kalerkantho

প্রথমবার স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব দেখবে ইরানি মেয়েরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ২০:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রথমবার স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব দেখবে ইরানি মেয়েরা

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ১৯৮১ সাল থেকেই ফুটবল স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ ছিলেন ইরানের নারীরা। তাদের আটকে ফেলা হয় ঘরের অভ্যন্তরে। সময় বদলের সঙ্গে সঙ্গে আর নারীদের অব্যাহত আন্দোলনের মুখে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে দেশটিতে। কট্টরপন্থী শাসকগোষ্ঠী পিছু হঠছে। যার ফলশ্রুতিতে এই প্রথমবারের মতো তেহরানের স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার ম্যাচ দেখতে যাচ্ছে ইরানের মেয়েরা।

ফুটবল মাঠে মেয়েদের প্রবেশাধিকার দিতে ফিফার উদ্যোগের প্রশংসা করতেই হয়। গত জুনে ইরানি ফুটবল ফেডারেশনকে এক চিঠিতে বলেছিল, মাঠে স্থানীয় মেয়েরা যাতে ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন। তার প্রেক্ষিতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী জামশিদ তাজহিজাদেহ এক ঘোষণায় বলেছেন, 'আগামী ১০ অক্টোবর মেয়েরা তেহরানের আজাদী স্টেডিয়ামে যাবে ইরান এবং কম্বোডিয়ার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচটি দেখতে।'

ইরানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও। মজার ব্যাপার হলো, ইরানে মেয়েদের মাঠে যাওয়া নিষিদ্ধের বিষয়ে আসলে কোনো আইনই নেই! কট্টরপন্থী প্রশাসন ধর্মের আশ্রয় নিয়ে এমন অলিখিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে! গত জুনে সিরিয়ার বিপক্ষে একটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচ দেখতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ৪ নারী। গত কয়েক দশক ধরেই এটা ছিল নিয়মিত ঘটনা। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক নারীই পুরুষ সেজে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখেছেন।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর বলিভিয়ার বিপক্ষে তেহরান স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল ইরান। মাঠে বসে ওই ম্যাচটি দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ১০০ জন নির্বাচিত নারী দর্শক। তাদের টিকিট কাটার অধিকার ছিল না। বসতে হয়েছিল স্টেডিয়ামের ঘেরাও করা একটি অংশে। ইরানের নারী অধিকার কর্মীরা এটাকে 'লোক দেখানো' কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এবার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে এমন লোক দেখানো কাণ্ড যাতে না হয় সেই দাবি উঠেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা