kalerkantho

বিশ্বকাপে একার হাতে ম্যাচ জিতিয়েছেন যারা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ আগস্ট, ২০১৯ ১৯:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বকাপে একার হাতে ম্যাচ জিতিয়েছেন যারা

ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষে শুরু হয়ে গেছে টেস্ট বিশ্বকাপ। চলবে প্রায় দুই বছর ধরে। সাদা পোশাকের এই পাঁচ দিনের খেলায় একক নায়ক হয়তো সে ভাবে পাওয়া যায় না। তবে ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্বকাপে এমন কিছু নায়কের কথা, যারা একার হাতে ম্যাচের রং পাল্টে দিয়েছিলেন। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকিয়ে এবার জেনে নেওয়া যাক সেইসব অসাধারণ তারকাদের ম্যাচ জেতানো ইনিংস সম্পর্কে।

ডেরিক মারে : ১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপে পাকিস্তান বনাম ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ। মজিদ খান, ওয়াসিম রাজারা প্রথমে ব্যাট করে ৬০ ওভারে তোলেন ২৬৬ রান। সেই রান তাড়া করতে নেমে ২০৩ রানে ৯ উইকেট পড়ে যায় ক্যারিবিয়ানদের। সেইখান থেকে অ্যান্ডি রবার্টসকে সঙ্গী করে ৭৬ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলে ২ বল বাকি থাকতে ম্যাচ জেতান উইকেটকিপার ডেরিক মারে। শেষ ব্যাটসম্যানকে সঙ্গী করে স্রেফ একার হাতে হারা ম্যাচ নিজেদের দিকে ঘুড়িয়ে দেন তিনি।

গ্যারি গিলমোর : ১৯৭৫ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বিশ্ব দেখে আরেক নায়ককে। এবার একা হাতে ম্যাচের রং পাল্টান বাঁহাতি অজি অল-রাউন্ডার গ্যারি গিলমোর। প্রথমে বল হাতে ৬ উইকেট নিয়ে ৯৩ রানে শেষ করে দেন ইংল্যান্ডকে। তারপর ব্যাট হাতে ২৮ বলে ২৮ রান করে সেই রানের গণ্ডি পার করেন দলের ৩৯ রানে ছয় উইকেট পরে যাওয়ার পর।

কপিল দেব : ভারতের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের মহানায়ক কপিল দেব। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ভারত অধিনায়কের ১৭৫ রানের ইনিংসকে ভুলতে পারবেন না কেউই। ১৩৮ বলে তার এই ঝোড়ো ইনিংসে ২৬৬ রান তোলে ভারত। মাত্র ১৭ রানে ভারতের ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ায় কপিলের এই ইনিংস ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। বল হাতে বাকি কাজটা মিলে মিশে শেষ করেন মদন লাল, রজার বিনিরা। ভারতের বিশ্বকাপ জেতার আগে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই ম্যাচ।

সুনীল গাভাস্কার : ১৯৮৭ বিশ্বকাপে আরও এক ভারতীয় ক্রিকেটারের উল্লেখ যোগ্য ইনিংস জায়গা করে নেয় এই তালিকায়। তিনি সুনীল গাভাস্কার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে বল করে কিউইদের ২২১ রানে আটকে রাখেন চেতন শর্মারা। তারপরেই দেখা যায় এক অন্য গাভাস্কারকে। মাত্র ৮৮ বলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। যদিও বিশ্বকাপ জেতা হয়নি ভারতের।

ওয়াসিম আকরাম : ১৯৯২ বিশ্বকাপটা পাকিস্তানের জেতাই হতো না যদি না কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম সেই অল-রাউন্ড পারফরমান্স না দেখাতেন। প্রথমে ব্যাট হাতে আকরাম খেলেন ১৮ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস। তারপর ইয়ান বোথাম, অ্যালান ল্যাম্ব ও ক্রিস লুইসকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন সত্যি করেন তিনি।

মরিস ওদুম্বে : বর্তমানে ক্রিকেটবিশ্ব থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসা কেনিয়া ১৯৯৬ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছিল শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের। টস জিতে ওই সময়ের প্রতিভাবান দল কেনিয়াকে ব্যাট করতে পাঠান ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রিচি রিচার্ডসন। মাত্র ১৬৬ রানে অল-আউট হয়ে যায় আফ্রিকান দেশটি। কিন্তু বল হাতে অধিনায়ক মরিস ওদুম্বে ক্যারিবিয়ান দৈত্যদের দাপট শেষ করে দেন মাত্র ৯৩ রানে। ১০ ওভার বল করে তিনটি মেডেন দিয়ে তিনি নেন তিন উইকেট।

শেন ওয়ার্ন : ১৯৯৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়া। যদিও প্রথমে বল করে ইয়ান বিশপরা অজিদের থামিয়ে দেন ২০৭ রানে। ব্যাট হাতে শুরুতে জেতার আশা দেখাছিলেন চন্দ্রপল, লারারাও। কিন্তু তখনই আগমন ঘটল ওয়ার্নের। তার স্পিনের জাদুতে একে একে সম্মোহিত হয়ে ফিরে যান লারা, গিবসন, বিশপরা। ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই হন ম্যাচের সেরা, দলকে নিয়ে যান ফাইনালে।

লান্স ক্লুজনার : ক্রিকেট বিশ্বে বহুল আলোচিত একজন ক্রিকেটার দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যান্স ক্লুজনার। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে এই অল-রাউন্ডার একা হাতে উড়িয়ে দেন শ্রীলঙ্কাকে। প্রথমে ব্যাট হাতে ৪৫ বলে ৫২ করে দলের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটান। তারপর বল হাতে ৫.২ ওভারে ৩ উইকেট নিয়ে প্রায় একাই শেষ করে দেন শ্রীলঙ্কাকে। ম্যাচের সেরার পুরস্কার হাতে ক্লুজনারের হাতে।

আশিস নেহরা : ২০০৩ বিশ্বকাপে শচীন, সৌরভ সমৃদ্ধ দুর্দান্ত ভারতীয় ব্যাটিংয়ের পাশে বল হাতে নজর কাড়েন পেস তারকা আশিস নেহরা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বল হাতে আগুন ঝড়ান তিনি। ১০ ওভারে ৬ উইকেট নিয়ে একার হাতে ১৬৮ রানে শেষ করে দেন ভন, ট্রেসকোথিকদের। সেবারের দুর্দান্ত ইংল্যান্ড টিম হার মানে নেহরার কাছে।

কেভিন ও'ব্রায়ান : ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হার মানতে হয় আয়ারল্যান্ড তারকা কেভিন ও'ব্রায়ানের একক দক্ষতার কাছে। দুর্বল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে ৩৩৭ রান করে নিশ্চিন্ত ছিলেন ইংলিশরা। কিন্তু ব্যাট হাতে এই গল্পের নায়ক হয়ে ওঠেন আইরিশ কেভিন। তার ৬৩ বলে ১১৩ রান ইংরেজ আভিজাত্যে কালো দাগ ফেলে দেয়। ৫ বল বাকি থাকতে ৩২৯ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় আয়ারল্যান্ড।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা