনে হয়নি শরীর আড়ষ্ট হয়ে গেছে। আমি জানতাম, যখন প্রথম আসি, ক্রিকেটীয় দক্ষতার দিক দিয়ে দারুণ কিছু ছিলাম না। তাই সবসময় নিজেকে উন্নত করার চেষ্টায় ডুবে থাকতাম।'

শুধু ফিটনেসই নয়; আজকের পর্যায়ে আসতে কোহলিকে তার মানসিকতা বদলাতে হয়েছিল। সেই রহস্য ফাঁস করে কোহলি বলেন, '২০১২ সালের ওই সফরের পরে বুঝেছিলাম, অস্ট্রেলিয়া আর আমাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য। বুঝেছিলাম, যদি ট্রেনিং, ডায়েট আর খেলায় বদল না আনা যায়, তা হলে কখনওই সেরাদের সঙ্গে টক্কর নিতে পারব না। সেরা হওয়ার ইচ্ছাটাই যদি না থাকে, তা হলে মাঠে নেমে লড়াই করারও কোনো মানে নেই। আমি চেয়েছিলাম, নিজের সেরাটাকে বের করে আনতে। আর সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য যা যা করা দরকার, তা করেছি। ওই সফরের পরেই মূলত খেলাটার প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা